• ই-পেপার

বইমেলা

ভালোবাসায় কবিতার টান

ঈদের দিন মেঘাচ্ছন্ন থাকবে আকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদের দিন মেঘাচ্ছন্ন থাকবে আকাশ

আগামী বৃহস্পতিবার দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে এই দিন পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন মুসলমানরা। তবে ত্যাগের এ সময়ে আবহাওয়া কিছুটা অস্থির হয়ে উঠতে পারে। ঈদের দিন পুরোপুরি খারাপ আবহাওয়া থাকার আশঙ্কা নেই, তবে পুরোপুরি শুষ্কও থাকবে না। ঈদের দিন মেঘাচ্ছন্ন থাকবে দেশের আকাশ। সারা দেশে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঈদের দিন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগ রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগে মাঝারি এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঈদের দিন অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবার সারা দিনই দেশের আকাশ মেঘলা থাকবে। সেই সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি থাকবে। দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। তিনি আরো বলেন, ঢাকায় ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আরো কম।

 

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ইউনূস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত ‘কিচেন কেবিনেট’

আগামী নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনূস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত ‘কিচেন কেবিনেট’

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সাত সদস্যের কিচেন কেবিনেট অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত। প্রতি মঙ্গলবার কিচেন কেবিনেটের বৈঠক হতো। আর তিনি নানা কারণে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও তা গৃহীত হয়নি। আগামী নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) অংশ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তাঁর নিজের মন্ত্রণালয়েই একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল। নিজের পদত্যাগের বিষয়টি পরিষ্কার করতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, এ ক্ষেত্রে তাঁদের (একাধিক উপদেষ্টা) যথেষ্ট অভিজ্ঞতা নেই; তার পরও তাঁদের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হতো। কারণ উচ্চ পর্যায়ে তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। আমি সরে আসার চিন্তা তিনবার করেছি। তবে তাঁরা অনুরোধ করেছেন যে সরকারের জন্য তা খুবই অস্বস্তিকর হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে ডিপ স্টেট সক্রিয় ছিল কি নাএমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ডিপ স্টেট পৃথিবীতে সব ঘটনার সঙ্গেই জড়িত থাকে। ডিপ স্টেট যুক্ত হয়, তবে স্রোতের বিপক্ষে নয়; তারপর তারা সেটিকে ম্যানিপুলেট করে।

সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজের প্রত্যাশার একটা বড় অংশই পূরণ হয়নি বলে জানান। তিনি বলেন, কোনো এক উপলক্ষে কিচেন কেবিনেটের একটা বৈঠকে আমাকে যেতে হয়েছিল, যমুনায়। পরে আমি জেনেছি যে প্রতি মঙ্গলবার তাঁরা বসেন। সিদ্ধান্ত নেন কেউ কেউ, এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেত। আমার কানেও আসত। কিন্তু এর বাইরে আসলে আমার জানা ছিল না যে এ রকম একেবারে একটা গ্রুপ আছে, যারা নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য!

ভোটের (২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি) মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্যচুক্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে জানান তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে সামান্যতমও যুক্ত ছিল না। এটাতে যুক্ত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কোনো কারণ হয়তো ছিল পেছনে, যে জন্য আমরা বাধ্য ছিলাম। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে সই করার বিষয়টা নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ হতো।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য দায়িত্ব নিয়ে দিল্লিকে চিঠি লিখলেও তা যে কাজে আসবে না সেটা জানতেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তৌহিদ হোসেন।

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বেলন, আমি মনে করি, আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে যে একেবারে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এ রকম থাকবে না। আমাদের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না। আমি মনে করি, তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান, দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

মসলার সংকট নেই দামে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
মসলার সংকট নেই দামে অস্বস্তি

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের মসলার বাজারে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। পশুর মাংস রান্নার প্রস্তুতিতে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনিসহ বিভিন্ন মসলার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। বাজারে ঈদের মসলার সংকট নেই, তবে দাম বাড়তি থাকায় কেনাকাটায় অস্বস্তিতে ভুগছে ক্রেতা।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পর্যাপ্ত আমদানি হওয়ায় বাজারে মসলার কোনো সংকট নেই। কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে মসলার দাম না কমায় খুচরা বাজারে এখনো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। ফলে চড়া দামে মসলা কিনতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে মসলার বাজারে চাহিদা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাড়তি চাহিদার কারণে পাইকারি থেকে খুচরা, সব পর্যায়েই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত মসলা মজুদ রয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, কয়েকটি সুপার শপ ও বেশ কয়েকটি স্থানীয় দোকান ঘুরেও মসলার দামের এই চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মেসার্স হাজী স্টোরের বিক্রেতা মো. কামাল গাজী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার ঈদ উপলক্ষে মসলাসহ কোনো পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। আগের বাড়তি দরেই বিক্রি হচ্ছে। মূলত বাজারে সব ধরনের মসলা পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এবার দাম বাড়েনি।

রাজধানীর জোয়ারসাহারা বাজারের বিক্রেতা মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, কোরবানির ঈদকে ঘিরে মসলা বিক্রি অনেক বাড়লেও দাম বাড়েনি।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি এলাচ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকায়। জিরা প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। লবঙ্গ এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। দারচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা, তেজপাতা ১৮০ থেকে ২২০ টাকা।

পেঁয়াজ ও রসুনের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও আদার বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, আদা মানভেদে ২২০ থেকে ২৮০ টাকা এবং রসুন ১১০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। মসলার বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে ১৪ ধরনের মসলা আমদানি হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৭৪ হাজার টন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি হয়েছে প্রায় দুই লাখ টন। তবে বাজারে মসলার দাম না কমার পেছনে আমদানিকারকরা ডলার সংকট, এলসি জটিলতা, শুল্ক বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়াকে দায়ী করছেন। তাঁদের দাবি, আমদানি খরচ বাড়লেও বাজারে দাম এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন, মসলার বাজারে কোনো সংকট নেই। বরং এ সময় যে দাম থাকার কথা, তার চেয়েও কম রয়েছে।

গত বছরের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম কম : গত বছরের তুলনায় কিছু মসলার দাম কমেছে। গত বছর কোরবানির ঈদের আগে জিরার দাম ছিল প্রতি কেজি মানভেদে প্রায় ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা। এবার তা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। কিছু এলাচ ও দারচিনির দামও কমেছে। গত বছর ভালো মানের এলাচের দাম হঠাৎ বেড়ে প্রায় ছয় হাজার টাকায় উঠেছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফেরায় এলাচের বাজার এবার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বাড়তি আমদানিতে পর্যাপ্ত সরবরাহ : হিলি কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত জিরা, ছোট এলাচ, কাজুবাদাম, কিশমিশসহ প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জিরা ও ছোট এলাচ আমদানি হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মেট্রিক টন।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বিপুল পরিমাণ এলাচ, দারচিনি, জিরা, লবঙ্গ, আদা ও রসুন আমদানি করা হয়েছে। বিশেষ করে আদা ও দারচিনির আমদানি বেশি হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি নেই।

হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা নাজ্জাসী পারভেজ বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে আদা, জিরাসহ মসলাজাতীয় পণ্যের পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন শেষে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদের আগে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিমভাবে বাজারে চাপ তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়। তাই বাজারে তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ তাঁদের।

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়ছে

সড়ক-রেলপথে যাত্রীর চাপ, নৌপথে বৃষ্টির বাগড়া

নিশাত বিজয়
সড়ক-রেলপথে যাত্রীর চাপ, নৌপথে বৃষ্টির বাগড়া
ঈদ উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। ঈদযাত্রী নিয়ে বাসগুলো রাজধানী থেকে বের হয়ে গিয়ে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল দোলাইপাড় এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়ছে লাখো মানুষ। সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই বাসটার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ঈদযাত্রায় নতুন করে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতি, টার্মিনালে দীর্ঘ অপেক্ষা, লঞ্চঘাটে যাত্রীদের চাপ এবং ট্রেনের সূচি বিপর্যয়ে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

গতকাল রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও আবদুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাসে উঠতে হয়েছে অনেককে। বৃষ্টির কারণে টার্মিনালের খোলা অংশে অবস্থান করা যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল বেশি।

গাবতলী বাস টার্মিনালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বগুড়াগামী বাসের অপেক্ষায় ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাসের সময় ছিল সকাল ৯টা। দুপুর হয়ে গেলেও বাস আসেনি। বৃষ্টির মধ্যে শিশুদের নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি যাত্রী রাজধানী ছাড়ছে। ফলে কোথাও সামান্য যানজট তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ছে পুরো রুটে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি অংশে যানবাহনের চাপের কারণে চলাচলে ধীরগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে সেতু, টোল প্লাজা ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

বৃষ্টিতে নৌপথে যাত্রী কমেছে : সড়কপথের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের বড় অংশ নৌপথ ব্যবহার করছেন। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘাটে এসে অবস্থান নেয়।

বরিশালগামী যাত্রী আব্দুস সাত্তার বলেন, বৃষ্টি থাকায় আগে চলে এসেছি। পরে ভিড় বাড়লে পরিবার নিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

তবে দুপুরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে যাত্রীর সংখ্যা কমে যায়। ঢাকা নৌযান সংস্থার সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেন, বৃষ্টির পর যাত্রী অনেক কমে গেছে। অনেক লঞ্চই হয়তো ছাড়ত না, কিন্তু আগাম কেবিন বুকিং থাকায় যেতে হচ্ছে। বিরূপ আবহাওয়া থাকলে লঞ্চমালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

ট্রেনে বেড়েছে চাপ : ঈদযাত্রায় তুলনামূলক নিরাপদ পরিবহন হিসেবে ট্রেনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে বিভিন্ন রুটে ট্রেন ১০ থেকে ২০ থেকে ২০ মিনিট দেরি করায় যাত্রীদের ভোগান্তি হয়েছে। স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রী বাড়ায় অতিরিক্ত চাপও দেখা গেছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের ১০ থেকে ২৫ মিনিট পর ছেড়েছে। এর মধ্যে রংপুর এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

ঢাকা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ, বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিজনিত সমস্যা এবং কারিগরি জটিলতার কারণে কিছু ট্রেনের সময়সূচি সামান্য বিঘ্নিত হয়েছে। গতকাল কিছু সমস্যা থাকলেও আজ পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

আবহাওয়ার প্রভাব : আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের অনেক এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়। একই সঙ্গে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ : এরই মধ্যে ঈদযাত্রায় কয়েকটি দুর্ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে। রবিবার টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়। এ ছাড়া নরসিংদীতে ট্রেনের ছাদে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যাত্রী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অতিরিক্ত ভাড়া, পর্যাপ্ত পরিবহনের সংকট ও দুর্বল নজরদারির কারণে অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতি ঈদেই দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস, ট্রাক বা ট্রেনের ছাদে যাতায়াত করছে। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পর চালক বা যানবাহনের ত্রুটি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু কেন মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহনে উঠতে বাধ্য হচ্ছে, সেই প্রশ্ন গুরুত্ব পায় না। গণপরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর নজরদারি ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

নগর ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঈদযাত্রার চাপ নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে প্রতিবছর একই ধরনের ভোগান্তি দেখা যায়। শুধু যানবাহনের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, যাত্রী ব্যবস্থাপনাও উন্নত করতে হবে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ঈদের সময় জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার যানবাহন ব্যবহার করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সে পরামর্শ গ্রহণ করেনি।

ভালোবাসায় কবিতার টান | কালের কণ্ঠ