English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

স্মার্টফোনে নিখুঁত শব্দের খোঁজে

কথা বলার পাশাপাশি বিনোদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এখন মোবাইল ফোন। বিল্টইন মিউজিক প্লেয়ার থাকায় মোবাইল ফোনের সঙ্গে হেডফোন জুড়ে দিলেই শোনা যায় গান। তবে নিখুঁত শব্দে গান শুনতে দরকার সহায়ক সফটওয়্যার ও হেডফোন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

মডেল : জ্যানেট, ছবি: তারেক আজিজ নিশক

হার্ডওয়্যার

কেনার আগে মোবাইল ফোনের প্রসেসর, ধারণক্ষমতা বা র্যামের খুঁটিনাটি তথ্য নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার সময়ই সাউন্ড সিস্টেমের মান পরীক্ষা করা যায়। এ জন্য বাড়তি ঝামেলাও নেই। স্মার্টফোনের কারিগরি বর্ণনায় হাই-রেজল্যুশন সাউন্ড সিস্টেমের তথ্য লেখা থাকলেই বুঝতে হবে বেশ শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে।

সাউন্ডের মান পরিমাপ করা হয় মূলত দুটি সংখ্যা দিয়ে, কত বিট ডাটার গান চালাতে পারে এবং স্যাম্পলিং রেট কত ইত্যাদি। অডিও সিডির সবচেয়ে কম বিট ডাটা রেট হচ্ছে ১৬ বিট আর স্যাম্পলিং রেট ৪৪ দশমিক ১ কিলোহার্জ। এই সংখ্যা দুটি যত বেশি হবে তত ভালো। অনেক মোবাইল ফোনে ২৪ বা ৩২ বিট আর স্যাম্পলিং রেট ৩৮৪ কিলোহার্জ পর্যন্ত পাওয়া যায়। নিখুঁত শব্দের জন্য সিগন্যাল টু নয়েজ রেশিও এবং ফ্রিকোয়েন্সি রেসপন্সও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, সিগন্যাল টু নয়েজের সংখ্যা যত বেশি, হেডফোনে তত বেশি জোরে শোনা যাবে গান। আর ফ্রিকোয়েন্সি রেসপন্স হতে হবে ২০ থেকে ২০ হাজার হার্জ সাউন্ড পর্যন্ত।

মোবাইল ফোনে ড্যাক (DAC) ও অ্যাম্পের (AMP) কথা উল্লেখ করা থাকলে সাউন্ডের মান নিয়ে সন্দেহ নেই। এলজির জি ও ভি সিরিজ, স্যামসাং এস ও নোট সিরিজ, আইফোন, সনির এক্সপেরিয়া এক্স সিরিজের মোবাইল ফোনে আলাদা ড্যাক ও অ্যাম্প থাকায় শব্দের মানও হয় বেশ ভালো। বেশির ভাগ চীনা ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনে এ সুবিধা না থাকায় শব্দের মান ততটা ভালো হয় না।

ভালো মানের শব্দ পেতে হেডফোনের জ্যাকও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই কেনার সময় হেডফোন জ্যাকের সেন্সিটিভিটি আর ইম্পিডেন্সের পরিমাণ জানতে হবে। সেন্সিটিভিটি কম হলে যত বেশি ইম্পিডেন্স থাকুক না কেন, জোরালো শব্দ হবে না। মনে রাখতে হবে ইম্পিডেন্স হওয়া উচিত ১৬ থেকে ৩২ ওম এবং সেন্সিটিভিটি ৯০ বা ৯৫-এর ওপরে থাকতে হবে।

যাঁরা তারহীন হেডফোন ব্যবহার করেন তাঁদের খেয়াল রাখতে হবে মোবাইল ফোনে হালনাগাদ প্রযুক্তির ব্লুটুথ আছে কি না। যত ভালো মানের বা দামি হেডফোনই কেনেন না কেন, ব্লু-টুথ ৪.২ এর নিচে থাকলে ভালো মানের শব্দ শোনা যাবে না। হাল আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হেডফোনে ব্যবহার করা হচ্ছে নয়েজ ক্যান্সেলেশন সুবিধা। ফিচারটি থাকলে গান শোনার সময় আশপাশের শব্দ বিরক্তির কারণ হবে না।

অ্যাপ ও সফটওয়্যার

পাওয়ার অ্যাম্প বা ব্ল্যাকপ্লেয়ার

মোবাইল ফোনে থাকা গান চালানোর জন্য পাওয়ার অ্যাম্প ও ব্ল্যাকপ্লেয়ার বেশ জনপ্রিয়। দুটি অ্যাপের ইন্টারফেইস প্রায় একই ধরনে। সুবিধামতো শব্দ টিউন করার জন্য রয়েছে বড়সড় ইকুয়ালাইজার। তবে পাওয়ার অ্যাম্পের হাই-ফিডেলিটি মোড নেই ব্ল্যাকপ্লেয়ারে। এই মোডটি কাজে লাগিয়ে শব্দের মান ভালোভাবে বাড়ানো যায়।

টিউন ইন রেডিও

দেশ-বিদেশের রেডিও স্টেশনের গান শোনার জন্য টিউন ইন বেশ কার্যকর। চমৎকার এই অ্যাপ কাজে লাগিয়ে এফএম রেডিও ছাড়াই পছন্দমতো রেডিও স্টেশন থেকে গান শোনা যায়। চাইলে কাজের ধরন বা নির্দিষ্ট দেশের রেডিও স্টেশনের অনুষ্ঠানও উপভোগ করা সম্ভব।

ডিজার

জনপ্রিয় মিউজিক স্ট্রিমিং সেবা স্পটিফাই ব্যবহারের সুযোগ নেই বাংলাদেশে। এ জন্য মন খারাপ না করলেও চলবে। পকেটের টাকা খরচ না করেই অনলাইনে পাশ্চাত্য ঘরানার গান শোনার সুযোগ দেবে ডিজার। সরাসরি স্ট্রিম করে শোনার সুযোগ থাকায় মোবাইল ফোনের জায়গাও নষ্ট করে না অনলাইননির্ভর গান শোনার সেবাটি।

গানা মিউজিক

হিন্দি ও বলিউডের হিট গানের পাশাপাশি ইংরেজি গানের জন্য জনপ্রিয় গানা মিউজিক। অনলাইনে গান স্ট্রিম করে শোনার পাশাপাশি চাইলে সেগুলো ডাউনলোড করে সংরক্ষণও করা যাবে। শোনা যাবে বলিউড হিটসের রেডিও স্টেশন রেডিও মির্চিও।

মিউজিক্সম্যাচ

অফলাইনে গান বাজানো, প্লে লিস্ট তৈরির পাশাপাশি ফোল্ডার অনুযায়ী গান বাজানোসবই করা যাবে মিউজিক্সম্যাচ অ্যাপ ব্যবহার করে। অ্যাপটির সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, গানের কথা বা লিরিক্স দেখানো। মোবাইল ফোনে গান চালু করলেই আকারে ছোট উইন্ডো বা স্ক্রিনে গানটির কথা প্রদর্শন করতে থাকে। চাইলে গানের কথাগুলো সামাজিক যোগাযোগের সাইটে বন্ধুদের সঙ্গে বিনিময়ও করা যায়।

হেডফোন

কিউকেজেড ডিএম৯ বা ১০

অল্প টাকায় ভালো মানের হেডফোন পাওয়া কঠিনই। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিউকেজেড ডিএম৯ ও ১০। দুটি হেডফোনেরই শব্দের মান বেশ ভালো। দেখতে খুব সুন্দর না হলেও শক্ত কেবল আর জ্যাক থাকায় সহজে ছিঁড়বে না। ইন ইয়ার স্টাইলের হেডফোনগুলো কিনতে গুনতে হবে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা।

অ্যাংকার সাউন্ডবাডস স্লিম

তারহীন গান শোনার জন্য অ্যাংকার সাউন্ডবাডস জনপ্রিয় হেডফোনগুলোর একটি। কিছুটা দামি এই হেডফোনের শব্দের মান অনেক দামি ব্র্যান্ডের হেডফোনকেও পেছনে ফেলতে পারে। শক্তিশালী ব্যাটারি থাকায় একটানা বেশি সময় ব্যবহার করা যায়। পানিনিরোধী হওয়ায় পানি বা ঘামে কোনো সমস্যা নেই। দাম আড়াই থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা।

কেজেড জিএসটি

নষ্ট হয়ে যাবে এই ভয়ে যাঁরা হেডফোন ব্যবহার ছেড়ে দিচ্ছেন, তাঁদের জন্য বেশ কার্যকর কেজেড জেডএসটি। সহজেই তার পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে হেডফোনটির। ফ্রিকোয়েন্সি রেসপন্স প্রায় সমান হওয়ায় সব ধরনের গানের সঙ্গেই বেশ মানিয়ে যায়। দাম এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা।

ফিও বিটিআর১

পছন্দের হেডফোন তারহীনভাবে ব্যবহার করার জন্য ফিও এনেছে ব্লুটুথ অ্যাম্প। মোবাইল ফোনের সঙ্গে ব্লুটুথ দিয়ে ডিভাইসটি যুক্ত করতে হবে, আর বিটিআর১ এর মধ্যে দিতে হবে হেডফোনের সংযোগ। অন্যান্য ব্লুটুথ রিসিভারের চেয়ে এর শব্দের মান অনেক উন্নত, আর তাই দামও বেশ চড়া। দাম চার হাজার ৩০০ থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা।

ফিও কিউ১ মার্ক ২

মোবাইল ফোনে ভালো মানের অ্যাম্প বা ড্যাক না থাকলেও মন খারাপের কিছু নেই, চাইলে ওটিজির মাধ্যমে মোবাইল ফোনের সঙ্গে যুক্ত করা যায় ফিও কিউ১ মার্ক ২ অ্যাম্প ও ড্যাক। মোবাইল ফোনের সঙ্গে ওটিজি দিয়ে যুক্ত করা হলেও ডিভাইসগুলো চলে নিজস্ব ব্যাটারিতে। দাম পড়বে আট হাজার ৫০০ টাকা।

টেলিকম- এর আরো খবর