English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

‘সারফেস প্রো’র কারখানায়

  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বাজারের আর দশটা ল্যাপটপের তুলনায় সারফেস প্রোর দাম কিছুটা বেশি হলেও কিনতে পিছপা নন ক্রেতারা। মান নিশ্চিত করতে কী কী করা হয় দেখতে সারফেস প্রোর গোপন কারখানায় গিয়েছিলেন অনলাইন সাইট ম্যাশেবলের সাংবাদিক রেমন্ড ওয়েং। রেমন্ডের সেই অভিজ্ঞতাই অনুবাদ করেছেন মিজানুর রহমান

মাইক্রোসফট সারফেস প্রোর ল্যাপটপগুলোর লাইফটাইম তিন থেকে পাঁচ বছর। সক্ষম অবস্থায় এই সময়কাল কাটিয়ে দিতে কত শত বাঁধাই না পেরোতে হয় ডিভাইসগুলোকে। এর মধ্যে আঘাত থেকে রক্ষা, ব্যাটারি লাইফ ঠিকঠাক রাখা, নেটওয়ার্ক সক্ষম রাখা, ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যালোচনা ও প্রাকৃতিক কারণে প্রতিনিয়ত বদলাতে থাকা তাপমাত্রায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়া হয় প্রধান চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করতে প্রতিটি সারফেস প্রো বাজারে ছাড়ার আগে দুটি স্বতন্ত্র ল্যাবে অনেক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। ডিভাইসটির শত শত যন্ত্রাংশকে সমন্বিতভাবে পার করতে হয় ২৫০ মিলিয়ন ঘণ্টার কম্পিউটার সিমুলেটেড টেস্ট!

কয়েকটি টেস্ট

ব্যাটারি লাইফ

কোনো ল্যাপটপে গেইম, কোনোটিতে সিনেমা, কোনোটি আইডলএভাবে শত শত ল্যাপটপ চালু অবস্থায় রাখা হয়েছে ব্যাটারি লাইফ দেখার জন্য। মাইক্রোসফট ১৪ ঘণ্টা ব্যাটারি লাইফের দাবি করে থাকে। এ দাবি যেন ফাঁকা বুলিতে পরিণত না হয় তা বজায় রাখতেই এই টেস্ট।

নেটওয়ার্ক

নেটওয়ার্ক নিরবচ্ছিন্ন সংযুক্ত থাকতে না পারলে ডিভাইসের মান নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। এই মান নিশ্চিত করতে মাইক্রোসফটের প্রতিটি সারফেসকে যেতে হয় নেটওয়ার্ক টেস্টের মধ্য দিয়ে। ফলে সারফেসের রাউটার পুরনো হলেও নেটওয়ার্কের সিগন্যাল ধরতে সমস্যা হয় না।

আঘাত ও পানি

এই পরীক্ষাটি দেখলে চমকে উঠতে হয়! দামি ল্যাপটপগুলোকে নির্দয়ভাবে আছাড় মারাই এই টেস্টের অংশ। এই ল্যাবের ধাতব হাতগুলো অনেক ওপর থেকে ল্যাপটপগুলো ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। কতটা আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা আছে পরীক্ষা করতেই এমনটা করা হয়।

আরেক ল্যাবে সারফেসের ওপর বৃষ্টির মতো পানি বর্ষণ করা হয়।

এই দুটি টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় গ্রাহকের লাখ টাকার ল্যাপটপ অসাবধানতাবশত যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

এসএআর টেস্ট

স্পেসিফিক অ্যাবসর্পশান টেস্টের সংক্ষিপ্ত রূপ এসএআর। ডিভাইসটি কতটা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি মানুষের শরীরে পাঠায় তা দেখা হয় এই টেস্টের মধ্য দিয়ে। হিট ফ্রিকোয়েন্সি যদি এফসিসি লিমিটের বেশি হয়, তাহলে সেই ল্যাপটপটি বাদ পড়ে যায়। মানুষের ব্যবহার উপযোগী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য ল্যাপটপের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির লেভেল হতে হবে এফসিসি লিমিটের নিচে।

আরো কিছু পরীক্ষা

ট্র্যাক প্যাডের লাইফ সাইকেল, টাচস্ক্রিনের লাইফ, স্ক্র্যাচ টেস্টের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ ধরে ধরে স্বতন্ত্র পরীক্ষা করা হয়। ধুলাবালি প্রতিরোধকের টেস্টও আছে। সবশেষে করা হয় ডেলিভারি ট্রাকের ভাইব্রেশন টেস্ট। এই পরীক্ষায় দেখা হয় চলতি পথে ডেলিভারি ট্রাকের ঝাঁকি কতটা সহ্য করতে পারবে ল্যাপটপটি।

এই পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো বিস্তারিত জানার পর সারফেসের একটু বেশি দাম-এর কারণ বুঝতে বাকি থাকে না কিছু। ডিভাইসটি নিজের করে পেতে প্রযুক্তিপাগল মানুষগুলোর হাপিত্যেশকেও বাড়াবাড়ি মনে হয় না এতটুকু!

টেকবিশ্ব- এর আরো খবর