English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

‘এই সেপ্টেম্বরেই অ্যাকসেলারেটরে বসা যাবে’

  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ছবি : তারেক আজিজ নিশক

২৮ বছর সিলিকন ভ্যালিতে কাটিয়েছেন টিনা জাবীন । ছিলেন সেখানকার বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হর্সলি ব্রিজ পার্টনার্সের অর্থ পরিচালক। ফেইসবুক, গুগল, টু্ইটার, উবার, লিফট, এয়ারবিএনবির মতো বিশ্বখ্যাত সব প্রতিষ্ঠানে হর্সলি ব্রিজ পার্টনার্সের বিনিয়োগের মূল্যায়নেও অংশ নিয়েছেন তিনি। এখন স্টার্টআপ বাংলাদেশের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং নির্বাচক কমিটির সদস্য।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ অ্যাকসেলারেটর কি সব উদ্যোক্তার জন্য উন্মুক্ত?

দেশের যেকোনো উদ্যোক্তার জন্য অ্যাকসেলারেটরের সুবিধা উন্মুক্ত। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠনের উদ্যোগে হওয়া বা চলা স্টার্টআপ বিষয়ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যাচের তালিকাভুক্তরা অগ্রাধিকার পাবে। তবে এই স্টার্টআপগুলোকে অবশ্যই তথ্য-প্রযুক্তি খাতের হতে হবে।

কোন পর্যায়ের উদ্যোগগুলো এতে সুযোগ পাবে?

একটি উদ্যোগ আইডিয়া হতে সিড স্টেইজে আসার পর অ্যাকসেলারেটর জায়গা পেতে পারে। এরপর অ্যাকসেলারেটরের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার মধ্য থেকে সেটি গ্রোথ স্টেইজে উঠে আসার সুযোগ পাবে। অবশ্য কোনো উদ্যোগ সরাসরি গ্রোথ স্টেইজেও আসতে পারে।

অ্যাকসেলারেটরে উদ্যোগগুলো কী কী সুবিধা পাবে?

স্টার্টআপ বাংলাদেশ অ্যাকসেলারেটরে কো-ওয়ার্কিং স্পেসে উদ্যোগগুলো জায়গা পাবে। একটি উদ্যোগ একটি ডেস্ক পেলেও বিশ্বের সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা অ্যাকসেলারেটরের একটি ছাদের নিচে পাবে তারা। একটি উদ্যোগের বড় হতে টেকনিক্যাল সুযোগ-সুবিধাসহ যা প্রয়োজন সব এখানে আছে। দক্ষতা উন্নয়নে কৌশলগত সহায়তাও দেওয়া হবে। এখানে আমরা তাদের জন্য বাজার খুঁজব, সিলিকন ভ্যালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারের বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে দেব।

আমরা উদ্যোক্তাদের সিলিকন ভ্যালির আবহ ও সুযোগটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। যেমনএয়ারবিএনবিকে যে মানের পরামর্শক দেখভাল করছেন, আমরা ওই মানের পরামর্শক দেশে আনছি।

অ্যাকসেলারেটর চালুর আগেই আমরা সানফ্রান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাহমুদ হুসাইনকে নিয়ে এসেছি। তিনি আমাদের উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিয়ে গেছেন। আরো এসেছেন সিলিকন ভ্যালির সফল উদ্যোক্তা ইউসুফ হক। পরামর্শ দিয়ে সঙ্গে আছেন মাইক্রোসফট অ্যালামনাই আজহারও। এটা চলতেই থাকবে। এখন অ্যাকসেলারেটর চালু হলে আমাদের কাজগুলোর দারুণ একটি কাঠামো আসবে।

কতগুলো উদ্যোগ এই অ্যাকসেলারেটরে সুযোগ পাবে?

এখানে ২৫টি ডেস্ক রয়েছে। শেয়ারিংয়ের ভিত্তিতে ৬০ থেকে ৭০টি উদ্যোগকে স্পেস সুবিধা দেওয়া যাবে। এ ছাড়া বাইরের কোনো উদ্যোগ যারা ডেস্ক পেল না তারা কিন্তু অ্যাকসেলারেটরের কনফারেন্স রুম, প্রেজেন্টেশন বা শোকেস রুম, মিটিং জোনের সুবিধা নিতে পারবে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বিশেষজ্ঞদের মেন্টরশিপও পেতে পারেন। এরই মধ্যে স্টার্টআপদের এসব অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হচ্ছে। অ্যাকসেলারেটর চালু হয়ে গেলে তখন ফোন বা মেইলে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে স্পেস বরাদ্দের জন্য আবেদন করা যাবে। প্রাথমিকভাবে একটি উদ্যোগকে ছয় মাসের জন্য এই সুযোগ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এটি এক বছরও করা হতে পারে।

দেশের এই অ্যাকসেলারেটরকে সিলিকন ভ্যালির বিশ্বখ্যাত স্টার্টআপ উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, কেন?

সিলিকন ভ্যালিতে এমন অনেক উদ্যোগ রয়েছে। ইউএসম্যাক, রয়েছে রকেটস্পেস, যেখানে উবার তৈরি হয়েছে, উইওয়ার্কের মডেল রয়েছে আমাদের স্টার্টআপ বাংলাদেশ। বলতে পারি এদের অনেকের থেকে আমাদেরটা আরো স্মার্ট।

উদ্যোক্তারা অ্যাকসেলারেটরে কবে থেকে বসতে পারবে?

অ্যাকসেলারেটরে স্টার্টআপরা বসতে পারবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেই।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ নিয়ে সরকারের ভিশন ও তার কোনো সময়সীমা বিষয়ে যদি বলেন?

সাধারণ হিসেবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল মডেলে ১০টি আইডিয়ায় বিনিয়োগ করলে একটি সফল হয়। আর এই সফল একটিই অনেক গুণ বেশি ফেরত দেয়। এখন ওই যে ৯টি আইডিয়া সফল হবে না বা হারিয়ে যাবে, ব্যাংক তো এই সমীকরণ জানেই! তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা বিনিয়োগ করে না। অন্যদিকে সরকার জেনেই করছে যে ২০০টিতে দুই বছর বিনিয়োগ করলে সেখান থেকে পাঁচ বা ১০টি উঠে আসবে। যদি একটিও বিশ্বমানের হয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে, সেটাই সরকারের সফলতা।

অন্যদিকে এমন উদাহরণ তৈরি হলে ব্যাংকসহ স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও তথ্য-প্রযুক্তিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এ ছাড়া আমাদের উদ্যোগগুলো দেশেই সিলিকন ভ্যালির আবহে বড় হবে, জন্মাবে। ভিশনটা এমনই।

টেকবিশ্ব- এর আরো খবর