English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসমতা

আব্দুল বায়েস

  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

কার্ল মার্ক্স একজন গরিব মানুষের কথা লিখেছেন যে একদা একটি ছোট্ট কুটিরে বাস করত এবং বলা যেতে পারে লোকটি বেশ সুখীই ছিল। কিন্তু যেই না একজন প্রতিবেশী সেই কুটিরের পাশে একটা প্রাসাদ তৈরি করল, তার সুখের নদীতে যেন ভাটা পড়ে গেল। কারণ কুটিরটি তখন বঞ্চনা অনুভব শুরু করে দিল। আমাদের জীবনমানের স্তর যখন উঁচু আয়সমৃদ্ধ একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে তুলনা করি, তার ফলে জন্ম নেয় আপেক্ষিক বঞ্চনা। যেমনবস্তিতে বাস করে এমন একজন গরিব মানুষের আয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও (এবং সেহেতু দারিদ্র্য হ্রাস) পাশের সুরম্য দালানের ছাদে স্থাপিত ডিশ অ্যান্টেনা তার আপেক্ষিক বঞ্চনা বৃদ্ধি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গরিব না হয়েও সে আপেক্ষিক অর্থে গরিব।

মজার ব্যাপার, বিভিন্ন সংস্কৃতি থেকে আসা মানুষের মধ্যে একটা বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে, আর তা হলো সমতা বিধান করা। ইসলাম ধর্ম থেকে বৌদ্ধ ধর্ম এবং ধর্মনিরপেক্ষ দার্শনিক ঐতিহ্য (প্লেটো থেকে অমর্ত্য সেন) সমতার জন্য যুক্তি দেখিয়েছেন এবং একই সঙ্গে অনপেক্ষ বঞ্চনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। অর্থ্যাৎ বিভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম ও দার্শনিক স্তরে সমতার প্রতি দুর্বলতা প্রমাণ করে যে মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার সম্পর্কিত একটা মৌলিক চাহিদা রয়েছে। দার্শনিক স্তরে সমতা (Equality) কিংবা এর বিপরীতে অবিচার অসমতার (Inequality) সীমাহীন ব্যাখ্যা থাকতে পারে। সবশেষে অসমতার অর্থ দাঁড়ায় এমন পরিস্থিতি যেখানে কিছু মৌলিক সুযোগ একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠী পেয়ে থাকে, অথচ একই স্তরের অন্য একজন বা একটি গোষ্ঠী সেই সুযোগ পায় না। যেমনবন্ধকি নেই বলে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে ব্যাংকঋণ দেয় না, অথচ অন্য একজনকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। বৈষম্যের ধারণাটি আবার একটি গাছের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যে গাছের বহু ডালপালা থাকে। অর্থনৈতিক বৈষম্য নানা উৎস থেকে এবং নানা কারণে ঘটতে পারে, যা বোঝার জন্য আমরা কিছু উপমার সাহায্য নিতে পারি। যেমনঈশিতা ও এলিজার একই পরিমাণ অর্থ আছে, কিন্তু ঈশিতা কোনো কারণে হয়তো খুব বেশি পরিশ্রম করতে আগ্রহী নয় বা করতে পারে না, হতে পারে আরাম-আয়েশের প্রতি দুর্বলতা, জাগতিক বস্তুগত উন্নতির প্রতি অনীহা কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য। কিন্তু এলিজা উন্নতির মই বেয়ে ওপরে উঠতে আগ্রহী এবং সে জন্য সে পরিশ্রম করে চলছে। সুতরাং শুরুতে বৈষম্যহীন অবস্থা থেকে এলিজার মতো জীবনমান ধারণ করা ঈশিতার জন্য কষ্টকর হবে এবং সৃষ্ট এই বৈষম্যের জন্য তার আফসোস থাকার কথা নয়। আবার শামা যদিও শারমিনের চেয়ে ধনী, কিন্তু শামা এমন এক সমাজে বাস করে, যেখানে ভোট দেওয়ার অধিকার কিংবা মুক্তভাবে ভ্রমণ করার স্বাধীনতা নেই, অথচ কম আয় নিয়ে শারমিন মুক্তবিহঙ্গের মতো বিচরণ করতে পারে। ৪০ বছর বয়সে পৌঁছার আগ পর্যন্ত শাহরুখ খান সালমান খানের চেয়ে বেশি আয় করতেন। তারপর নানা উপায়ে সালমান খান এগিয়ে যান। দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি শিশুর কথা ধরা যাক। তাদের জন্ম একই সালে এবং একই দিনে। একজনের বর্ণ কালো, দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ঠিকানা শহর থেকে বহু দূরে। তার মায়ের কোনো শিক্ষা নেই। আর অন্যজন বর্ণে শ্বেতাঙ্গ; কেপটাউনে সম্পদশালী পরিবারে জন্ম; মা কলেজ পাস করে চাকরি করেন। লক্ষণীয় যে জন্মের দিন পরিবারের ভিন্ন বৈশিষ্ট্য তাদের ওপর প্রভাব ফেলার কথা নয়, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এসব পূর্ব নির্ধারিত উপাদান। যেমনশহর বা গ্রাম, মায়ের শিক্ষা, সাদা বা কালো, তাদের পরবর্তী জীবনকালে প্রভাব ফেলতে পারে। যে শিশুটি কালো, জীবনের প্রথম বছর তার মৃত্যু ঘটার সম্ভাবনা ৭.২ শতাংশ, যা সাদা শিশুটির ৩ শতাংশের চেয়ে দ্বিগুণ। তা ছাড়া সাদা শিশুটি ৬৮ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে, কালো শিশুটি ৫০ বছর। প্রথমোক্ত শিশুটি এক বছর স্কুলে কাটাতে পারে, দ্বিতীয়টি ১২ বছর। সুতরাং সারা জীবন কালো মেয়েটি গরিব থাকবেতার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পানি, পায়খানা বা ভালো স্কুলের সম্ভাবনা খুব কম। সুতরাং যদিও নিজের দোষে নয়, জীবনে এ দুটি শিশুর মানবিক সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলার সুযোগের জানালার মধ্যে ব্যাপক তফাত ঘটবে। এমনকি যদি ধরে নেওয়া যায় যে ২৫ বছর বয়সে সব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কালো মেয়েটি একটা সুন্দর উদ্ভাবন বের করতে পারল, তাকে কিন্তু কোনো ব্যাংক সহজশর্তে ঋণ দিতে খুব একটা এগিয়ে আসবে না। সবশেষে চরম দারিদ্র্য নিজেই বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে। মনে করা যাক যে ভারসাম্য পুষ্টির জন্য প্রতিদিন একজন মানুষের গড়পড়তা ২১০০ ক্যালরি শক্তি দরকার।

যদি চার সদস্যের একটি খানা দৈনিক মোট ৭০০০ ক্যালরির ব্যবস্থা করতে পারে, সে ক্ষেত্রে সদস্যদের মধ্যে খাদ্যের সমবণ্টন সবাইকেই ভয়ানক জীবন-ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। এটা ঠিক যে অসম বণ্টন হলে ২১০০ ক্যালরির নিচে থাকা সদস্যরাও ভয়ংকর বিপদে পড়বে, কিন্তু এই অসম বণ্টনের ফলে খানাটি কোনোমতে বেঁচে যেতে পারে। এটা প্রমাণ করে, স্থায়ী খরচের (শরীরের রক্ষণাবেক্ষণ) উপস্থিতিতে দারিদ্র্য কী করে বৈষম্যের উৎস হতে পারে। একটা সমাজে আবার ভালো বৈষম্য এবং মন্দ বৈষম্যের মধ্যে পার্থক্য জানা জরুরি। যে বৈষম্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহ জোগায় এবং যার উৎস মেধা, মনন, সৃজনশীলতা বা উৎকর্ষ সে বৈষম্য ভালো বৈষম্য। অন্যদিকে যে বৈষম্য প্রকৃতিগত নয়, কিন্তু মানুষের তৈরি, যেমনবিশেষ সুযোগ দেওয়া এবং সমাজে বিকৃত ভোগ ও উৎপাদন কাঠামো সৃষ্টি করে সেটাই মন্দ বৈষম্য। এসব উদাহরণ থেকে যে জিনিস স্পষ্ট তা হচ্ছে সমতা বা অসমতার ধারণা পিচ্ছিল ও আপেক্ষিক, যার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সম্পর্ক যুক্ত রয়েছে জীবনকাল, ব্যক্তিগত সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা। তার অর্থ এই নয় যে অর্থবোধক তুলনা করতে পারছি না বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে। আয় ও বিতরণের ক্ষেত্রে অসমতার বিষয়টি একদিকে যেমন সঠিকভাবে পৃথক্করণের তাগিদ দেয়, অন্যদিকে তেমনি সেই সঙ্গে ওই পার্থক্যগুলোর কিছু অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের কথাও বলে।

আবার অবস্থাভেদে তিন ধরনের বণ্টন বিবেচনা করা যায়। যেমনবর্তমান ব্যয় বা আয় প্রবাহ, সম্পদের বিন্যাস অথবা এমনকি জীবনকালের আয় বিন্যাস। বর্তমান আয় কোনো এক বিশেষ সময়ের অসমতাকে ইঙ্গিত করে এবং যদি সে অসমতা ক্ষণস্থায়ী হয়, তবে তা নৈতিকতার মাপকাঠিতে বা অর্থনৈতিক প্রভাবের দৃষ্টিকোণ থেকে তেমন ক্ষতিকর নাও হতে পারে। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য একটি উদাহরণ টানা যেতে পারে। ধরা যাক, আমাদের সামনে দুটি সমাজ আছে। প্রথম সমাজটিতে দুটি আয়স্তর, যেমনপ্রতি মাসে ১০ হাজার ও ১২ হাজার টাকা। দ্বিতীয় সমাজও দুটি আয়স্তর, কিন্তু এদের মধ্যকার ব্যবধান বেশ বড় : প্রতি মাসে ১০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা। ধরে নিই যে প্রথম সমাজ সম্পূর্ণভাবে নিশ্চল, অর্থাৎ জনগণ যেকোনো একটি স্তরে থাকছে তো চির জীবনই সেখানে পড়ে থাকছে। দ্বিতীয় সমাজটিতে প্রতি মাসে একই মানুষ চাকরি রদবদল করতে পারে, যেমন পারে নিম্ন আয় থেকে উঁচু আয়ে যাওয়ার। দেখা যাচ্ছে যে প্রথম সমাজটি অপেক্ষাকৃত বেশি সমতাসম্পন্ন বলে মনে হয়, যদি কোনো একটি বিশেষ সময়ের আয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়। কিন্তু বার্ষিক গড়পড়তা আয় বিবেচনায় নিলে দ্বিতীয় সমাজটিতে সবার ক্ষেত্রে আয় সমান থাকতে পারে।

বৈষম্য জাল এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

পাঠকের নিশ্চয়ই দারিদ্র্য-ফাঁদের কথা মনে আছে, তেমনি এক ফাঁদ বৈষম্য-ফাঁদ, যা প্রজন্মে হস্তান্তরিত হতে পারে কিংবা মাকড়সার জালের মতো বৈষম্য ধরে রাখে। পুরুষশাসিত সমাজে একজন মহিলার অবস্থানের কথা ধরা যাক। মহিলারা সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদের চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত। কারণ সামাজিক নিয়ম ভেতর ও বাহির হিসেবে মহিলাদের কাজ শনাক্ত করে দিয়েছে। এগুলোর সামাজিক প্রতিক্রিয়া খুব ভয়ংকর : মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়, বাড়ির বাইরে কাজ করা মহিলাদের জন্য দুষ্কর হয় এবং পুরুষের চেয়ে মহিলারা কম আয় করে। এর ফলে মহিলাদের নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক পরিণতির দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে মহিলারা ঘরে-বাইরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করতে পারে না। এই অসম সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো অতি সহজে পুনরুৎপাদিত হতে থাকে। যদি মহিলার মনে বিশ্বাস জন্মায় যে চুপচাপ থাকা এবং সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলা হচ্ছে ভালো এবং সুন্দর মেয়ে মানুষের লক্ষণ, তা হলে বিশ্বাসটি সে তার মেয়ে অথবা ছেলের বউয়ের কাছে সংক্রমিত করবে। তেমনি ধনী-দরিদ্রের ক্ষমতা বৈষম্য গরিবের ওপর ধনীর আধিপত্যকে স্বীকৃতি দেয়। উদাহরণ হিসেবে একজন কৃষি শ্রমিকের কথা বলা যায় যে একজন শক্তিশালী ভূস্বামীর জন্য কাজ করছে। অজ্ঞতা ও অপুষ্টির কারণে সে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারছে না। আবার সে তার প্রভুর কাছ থেকে নেওয়া ঋণের জালে বন্দি আছে। যদি দেশের আইন তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য অপেক্ষা করেও, সে কিন্তু অজ্ঞতা ও অভাবের কারণে রাজনৈতিক ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানের সুযোগ নিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। এমনিভাবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসমতা অসম সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের দুষ্টচক্রে আটকে আছে।

আদিকাল থেকে অর্থনীতিবিদদের কাছে প্রবৃদ্ধির পরিমাণগত দিকটি অধিকতর গুরুত্ব পেয়ে আসছে, যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সে ধারার কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে অর্জিত কৃতিত্বমূলক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ওই প্রবৃদ্ধির গুণগত অবস্থান তিন দিক থেকে বিবেচনা করা যায় : দারিদ্র্য হ্র্রাসের হার, আয় বিন্যাস ও কর্মসংস্থান। সেটাই হচ্ছে ভালো প্রবৃদ্ধি, যে প্রবৃদ্ধি দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য হ্রাস করে, কম বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং খুব দ্রুততার সঙ্গে উদ্বৃত্ত খাত থেকে ঘাটতি খাতে শ্রম টেনে নেয়। দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে প্রশংসনীয় কৃতিত্ব দাবি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ দাবি আজ স্বীকৃত, সে কথাটা আমরা আগেও বলেছি। যেমনসত্তরের দশকের আয়-দারিদ্র্যের প্রকোপ ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ, ২০১০ সালে তা দাঁড়ায় প্রায় ৩২ শতাংশে। এ উন্নতির পেছনে বড় অবদান রেখেছে লতিয়ে ওঠা মাথাপিছু আয়। বিশেষত আশির দশকের পর থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাসের মুখে অব্যাহতভাবে জিডিপির বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে মাথাপিছু আয় তিন গুণ বেড়ে যায় এবং খুব সহজেই আমরা চিত্তাকর্ষক এ রূপান্তরের তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারি। এর ফলে একদিকে যেমন দারিদ্র্য হ্রাসের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্ম আগের প্রজন্মের চেয়ে দ্বিগুণ সচ্ছল জীবনযাপন করছে। তার পরও দারিদ্র্যের দহন প্রতিনিয়ত তাড়া করছে অসংখ্য মানুষকে এবং বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্র্য রেখার নিচে বাস করছে বলে জানা যায়। সমাজবিজ্ঞানীদের দৃঢ় বিশ্বাস, মাথাপিছু আয়ের অব্যাহত দ্রুত বৃদ্ধিই এদেরকে দারিদ্র্য রেখার ওপরে টেনে তোলার ক্ষেত্রে বড় রকমের অবদান রাখতে পারে।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উপ-সম্পাদকীয়- এর আরো খবর