English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশায়

মোফাজ্জল করিম

  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

পঞ্চাশ-ষাটের দশকে বাংলা সাহিত্যে মোহন সিরিজ বলে একটা রোমাঞ্চ-সিরিজ কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় ছিল। এর স্রষ্টা ছিলেন শশধর দত্ত। দস্যু মোহন নামক এক রবিনহুড মার্কা গরীবের বন্ধু ছিল ওই সিরিজের নায়ক। তা দস্যু মোহন যখন কাউকে ধমক দিয়ে মুখ বন্ধ করতে বলত, তখন তার একটা কমন উক্তি ছিল : রসনা সংযত কর যুবক। আজকালকার দস্যু মোহনদের সাধু ভাষায় ধমক দেওয়ার মত অত সময় নেই, তারা মুখের কাজ হাতেই সেরে নেয়। প্রয়োজনে একটা গুলি বাজে খরচ করতেও ইতস্তত করে না। আজকাল রসনা সংযত করার মত কঠিন বাংলা ব্যবহার না করে সহজবোধ্য বাংলায় বলা হয় মুখ সামলে কথা বল, শা...। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ না হলে লাঠিসোটা মায় ছুরি-পিস্তলের ব্যবহার তো আছেই।

হিন্দি ছায়াছবির বদৌলতে আরেকটি ডায়ালগও আমাদের নিকট খুব পরিচিত। সেটিও প্রয়োগ করা হয় একই উদ্দেশ্যে। ডায়ালগটি হচ্ছে : যবানকো লাগাম দো, কমিনে। এর অর্থও ওই মুখ সামলে কথা বল, শা...-এর মত। তবে মোহন সিরিজের বাক্যটি আর যাই হোক, শ্লীলতাবর্জিত নয়। অন্য দুটি নিঃসন্দেহে কুবাক্য। অতএব, পরিত্যাজ্য।

এবং কুকথা-কুবাক্য যে শুধু দুর্জনের শোভা পায়, এটা আমাদের শ্রদ্ধাস্পদ রাজনীতিকরা খুব ভালো করেই জানেন। তাই তো দেখি ,তাঁদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে কখনোই তাঁরা অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করেন না। এ জন্য তাঁদের আমরা অবশ্যই সাধুবাদ দেব। কোনো দুর্মুখও নিশ্চয়ই বলতে পারবে না, তাঁদের কণ্ঠনিঃসৃত বাক্যের কারণে আমাদের কোমলমতি (মতিগতি কোমলই হোক আর কঠিনই হোক, সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিশু-কিশোরদের কথা বলতে গিয়ে এই অভিধাটি পত্রপত্রিকায়, প্রবন্ধ-নিবন্ধে, আলাপ-আলোচনায় আকছারই ব্যবহৃত হয়েছে ও হচ্ছে। এবং তা যথার্থই। আমাদের উচিত হবে এমন কিছু না করা, যাতে শিশু-কিশোরদের মনোজগতে কোনো প্রকার কুপ্রভাব পড়ে। শৈশবে-কৈশোরে তারা যাতে সত্যিকার অর্থে কোমলমতি থাকে, সেদিকে অবশ্যই আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।) বালক-বালিকারা ব্যাকরণবিরুদ্ধ অশ্লীল ভাষা শিখছে। আবারও বলি, সাধু! সাধু!! আমরা আশা করব, আমাদের রাজনীতিকরা তাঁদের কথাবার্তায়, বক্তৃতা-বিবৃতিতে অশ্লীলতাবর্জিত বাক্য গঠনে এ ধরনের সতর্কতা অবলম্বন অব্যাহত রাখবেন। অকথা-কুকথা না বলেও সুচিন্তিত সুবিন্যস্ত চারুবাক্যের মাধ্যমে যে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যায়, তার উদাহরণ তো ইতিহাসে ভূরি ভূরি আছে।

দুই.

এ তো গেল আমাদের রাজনীতিকদের বক্তৃতা-বিবৃতির ভাষার শ্লীল-অশ্লীল প্রসঙ্গ। এতে তাঁরা দশে দশ পেলেও তাঁদের বক্তৃতার অন্যান্য দিক যেমন বক্তৃতার বিষয়বস্তু, প্রতিপক্ষের প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন, রাজনৈতিক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকা, উস্কানিমূলক কথাবার্তা না বলা ইত্যাদি বিষয়ে তাঁদের পারফরম্যান্স, মাপ করবেন, রীতিমত হতাশাব্যঞ্জক।

আর কয়েক মাস পরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই হাওয়া এখন আর নিদাঘের দিনান্তে কোমল পরশ বোলানো দখিনা মলয় নয়, এটি এখন বিকিরণ করতে শুরু করেছে উত্তাপ। এটা ঝড়ের পূর্বাভাসও বটে। বলা যায় নির্বাচনী ঝড়। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ কিংবা জানুয়ারির শুরুতে আঘাত হানবে এই ঝড়। নির্বাচন কমিশনের আবহাওয়াবিদরা তেমন ঘোষণাই দিয়েছেন। অতএব কাণ্ডারি, হুঁশিয়ার। সতেরো কোটি যাত্রী শঙ্কাকুলচিত্তে তাকিয়ে আছে এই মুহূর্তের কাণ্ডারিদের দিকে। তাঁরা কি মাথা ঠাণ্ডা রেখে, সব বাদ-বিসংবাদ ভুলে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারবেন, তরী ভিড়াতে পারবেন কূলে? নাকি সারাক্ষণ নিজেদের মধ্যে কূটকচালে জড়িয়ে পড়ে কাজের কাজটি করতেই যাবেন ভুলে, আর আলগা হয়ে যাওয়া মুঠি থেকে হালটা সরে গিয়ে ডুবে যাবে তরী? খোদা না করুন। কিন্তু চারদিকের আলামত দেখে গতিক বড় ভালো ঠেকছে না। খবরের কাগজ আর টিভি খুললেই দেখি আমাদের ভাগ্যবিধাতারা ব্যস্ত পরস্পরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়িতে। নিজেদের ঘর গোছানোতে মনোযোগ দেওয়ার চাইতে অন্যের ঘরে আগুন দিয়ে তাকে কী করে গৃহহীন করা যায় মনোযোগটা যেন সেদিকেই বেশি। (এতে যে নিজের অজান্তে নিজের কাপড়ের খুঁটে আগুন লেগে যেতে পারে, সেদিকে খেয়াল নেই।)

সব কাজেরই যেমন একটা উদ্দেশ্য থাকে, এই অহোরাত্র সংকীর্তনের মত অহোরাত্র গলাবাজি করে নিন্দাবাদেরও অবশ্যই একটা উদ্দেশ্য আছে। সেটি হচ্ছে শ্রোতৃমণ্ডলীর আস্থা অর্জন। তাদের বোঝানো, আমরা ড্রাই ওয়াশ করা তুলসীপাতা, আর ওরা হচ্ছে সর্বাঙ্গে জ্বালা ধরানো বিছুটি পাতা। আমাদের সকাল-সন্ধ্যা ছেঁচে রস করে খাবেন, সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ক্যান্সার পর্যন্ত সব রোগ-বালাই সেরে যাবে। আর ওদের ত্রিসীমানায়ও যাবেন না। গেছেন কি মরেছেন। এমন জ্বলুনি-পুড়ুনি-চুলকানি শুরু হবে যে মনে হবে বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপ দিয়ে জ্বালা জুড়ান।

আমাদের সাধারণ মানুষ মোটামুটি সরল বিশ্বাসী, এ কথা সত্য। তারা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলেই জানে। কেউ যদি গলার জোরে সাদাকে ধূসর আর কালোকে বাদামি বলে তাদের কাছে চালাতে চায়, তখনই ধন্দে পড়ে তারা। গোস্তাকি মাফ, রাজনীতিকরা প্রায়শ এই কাজটিই করে থাকেন। এবং এটা তাঁরা করেন একটা ভুল প্রেমিস্ বা ভিত্তি থেকে। তাঁদের ধারণা, তাঁরা যা বলেন সাধারণ মানুষ সেটাই কোনো যাচাই-বাছাই না করে বেদবাক্য বলে গ্রহণ করে। তাঁরা কখনো কখনো এও মনে করেন, গাঁও-গেরামের কিংবা বস্তিবাসী মানুষের বিদ্যাবুদ্ধি নেই, তাদের জ্ঞানের পরিধি নিতান্তই সীমিত, অতএব তাদের যা বলব তাই তারা মেনে নেবে। (ময়দানি ভাষায়, তাই তারা খাবে।) এটা হয়তো অতি অল্পসংখ্যক লোকের বেলা সত্য। কিন্তু সব মানুষকে এভাবে অবমূল্যায়ন করা, তাদের বিচার-বিবেচনাকে কটাক্ষ করা অন্যায়। এটা তাদের অপমান করার শামিল। আর তা ছাড়া যেসব বিষয় নিয়ে বক্তারা, তাঁদের মতে, অকাট্য যুক্তি-প্রমাণ তুলে ধরে কোনো দল বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন, সেই সব জীবনজগতজনিত বিষয়াদি সম্বন্ধে হাজিরানে মজলিস মোটামুটি ওয়াকিবহাল থাকেন। আফটার অল, তারা তো এই দেশেরই বাসিন্দা। এই দেশে অতীতে যা ঘটেছে বা এখন যা ঘটছে, সব কিছুর সাক্ষী তো তারাই। কাজেই তাদের কাছে গলাবাজি করে কিছু বলা মার কাছে মামাবাড়ির গল্প বলার মতই। তবু আমাদের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অভ্যাস, তাঁরা তাঁদের স্ব স্ব ঢোল যতক্ষণ না ফেটেছে ততক্ষণ পেটাবেনই।

ঢোল পেটান, আপত্তি নেই। আপনার ঢোল আপনি পেটাবেন-ফাটাবেন, না কোলবালিশ করে শয্যাসঙ্গী করবেন, সেটা আপনার ব্যাপার। তবে ঢোলের বাদ্যেরও একটা ছন্দ-ছাদ আছে, গ্রামার আছে। সেটা মেনে চললে ওই বাজনা অত পীড়াদায়ক মনে হয় না পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে। কিন্তু তা না করে সারাক্ষণ উল্টাপাল্টা ধুড়ুম-ধাড়ুম পেটাতে থাকলে কতক্ষণ ভালো লাগে বলুন। এখন তো এমন হয়েছে টিভি খুললেই শোনা যায়, এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে কুৎসা আর নিন্দা ছড়াচ্ছে। ভদ্র ভাষায় যতটুকু ধোলাই দেওয়া যায় তাই দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। হুমকি-ধমকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও কারো কারো আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গি (বডি ল্যাঙ্গুয়েজ) দেখে মনে হয়, এরা যেন একটা যুদ্ধ না বাধিয়ে ছাড়বেন না। বক্তৃতা তো নয় যেন এক ধরনের শক্তি প্রদর্শন। বললেই বলবেন, এটা না করলে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখব কী করে। যেন কর্মীবাহিনী নয়, রণক্ষেত্রের সেপাই সীমান্তরেখার এপাশে রণসজ্জায় সজ্জিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর সেনাপতি মহোদয় জ্বালাময়ী ভাষায় শত্রুপক্ষের মুণ্ডুপাত করেই চলেছেন!

তিন.

তবে ইদানীংকালের বক্তৃতা-বিবৃতি-ভাষণের মধ্যে দুটি জিনিস আমার কাছে সবচেয়ে আপত্তিকর মনে হয়। এক হচ্ছে বক্তৃতার ভাষা। এতে গালি-গালাজ নেই ঠিকই, তবে যে বাংলা ভাষা তার সৌকুমার্য ও কিছু কিছু স্বকীয়তার জন্য আবহমানকাল ধরে সব ভাষাভাষী মানুষের অবিমিশ্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়ে আসছে, তার প্রতি আমাদের কোনো কোনো শ্রদ্ধাস্পদ ব্যক্তির ঔদাসীন্য রীতিমত দুঃখজনক। এরা অনেক জীবিত ও মৃত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন প্রাপ্য সম্মানটুকু প্রদর্শন না করে। না, আমি বলছি না কারো নামের আগে মাননীয় বা শ্রদ্ধেয় ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতেই হবে কিংবা অমুক মহোদয় বা মহোদয়া বলতেই হবে। কিন্তু বাংলা ভাষায় আমরা নিশ্চয়ই বলি না বা লিখি না, রাষ্ট্রপতি বলল, মন্ত্রী এলো, মওলানা ভাসানী বলেছিল, শিক্ষক ক্লাসে বাংলা পড়াচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ লক্ষ করে দেখবেন, আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় কেউ কেউ তাঁদের বক্তৃতায় ও কথোপকথনে প্রতিপক্ষের কোনো ব্যক্তির কথা বলতে গিয়ে দিব্যি এ ধরনের অসূয়া ও অবজ্ঞাসূচক বাক্য অনর্গল বলে যাচ্ছেন। এতে ব্যক্তিবিশেষের সম্মান-অসম্মানের কিছুই হ্রাস-বৃদ্ধি হয় না, কিন্তু বক্তার ঔদার্যের অভাব ও ভাষার ব্যবহারে স্বেচ্ছাচারিতা কানে বড় বাজে। বক্তা সম্বন্ধে সাধারণ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হওয়াও বিচিত্র নয়। মনে হয় যেন বক্তার একধরনের অহমিকা প্রকাশ পায়। যেন বক্তা সাধারণ সৌজন্য প্রকাশের ধার ধারেন না। আর আশ্চর্যের বিষয়, এ ধরনের শীর্ষস্থানীয় বক্তাদের আশপাশে যে স্তাবককুল সারাক্ষণ মক্ষিকার মত ঘুরঘুর করে, তারা কখনো বিষয়টি বক্তার নজরে আনে না, পাছে তিনি রুষ্ট হন এবং তারা চাকরি খোয়ায়!

অন্য বিষয়টি নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করার জন্য একাই এক শ। সেটি হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর উঠতে-বসতে উস্কানিমূলক বক্তব্য দান। কথাবার্তায় শিষ্টাচারের অভাব আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনের পুরনো ব্যাধি। সেটিও হয়তো সহ্য করা যায়। কিন্তু পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া বাধানোর জন্য কেউ কেউ যেন মুখিয়ে আছেন। এরা খোঁচা না মেরে, খোঁটা না দিয়ে কথা বলতে পারেন না। আর সেসব হুল ফোটানো কথাও একেবারে সরাসরি। কোনো রাখঢাক নেই। এতে করে পরিবেশ-পরিস্থিতি খারাপ হতে বাধ্য। প্রতিপক্ষ তখন ঢিলটির বদলে পাটকেলটি মারবেই। ব্যস! এভাবে বাগ্যুদ্ধ থেকে লেগে যাবে বন্দুকযুদ্ধ। আর যুদ্ধ হবে রাজায় রাজায়। সেই যুদ্ধে কেউ কাউকে এতটুকু ছাড় দেবে না। আখেরে জান যাবে কার? নিরীহ পাবলিকের। যারা এই লড়াইয়ের গনিমতের এক পয়সাও পাবে না। সেই পুরনো কথা : রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার জান যায়। উলুখাগড়া বেচারা তো রাজ্য-রাজত্ব কিছুই চায় না। সে কেবল তার এক ইঞ্চি ভূমিতে শান্তিতে অবস্থান করে আলো-বাতাস-জলটুকু নিয়ে বাঁচতে চায়।

চার.

আমাদের প্রবল প্রতাপান্বিত নেতৃবৃন্দের প্রতি সামান্য একটি আরজ : আপনারা আপনাদের রাজনৈতিক টেণ্ডলদের কথায় কান না দিয়ে একটিবার গ্রামের অলিমদ্দি-সলিমদ্দি, বস্তির কটাই-মজররা কী বলে শোনেন তো। তারা কি মারদাঙ্গা আর ফিতনা-ফ্যাসাদের নির্বাচন চায়, না নির্বিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে নিজের সাত রাজার ধন, বড় আদরের, বড় আশার ভোটটি দিতে চায়? তাদের কাছে যখন ভোট চাইতে যান তখন তারা কি একান্তে আপনাকে বলে না, চাচাজি, আপনি ভোট চাইতাছেন, নিশ্চয়ই আপনারে ফিরাইয়া দিমু না, তয় দেইখেন, নিজের ভোটটা যেন শান্তিতে নিজে দিতে পারি। এই ভোট লইয়া দাঙ্গা-ফ্যাসাদ শুরু অইলে আমরা তো বৌ-বাচ্চা নিয়া না খাইয়া মরুম। আর ভোটের হল্লা-গল্লায় এটাই লাখ কথার এক কথা।

তা হলে মরাল অব দ্য স্টোরি কী? এত দিনের এত অভিজ্ঞতা, এত হাউকাউ কূটকচালি একদিকে, আর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আরেক দিকে। নির্বাচনে কে জিতল, কে হারল তা নিয়ে সাধারণ মানুষের (ভুলে যাবেন না তারাই কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ) খুব একটা মাথাব্যথা নেই। তারা জানে, ভোটের ফলাফলে তাদের ভাগ্যের কোনো ইতরবিশেষ পরিবর্তন হবে না। তাদের কপালে সেই মোটা চালের ভাত, শুঁটকি পোড়া, ছেঁড়া লুঙ্গি, ছেঁড়া শাড়িই যদি বহাল থাকে, তবেই শুকুর আলহামদুলিল্লাহ, যদিও দেশ নাকি উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাবে, মাথাপিছু আয় (ইস্, এর মাজেজাটা যে কী তা যদি উম্মি মানুষগুলোকে কেউ বুঝিয়ে বলত!) নাকি এক লাফে উঠে যাবে মগডালে।

হোক যা খুশি, তবু দয়া করে একটু শান্তিতে থাকতে দিন দেশবাসীকে।

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

mkarim06@yahoo.com

উপ-সম্পাদকীয়- এর আরো খবর