English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ভারত ফাইনালে গেল প্রত্যাশামতোই

  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ভারত ও পাকিস্তানের পতাকা উড়েছে। সমর্থন পেয়েছে দুই দলই। কিন্তু জয়ের হাসি হেসেছে ভারতীয়রাই। তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দল, যারা একে একে দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র দলগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে শিরোপার দিকে। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেছে সাফের ফাইনালে। এই টুর্নামেন্টে তাদের একাদশতম ফাইনাল। আগামী শনিবার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হঠাত্ আগুনে উত্তাপ। একটি ফাউলকে করে কেন্দ্র করে তেতে ওঠে দুই পক্ষ। ঘটনা ঘটেছে হাসান বশির ও লালিয়ানজুয়ালার মধ্যে। লালিয়ানজুয়ালা ফাউলটা মেনে নিতে না পেরে হাত ঘুরিয়ে মারেন বশিরকে। তাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তানের অন্যরা। ভারতীয় খেলোয়াড়রাও এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে যান লালিয়ান ও মহসিন আলী এবং উত্তেজনা শেষ ওখানেই।

তবে গ্যালারিতে ছিল কিছু উত্তেজনা। ভারত ও পাকিস্তানের পতাকা উড়েছে। সমর্থন পেয়েছে দুই দলই। কিন্তু জয়ের হাসি হেসেছে ভারতীয়রাই। তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দল, যারা একে একে দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র দলগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে শিরোপার দিকে। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেছে সাফের ফাইনালে। এই টুর্নামেন্টে তাদের একাদশতম ফাইনাল। আগামী শনিবার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের।

বিরতির আগে দুই দলের লড়াইয়ে একরকম সমতা ছিল। অত পানসে ছিল না। তবে ভারতীয় ফুটবলের নতুন প্রজন্ম যে প্রতিভার দিক থেকে এগিয়ে সেটা পরিষ্কার হয়েছে প্রথমার্ধে। বল পজেশন ও টেকনিকে তারা চমত্কার। এখানে বারবার হোঁচট খেয়েছে পাকিস্তান। গোলরক্ষক ইজাজ বাট প্রথম পরীক্ষা দেন ১১ মিনিটে বিনিতের জোরালো শট ঠেকিয়ে। ১৯ মিনিটে একদম ওপেন করেও পাকিস্তানি গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে পারেনি। ডানদিকে ফারুকের এক দৌড়ে খুলে যায় গোলমুখ। বাইলাইন থেকে দারুণ এক বল বানিয়ে দিলেও মানভিরের শটে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যান ইজাজ। একটু বাদে তিনি ফিস্ট করেন আশিক কুরনিয়ানের শট। গোলরক্ষকের এই খেলা দলকে উজ্জীবিত করে দেওয়ার মতো। সতীর্থরাও জেগে ওঠেন এবং কয়েকবার ভারতীয় সীমান্তে হানা দিয়ে ভয় ধরিয়ে দেন। তাদের ফরোয়ার্ড লাইনে একটু গতি আছে। ভালো শটও আছে হাসান বশির ও আলীর পায়ে। ৩৮ মিনিটে রিয়াজের পায়েও দেখা গেছে সে রকম এক শট, কিন্তু ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক বিশাল। সত্যিকারের সুযোগ পেয়েছিল প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে। সাদ্দামের চমত্কার ক্রসে বিভ্রান্ত ভারতীয় রক্ষণভাগ, গোলরক্ষকও বেরিয়ে আসেন লাইন ছেড়ে। কিন্তু বল হাসান বশিরের মাথা ছুঁয়ে চলে যায় ক্রসবার উঁচিয়ে।

প্রথমার্ধ শেষ হয় সমতায়, সুযোগ থাকে দুই পক্ষেরই। সেটা নিতে পেরেছে তরুণ ভারত। শুরু হতেই দুর্দান্ত এক গোলে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে নিজেদের ক্লাস। বাঁ-দিক থেকে আশিকের এক মাপা সেন্টারে মানভির সিংয়ের ফ্লিক পৌঁছে যায় পাকিস্তানের জালে। অনূর্ধ্ব-২৩ বছর বয়সীর পায়ে দেখার মতো এক গোল। এ রকম কিছু ঝলকের কারণেই তারা তারুণ্যের শক্তিতে বলীয়ান। লড়াই করছে এবং হারাচ্ছে সাফের বাকি সিনিয়র দলগুলোকে। গোলের পর খেলার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা খেলেছে। মাঝে মাঝে পাকিস্তানকে আক্রমণে স্বাগত জানিয়ে কাউন্টারে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এই কৌশল সফল হয় ৬৯ মিনিটে, লালিয়ানজুয়ালা দুজনের ভেতর দিয়ে বলটা দারুণ বের করে দেন। বিনিতের পা ঘুরে মানভিরের পায়ে দ্বিতীয় গোলের আলোড়ন। সুবাদে ৩ গোল করে মানভির এখন গোলদাতার তালিকায় এগিয়ে। দুই গোলে আগুয়ান ভারতের ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায় অনেকখানি। ৮৪ মিনিটে ব্যবধান আরো বড় করেন বদলি হয়ে নামা সুমিত পাসি। আশিকের মাপা ক্রসে হেড করেন ২৩ পেরোনো একমাত্র ভারতীয় খেলোয়াড়টি। এরপর মাঠে খানিকের উত্তেজনা, একটা ফাউলকে ঘিরে দুই পক্ষ মুখোমুখি। শেষে দুজনের লাল কার্ডে উত্তেজনা প্রশমন। সেই ছন্দপতনের সুযোগে ৮৮ মিনিটে পাকিস্তানের হাসান বশির ফিরিয়ে দেন এক গোল।

তাতে ম্যাচের জয়-পরাজয়ে কোনো প্রভাব পড়েনি। জয় হয়েছে ভারতের তারুণ্যের। ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২৩ দলে চারজন আছে অনূর্ধ্ব-২০ বছরের। নতুন প্রজন্ম তৈরির কাজ করছেন স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন, তাদের ফাইনাল আরোহণে স্বাভাবিকভাবে এই ইংলিশ দারুণ খুশি, তরুণরা খুব ভালো খেলে ফাইনালে উঠেছে। তারা তিন গোল করেছে, তবে সুযোগ ছিল অনেক। যা-ই হোক, দিনে দিনে দলটি ভালো করছে। তারা তৈরি হয়েছে ভবিষ্যতের জন্য। তারা সামনে আরো ভালো করবে।

খেলা- এর আরো খবর