English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

হেমন্তর দেশে বিমলের রাজত্ব

  • শাহজাহান কবির   
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসকে বারবার মনে করাচ্ছেন বিমল ঘারতি মাগার। অভিষেকেই হেমন্ত ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন। সেই ১০ নম্বর নিয়ে এবারের সাফে নেপালের আক্রমণভাগ দাবড়ে বেড়াচ্ছেন বিমল। অথচ বাংলাদেশের সেই হেমন্ত কোথাও নেই!

সাবেক সতীর্থকে প্রতিপক্ষ দলে না দেখে বিস্মিত বিমল নিজেও, হেমন্ত খুবই ভালো খেলত। এফসি টোয়েন্টেতে দুই সপ্তাহ আমরা একসঙ্গে ছিলাম। ট্রায়ালের ফাঁকে একসঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছি। সবাই আমাদের খুব প্রশংসাও করেছিল। তরুণ খেলোয়াড়দের ফিফার আইনের কড়াকড়ির কারণেই ডাচ ক্লাবটি আর তাঁদের ধরে রাখার চেষ্টা করেনি। যাঁর মাধ্যমে সেই ট্রায়ালে সুযোগ হয়েছিল বাংলাদেশ দলের সে সময়ের সহকারী কোচ রেনে কোস্টার অবশ্য হেমন্তের মাঝে ট্যাকটিক্যাল জ্ঞানের ঘাটতির কথা বলেছিলেন। দিনাজপুর থেকে ট্রায়ালের মাধ্যমে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ঢুকে পড়েছিলেন হেমন্ত। বিমল নজর কাড়েন আনফা ফুটবল একাডেমি থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ ও এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে। এফসি টোয়েন্টেতে না হলেও এই নেপালি তরুণ পরে আরো কয়েক দফায় ট্রায়াল দিয়েছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাবে। এর মধ্যে বেলজিয়ান ক্লাব আন্ডারলেখটের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে এক বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধও হয়ে যান, আন্ডারলেখটের হয়ে ইউরোপের আরো বড় বড় ক্লাব যেমন এসি মিলান, ফেনারবাচের বিপক্ষে খেলার সুযোগ হয়েছে। আমার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য সময় এটা। অনেক কিছুই শিখেছি তখন। এই বিমল কুড়ি না পেরোতেই তাই মোহনবাগানে ডাক পেয়ে যান। এই মৌসুমেই সনি নর্দে ইনজুরিতে পড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার পর তাত্ক্ষণিক সমাধান হিসেবে নেপাল থেকে বাঁ পায়ের বল প্লেয়ার বিমলকে উড়িয়ে আনে বাগান কর্তৃপক্ষ। তিনি নেপাল জাতীয় দলেও যে তাই অপরিহার্য হয়ে উঠবেন তা তো জানা কথাই। ২০১৩ সাফে মাত্র ১৫ বছর বয়সে গোল করে নেপালের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার তকমাও যে তাঁর গায়ে। গত পাঁচ বছরে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলে ফেলেছেন ২৬ ম্যাচ।

বিমল এই সাফের মাঠেও জানান দিচ্ছেন তিনি কেন গুরুত্বপূর্ণ। ভুটানে চেনচো গেলেতসেনকে যেমন রোনালদো, তেমনি নেপালে বিমলকে কেউ কেউ ভালোবেসে ডাকেন মেসি। বাঁ পায়ে বল কন্ট্রোলিং এবং ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারার কারণেই এত তাঁর নামডাক। খাওয়াজ, নবযুগ শ্রেষ্ঠার মতো অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডরা আছেন। কিন্তু বালগোপাল মহাজন জানেন বিমল তাঁর মূল অস্ত্র। গোল করানো বা করা শুধু নয়, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দারুণ শারীরিক গড়ন ও মুভমেন্টে এই ফরোয়ার্ড সার্বক্ষণিক হুমকি প্রতিপক্ষের অর্ধে। ইউরোপে ঘুরে আসার সুবাদে খেলা বোঝা বা ট্যাকটিক্যাল সামর্থ্যেও এগিয়ে অন্যদের চেয়ে। ১০ নম্বর জার্সি তাই তাঁকেই মানায়।

মোহনবাগানে তাঁর স্বপ্ন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইন্ডিয়ান সুপার কাপ শুরুর পর এশিয়ান কোটায় দুজন খেলানোর বাধ্যবাধকতা না থাকায় মোহনবাগান ছেড়ে দিয়েছে বিমলকে। তাই এই মৌসুমেই তিনি আবার থ্রি স্টার ক্লাবে। এবারের সাফে যেমন খেলছেন তাতে আই লিগ থেকে আবারও হয়তো ডাক আসতে যাচ্ছে তাঁর। বেঙ্গালুরুতে খেলা চেনচোকে গত মৌসুমের আগের মৌসুমে নিয়ে এসেছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। বিমলকে পাওয়ার জন্য ঢাকার তেমন বড় কোনো ক্লাব হাত বাড়ালে অবাক হওয়ার থাকবে না।

নেপালি এই স্ট্রাইকারের স্বপ্ন অবশ্য এখনো ইউরোপ। তাঁকে আন্ডারলেখটে নিয়ে যাওয়া এজেন্ট লুইস দি ফ্রেইসের সঙ্গে এখনো সম্পর্কটা ধরে রেখেছেন। আগের রাতে স্বাগতিকদের বুক ভেঙে সাফের সেমিফাইনালে উঠে যাওয়া নেপালের এই তারকা কাল টিম হোটেলে বসেও সেই স্বপ্ন চোখে আপ্লুত, এই সাফে ভালো খেললে বা আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে অনেক ক্লাবই আগ্রহ দেখাবে জানি। তবে আমার মূল লক্ষ্য ইউরোপে খেলা, সেভাবেই নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশে এই স্বপ্ন দেখা তো দুরস্ত, প্রতিভা নিয়ে হেমন্তরা এক ধাপ এগোন তো পেছান দুই ধাপ।

খেলা- এর আরো খবর