English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

নিউ ইয়র্কে জাপানি সূর্যোদয়!

  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ইউএস ওপেনের পুরুষ একক ও নারী এককদুই জায়গাতেই শেষ চারে আছেন একজন করে জাপানের খেলোয়াড়। মারিন সিলিচকে হারিয়ে শেষ চারে কেই নিশিকোরি আর মেয়েদের এককে শেষ চারে নাওমি ওসাকা। দুই টেনিস খেলোয়াড়ের কীর্তিতে তাই মুখর জাপানের গণমাধ্যম।

জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটা অদ্ভুত! পার্ল হারবার আক্রমণ করেছিল জাপানিরা; আবার জাপানে পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল আমেরিকা। জাপানের নেই কোনো সেনাবাহিনী, তাদের নিরাপত্তায় জাপানে নিয়োজিত রয়েছে মার্কিন সেনারা। আবার দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও লাভজনক, জাপানের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের তিন ভাগের এক ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। সূর্যোদয়ের দেশের টেনিসের ইতিহাসেরও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোকিত দিনটার দেখা মিলল যুক্তরাষ্ট্রেই! ইউএস ওপেনের পুরুষ একক ও নারী এককদুই জায়গাতেই শেষ চারে আছেন একজন করে জাপানের খেলোয়াড়। মারিন সিলিচকে হারিয়ে শেষ চারে কেই নিশিকোরি আর মেয়েদের এককে শেষ চারে নাওমি ওসাকা। দুই টেনিস খেলোয়াড়ের কীর্তিতে তাই মুখর জাপানের গণমাধ্যম।

কোনো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে খেলা প্রথম এশিয়ান টেনিস খেলোয়াড় হচ্ছেন নিশিকোরি। ২০১৪ সালের ইউএস ওপেনের ফাইনালে ওঠার পর সিলিচের কাছে হেরে গিয়েছিলেন এই জাপানি খেলোয়াড়। বুধবার রাতে, সেই সিলিচের বিপক্ষেই ৪ ঘণ্টা ৮ মিনিটের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের পর ২-৬, ৬-৪, ৭-৬ (৭/৫), ৪-৬, ৬-৪ গেমে জিতে শেষ চারে পা রাখেন নিশিকোরি। ২০১৪-র ইউএস ওপেনের পর আর কোনো গ্র্যান্ড স্লামেই ফাইনালে ওঠা হয়নি নিশিকোরির। গত বছরটা তো কবজির চোটের কারণে মৌসুমটাই হয়েছে তাঁর বরবাদ। এবার তিনি আগের কৃতিত্বকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায়, সেই যাত্রায় আবার মারিনের সামনে পড়তে হওয়ায় বেশ অখুশি নিশিকোরি, জানি না কেন আমাকে বারবার শুধু মারিনের সঙ্গেই লড়তে হয়। আমি চেষ্টা করেছি প্রতিটি পয়েন্টের জন্যই লড়াই করতে। সিলিচকে হারিয়ে নিশিকোরি পড়েছেন নোভাক জোকোভিচের সামনে। রজার ফেদেরারকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসা জন মিলম্যানকে ৬-৩, ৬-৪, ৬-৪ গেমে সহজেই হারিয়ে ১১তম বারের মতো ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করলেন জোকার। ফেদেরারের বদলে মিলম্যানকে পেয়ে বেশ অবাক হয়েছিলেন জোকোভিচ। তবে জানালেন মিলম্যানও প্রতিপক্ষ হিসেবে কমজোরি নন, মিলম্যান এমন একজন খেলোয়াড়, যে আপনাকে বল মিস করতে বাধ্য করবে, যার কাছ থেকে পয়েন্টটা জোর করেই আদায় করে নিতে হবে।

মেয়েদের এককে ওসাকা সেমিফাইনালে উঠেছেন ইউক্রেনের লেসিয়া সুরেঙ্কোকে হারিয়ে। জাপানি মা আর হাওয়াইয়ান বাবার সন্তান নাওমি ওসাকার জন্ম ১৯৯৭ সালে। এর ঠিক আগের বছর, ১৯৯৬ সালে সব শেষবার কোনো জাপানি মহিলা খেলোয়াড়কে দেখা গিয়েছিল কোনো গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে। সেবার উইম্বলডনের সেমিফাইনালে খেলেছিলেন কিমিকো দাতে। দুই জাপানি টেনিস খেলোয়াড়ের এমন সাফল্যে সে দেশের গণমাধ্যমে তাই প্রশংসার জোয়ার। নিক্কন গ্রেন্দাই, নিক্কন স্পোর্টস, স্পোর্টস নিপ্পনপ্রায় সব কাগজ ও অনলাইনেই শীর্ষ খবর তাঁদের সাফল্য। শুধু তা-ই নয়, তাদের সাফল্যে এ দুজনের র্যাকেট প্রস্তুতকারক সংস্থা ইয়োনেক্সের শেয়ারের দামও জাপানের স্টক এক্সচেঞ্জে বেড়ে গেছে ১০ শতাংশ! এএফপি

খেলা- এর আরো খবর