English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সাকিব ইস্যুতে নমনীয় রোডস

  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

সিপিএল খেলতে রওনা হয়ে যাওয়া অলরাউন্ডারকে বোর্ডের মাধ্যমে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য করেছিলেন ওই শ্রীলঙ্কান। এরই সূত্র ধরে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধও হয়েছিলেন। তবে চার বছর পর সেই সাকিবেরই একের পর এক সিরিজের অনুশীলনশিবিরে না থাকায় দোষের কিছু দেখছেন না বর্তমান হেড কোচ স্টিভ রোডস।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : চার বছর আগে কঠোর হেড কোচের রক্তচোখ দেখতে হয়েছিল তাঁকে। চার বছর পর এবার ভিন্ন অভিজ্ঞতাই হচ্ছে সাকিব আল হাসানের। এখনকার হেড কোচ যে তাঁর বিষয়ে ভীষণ সহনশীল এবং নমনীয়।

চার বছর আগে ছিলেন চন্দিকা হাতুরাসিংহে। জাতীয় দলের অনুশীলনশিবির বাদ দিয়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে রওনা হয়ে যাওয়া অলরাউন্ডারকে বোর্ডের মাধ্যমে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য করেছিলেন ওই শ্রীলঙ্কান। এরই সূত্র ধরে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধও হয়েছিলেন। তবে চার বছর পর সেই সাকিবেরই একের পর এক সিরিজের অনুশীলনশিবিরে না থাকায় দোষের কিছু দেখছেন না বর্তমান হেড কোচ স্টিভ রোডস।

বরং এর পেছনে নানা যুক্তিও দেখালেন এ ইংলিশ কোচ। ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে দলের সঙ্গে যাননি সাকিব। পরে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও। এশিয়া কাপেও তাঁর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা। এটি দলের সঙ্গে তাঁর বন্ধনকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, এমন একটি প্রশ্নই কাল উঠল এশিয়া কাপগামী বাংলাদেশ দলের কোচ-অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনে। এ ক্ষেত্রে নিজের মনোভাব প্রথম বাক্যেই পরিষ্কার করলেন রোডস, সংক্ষেপে উত্তর দিতে হলে বলব, আমি তা মনে করি না।

পরে গেলেন বিস্তারিত ব্যাখ্যায়ও, বাকি দলের ওপর এটি কোনো প্রভাবই ফেলছে না। আমার কোচিং দর্শনই হলো দলকেন্দ্রিক। যেখানে আমি এ চেষ্টাই করি, যেন সবাই সবার জন্য খেলে। সাকিবও ড্রেসিংরুমে ওর বাকি সতীর্থদের চোখে খুবই সম্মানিত একজন। সাকিবের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ব্যাপারটি ওরা বোঝে এবং ওর সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাও আছে। আমার মতে সবার এটা বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে সাকিব কিন্তু প্রচুর ক্রিকেটও খেলে। ও শুধু ব্যাটই করে না, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বও দেয়। সব ফরম্যাটই খেলে সে।

সব ফরম্যাটেই সেরা ছন্দের সাকিবকে পেতে এ অলরাউন্ডারকে ব্রেক দেওয়াটা জরুরি বলেও মনে করেন রোডস, সাকিবকে ঝরঝরে রাখতে এবং ওর কাছ থেকে সেরা খেলাটা নিশ্চিত করতে চাইলে পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ আমাদের করে দিতে হবে। যা ওকে আরো ভালো খেলোয়াড়েও পরিণত করবে। বয়স যখন কম ছিল, তখন সব ধরনের অনুশীলনই সে করেছে। উইকেটে গিয়েও তো কম অনুশীলন হয় না। কারণ টেস্টের প্রতি ইনিংসেই ওকে ৫০ ওভারের মতো বোলিং করতে হয়।

তা করতে হয় বলেই যে এশিয়া কাপ সামনে রেখে দলের সঙ্গে থাকবেন না সাকিব, সেটি অনেকের কাছে হাস্যকর শোনালেও রোডসের কথায় স্পষ্ট যে তিনি হাতুরাসিংহের মতো কঠোর নন। এ ক্ষেত্রে তিনি উদাহরণ হিসেবে টানছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে, ও সঠিক লাইন ও লেন্থটা জানে। তাই সব সময় অনুশীলনের মধ্যে থাকা খুব জরুরিও নয়। তেমন একটা অনুশীলন ছাড়াই ক্যারিবিয়ানে দেখিয়েছে যে সে ক্রিকেটার হিসেবে কোন মানে পৌঁছাতে পারে। ও বিচক্ষণ ছেলে, কাজেই সে জানে ওকে কোথায় থাকতে হবে। আমি নিশ্চিত যে অনুশীলনে ওর না থাকাটা দলে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

সম্প্রতি এক ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে শতকরা ২০-৩০ ভাগ ফিট ঘোষণা করে সাকিব বলেছেন যে এশিয়া কাপ খেলতে পারবেন কি না, তা তিনি নিজেও জানেন না। রোডস অবশ্য মনে করেন, আমার বিশ্বাস হয় না যে ও ২০-৩০ শতাংশ ফিট। আমি নিশ্চিত যে ও ফিট এর চেয়েও অনেক বেশি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত খেলার সময় ও যে অবস্থায় ছিল, এখনো তা-ই আছে বলে আমার মনে হয়। ৬০-৭০ শতাংশ ফিট সাকিবও দলকে অনেক কিছু দিতে সক্ষম বলে মনে করেন এই ইংলিশ কোচ, এটা ঠিক যে সে পুরোপুরি ফিট নয়। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের মতোও যদি খেলে, তাহলেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বিরাট কিছু হবে। অসাধারণ ক্রিকেটার। এমনকি ৬০-৭০ শতাংশ ফিট সাকিবের কাছ থেকেও অনেক কিছু পেতে পারেন আপনি। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওর পারফরম্যান্স খুবই কার্যকর ছিল। আমার কাছে মনে হয় অতটুকু সুস্থ থাকলেই যথেষ্ট। আমি নিশ্চিত যে খেললে সে ওর শতভাগই দেবে।

খেলা- এর আরো খবর