English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

নিজেকে তৈরি রাখাই লক্ষ্য আবু হায়দারের

  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বাংলাদেশের হয়ে ১০টি টি-টোয়েন্টি খেলা এ পেসার অবশ্য এশিয়া কাপ সামনে রেখে ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করে এমন অনুশীলনও উপভোগ করছেন ভীষণ। ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে যে বোলিং করতে হবে এমন টান টান উত্তেজনাকর মুহূর্তেই, এটা কিন্তু খুব ভালো অনুশীলন। এ পরিস্থিতিগুলোই ম্যাচে আসে। হয়তো এক ওভারে ৬-৭ বা ৯ রান লাগবে (প্রতিপক্ষের)। তখন বোলারকে ডিফেন্ড করতে হবে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জিততে সেন্ট কিটসে শেষ ৩ ওভারে ৪০ রান লাগত ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এ যুগে এমন সমীকরণ ব্যাটসম্যানরা হরহামেশাই মিলিয়ে ফেলেন। ক্রিজে থাকা মারদাঙ্গা ব্যাটসম্যান রোভম্যান পাওয়েলের পক্ষেও ওই অবস্থা থেকে দলকে সিরিজ জেতানো খুবই সম্ভব ছিল। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে ম্যাচ এবং সিরিজ বাংলাদেশের পকেটে চলে এলো মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনের করা ৪৮ এবং ৪৯তম ওভারে। তাঁরা মাত্র ৬ রান করে দেওয়াতেই না ক্যারিবীয়দের সামনে শেষ ওভারে ২৮ রানের প্রায় দুঃসাধ্য সমীকরণ দাঁড়িয়ে গিয়েছিল।

এখনো কোনো ওয়ানডে না খেলা আবু হায়দার ড্রেসিংরুমে বসেই দলের দুই অভিজ্ঞ পেসারকে দেখেছেন কিভাবে ডেথ ওভারে ম্যাচ ভাগ্য নিজেদের দিকে টেনে আনতে হয়। বাংলাদেশের হয়ে ১০টি টি-টোয়েন্টি খেলা এ পেসার অবশ্য এশিয়া কাপ সামনে রেখে ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করে এমন অনুশীলনও উপভোগ করছেন ভীষণ। ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে যে বোলিং করতে হবে এমন টান টান উত্তেজনাকর মুহূর্তেই, এটা কিন্তু খুব ভালো অনুশীলন। এ পরিস্থিতিগুলোই ম্যাচে আসে। হয়তো এক ওভারে ৬-৭ বা ৯ রান লাগবে (প্রতিপক্ষের)। তখন বোলারকে ডিফেন্ড করতে হবে। আবার আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্যও একই চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। এমন অনুশীলন করলে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা বাড়ে। এ রকম পরিস্থিতি কিভাবে সামলাতে হয়, মাথায় থাকে সেটিও। কাল (গত পরশু) যেমন প্রথম বলে বাউন্ডারি হওয়ার পর চেষ্টা করেছি পরের ডেলিভারিগুলোতে কিভাবে রান কম দেওয়া যায়।

এশিয়া কাপে আবু হায়দারের ওয়ানডে অভিষেক হোক বা না হোক, প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বাধীন পেস অ্যাটাকে যখন আছেন মুস্তাফিজ-রুবেলও, তখন এ বাঁহাতি পেসারের খেলার সুযোগ সামান্যই। তাই ব্যক্তিগত লক্ষ্যের সীমাও আপাতত অনুশীলন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রেখেছেন এ তরুণ, ম্যাচ খেলব কি না, এখনো নিশ্চিত নই। এটা টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। এখন অনুশীলন চলছে। অনুশীলনে নিজেকে ভালোভাবে প্রস্তুত করাই এখন আমার লক্ষ্য। সুযোগ পেলে যেন নিজের সেরাটা দিতে পারি।

সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য বোলিং বৈচিত্র্যের ভাঁড়ারও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছেন বলে জানালেন, বোলিংয়ে বৈচিত্র্য নিয়েও কাজ হচ্ছে। আগে কাটার মারতাম, এখন স্লোয়ার-নাকল বলও চেষ্টা করছি। চেষ্টা করছি ইয়র্কারও। পারফেকশন আনার চেষ্টা করছি। হয়তো এক দিনেই সব হয়ে যাবে না। নিয়মিত অনুশীলন করতে করতে হয়ে যাবে। ১৫ জনের স্কোয়াডে হায়দার চতুর্থ পেসার। গত কয়েকটি সিরিজ বিবেচনায় নিজেদের পেস অ্যাটাককে কোনো অংশেই পিছিয়ে রাখছেন না তিনি। এশিয়া কাপে তাই দেখছেন দারুণ সম্ভাবনাও। বিশেষ করে বি গ্রুপে বাংলাদেশের দুই প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের পেস অ্যাটাকের চেয়ে নিজেদের এগিয়ে রাখতে কোনো দ্বিধাই নেই তাঁর, আমাদের আসলে অনেক ভালো সম্ভাবনা আছে। আমাদের পেস বোলিং অ্যাটাকের দিকেই তাকান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে আমাদের পেসাররা দারুণ বোলিংও করেছে। এ আত্মবিশ্বাসই এশিয়া কাপে নিয়ে যেতে পারলে এবং মনোযোগের সঙ্গে বোলিং করলে আমরা অনেক এগিয়েই থাকব। এখনো ওয়ানডে খেলা না হলেও নিজের সব শেষ কিছু টি-টোয়েন্টির বোলিং আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে আবু হায়দারকেও, আমার আত্মবিশ্বাস খুব ভালো আছে। খুব ভালো বোলিং হচ্ছে এখন পর্যন্ত। শেষ দুটো সিরিজেও খুব ভালো বোলিং হয়েছে। চেষ্টা করব সেই ধারাটাই ধরে রাখার। এ জন্য অনুশীলনেও খুব খাটছি।

খেলা- এর আরো খবর