English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কোহলির তৃপ্তি-অতৃপ্তি

  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

৭ তারিখ শুরু হতে যাওয়া সিরিজের সমাপনী ম্যাচে শেষ হতে যাচ্ছে একটি অধ্যায়ের। ওই ম্যাচের পরই অবসর নেবেন অ্যালিস্টার কুক।

এ যুগে ভিনদেশে টেস্ট সব দলের জন্যই অগ্নিপরীক্ষা, সে এক নম্বর টেস্ট দলের ক্ষেত্রেও। রবিবার যেমন ৬০ রানে সাউদাম্পটনে চতুর্থ টেস্টের সঙ্গে ৩-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজও হেরেছে ভারত। যে হারের পর আক্ষেপের সঙ্গে সামান্য তৃপ্তিও আছে বিরাট কোহলির। জয়ের জন্য স্বাগতিকদের ঘাম ঝরানোয় সান্ত্বনা খুঁজেছেন ভারত অধিনায়ক। এশিয়ার বাইরে সব শেষ ৯ সিরিজের মাত্র একটিতে জয়ী দলের অধিনায়কের মনে এটুকু সীমাবদ্ধতা তো থাকবেই, তিনি টেস্টের এক নম্বর দলের নেতা তো কী!

সাউদাম্পটনের রোজ বোলের উইকেট অনেকটা উপমহাদেশীয়। তাতে চতুর্থ ইনিংসে ২৪৫ রান টপকানো বড় কোনো বাধা নয়। চতুর্থ উইকেটে কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানের মধ্যকার ১০১ রানের জুটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্পের ভিতও গড়ে দিয়েছিল ভারতকে। কিন্তু চা-বিরতির আগে-পরে এ দুজনকে ফিরিয়ে দেন ইংলিশ অফস্পিনার মঈন আলী। তাতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ভারত।

এর প্রভাবে কেঁপে উঠেছে দেশটির সংবাদপাড়া! ইংল্যান্ডের মাটিতে আরেকটি সিরিজ হারের পর অসহায় আত্মসমর্পণ কিংবা হূদয়বিদারক প্রতিক্রিয়াই ব্যক্ত করেছে ভারতীয় মিডিয়া। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, আধুনিক ক্রিকেটের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের কীর্তি গড়া হলো না মেরুদণ্ডহীন ব্যাটিংয়ের কারণে। অথচ দলটির অধিনায়ক কোহলি দুই সেঞ্চুরিসহ সিরিজে ৬৮ গড়ে করেছেন ৫৪৪ রান। তবে বাকিদের সিরিজ পরিসংখ্যান এতটাই মলিন যে চার টেস্টে ভারতের তিনশোর্ধ্ব ইনিংস মাত্র একটি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শিরোনাম করেছে, হয়েই গিয়েছিল প্রায়, তবে যথেষ্ট নয়।

সিরিজ হারের পর এ আক্ষেপই ঝরেছে কোহলির কণ্ঠে, ক্লোজ ম্যাচ জেতা একটা আর্ট। শেষ হার্ডলটা কিভাবে পার হতে হয়, ওটা আমাদের শিখতে হবে। আমাদের সামর্থ্য আছে। সেটা আছে বলেই ম্যাচ ক্লোজ করতে পারছি। আমাদের বিশ্বাসও আছে শেষ বাধাটা পার হতে পারব। হচ্ছে কি, চাপের মধ্যে কিভাবে রিঅ্যাক্ট করতে হয়, ওটা আমাদের শিখতে হবে। ওটুকু কষ্ট করার জন্য সবাই তৈরি।

চোখ গরম করে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন, সিরিজপূর্ব তাঁদের নানা মন্তব্য উসকেও দিয়েছিল সমালোচকদের। কিন্তু ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির নৈপুণ্যে সে সমালোচকরা আপাতত ভারত অধিনায়ককে টার্গেট করতে পারছেন না। তবে তাঁর বাকি ব্যাটসম্যানরা অব্যর্থ লক্ষ্য সবার। বোলাররা প্রতি ম্যাচেই ভারতের সামনে সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে দরজা দুম করে বন্ধ হয়ে গেছে অবিশ্বাস্য সব ব্যাটিং বিপর্যয়ে। স্পিনের দেশের ব্যাটসম্যান হয়েও ইংল্যান্ডের মাটিতে মঈন আলীর কাছে ম্যাচ হারার শোক তাই প্রগাঢ়। ভারতীয়দের কাছে আরো বিদঘুটে ঠেকছে, একই বাইশ গজে স্পিনে অনভ্যস্ত ইংলিশদের বিপক্ষে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের নির্বিষ বোলিং। সাউদাম্পটন টেস্টে ভারতীয় অফস্পিনার নিয়েছেন ৩ উইকেট অথচ মঈনের শিকার ৯টি! চতুর্থ টেস্টে একপর্যায়ে মাত্র ৮৬ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে বসা স্বাগতিকদের ২৪৬ রান তুলে ফেলার ব্যর্থতার অনেকটা দায় অশ্বিনের। ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার স্যাম কুরান ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন ভারতীয় অফস্পিনারের চোখের সামনেই।

এদিকে ৭ তারিখ শুরু হতে যাওয়া সিরিজের সমাপনী ম্যাচে শেষ হতে যাচ্ছে একটি অধ্যায়ের। ওই ম্যাচের পরই অবসর নেবেন অ্যালিস্টার কুক। এ সিরিজটা তাঁর নিজের জন্য হতাশার বলেই কিনা, মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই টেস্ট ক্যাপ তুলে রাখছেন ইংলিশ ওপেনার। এএপি

খেলা- এর আরো খবর