English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কাপ নয়, নজর ভালো ফুটবলে

এশিয়ান গেমসের হাওয়ায় হঠাৎ প্রত্যাশা বেড়ে গেছে ফুটবলে। গেমস শেষ করে আসা তরুণ ফুটবলারদের কাছে সবাই যেন সাফ শিরোপার দাবি জানিয়ে বসেছে। সিনিয়র দলে তাঁরা কতটুকু কী করতে পারবেন কিংবা সেই সামর্থ্য তৈরি হয়েছে কি না, সেটাও কেউ বিবেচনা করছে না। শিরোপার চাপে না আবার পিষ্ট হয়ে তাঁরা স্বাভাবিক খেলা ভুলে যান। এই শঙ্কা নিয়ে সনৎ বাবলার ধারাবাহিকের শেষ পর্ব আজ

  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

স্বপ্নটা এশিয়ান গেমস-জাত, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সৌজন্যে। কিন্তু সাফের লড়াই সিনিয়র দলের। বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডের চ্যালেঞ্জও তাই আলাদা, এশিয়ান গেমসের সঙ্গে তুলনা করলে সাফ একদম আলাদা চরিত্রের টুর্নামেন্ট। সিনিয়র জাতীয় দলের খেলা এটা, প্রত্যেক দেশের অভিজ্ঞ এবং সেরা খেলোয়াড়রা খেলবে। তাই সাফের চ্যালেঞ্জও হবে আলাদা।

এশিয়ান গেমসে দেশের ফুটবলে একটা ম্যাজিক হয়েছে। ক্ষয়ে যাওয়া ফুটবলে দেখা গেছে তারুণ্যের ঝলক। ফুটবলের সেই মায়াজালে শুরু হয়েছে নতুন স্বপ্নের বুনন। ১৫ বছর পর দেশের মাঠে আবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ রাঙিয়ে যাবে লাল-সবুজে।

কদিন আগেও প্রত্যাশাহীন বাস্তবতায় ছিল ফুটবলের ঘরবসতি। এশিয়াড শেষে যেন কী হলো, সবাই ঢুকে গেল সাফের ঘোরে! শিরোপা বিনা কিছুতেই যেন আর মন ভরে না। ২০০৩ সাফজয়ী দলের কীর্তিমানরা এসেও উত্তরসূরিদের চোখে স্বপ্নের ঘোর লাগিয়ে দিচ্ছেন, তোমরা পারবে। ১৫ বছর পর সাফ শিরোপা ফিরিয়ে আনতে পারবে। আমরা সবাই পাশে আছি। নিজেদের উজাড় করে দিয়ে নির্ভীক হয়ে খেলো। পূর্বসূরিদের এ কথায় প্রেরণা আছে, সামনে এগোনোর শক্তি আছে। সঙ্গে কি বাড়তি চাপও যোগ হলো! সাবেক তারকা আলফাজ আহমেদ কিন্তু শিরোপার শর্ত জুড়ে দেওয়ার পক্ষে নন, এটা তরুণ দল। তাই শিরোপার কথা না বলে তাদের শুধু ভালো ফুটবল খেলার জন্য উৎসাহিত করা উচিত। সাফজয়ী ওই দলটায় আমরা অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিলাম, চাপ সামলানোটা শিখে ফেলেছিলাম। এরা নতুন, সেটা শেখেনি এখনো। ২০০৩ সাফে ফাইনালের আগে এক অদ্ভুত চাপের মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁরা। কোচ-খেলোয়াড় সবাই মিলে কেঁদেছিলেন। ফাইনালে একটু ভুলচুক হলেই স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে যাবে। এই আশঙ্কায় সাদ-সুফিলদের মাথায় শিরোপা চাপের বোঝা তুলে দিতে চান না সাবেক এই ফরোয়ার্ড।

সাফের এই বোঝাটা বাংলাদেশের জন্য ভীষণ ভারীও বটে। এবার চার দলের গ্রুপে তাদের সঙ্গে আছে নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান। গত ১০ বছরে কখনো গ্রুপের সীমা টপকে সেমিফাইনালে পৌঁছুতে পারেনি তারা। সর্বশেষ তিন আসরে ৯ ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র একটি, ২০১৫ সাফে ৩-০ গোলে হারায় ভুটানকে। ৭ গোল দিয়ে খেয়েছে ১৬ গোল। আড়াই বছর পর সেই দলে হঠাৎ শিরোপা স্বপ্ন ওড়াউড়ি একটু বাড়াবাড়ি বৈকি! স্বপ্নটা এশিয়ান গেমস-জাত, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সৌজন্যে। কিন্তু সাফের লড়াই সিনিয়র দলের। বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডের চ্যালেঞ্জও তাই আলাদা, এশিয়ান গেমসের সঙ্গে তুলনা করলে সাফ একদম আলাদা চরিত্রের টুর্নামেন্ট। সিনিয়র জাতীয় দলের খেলা এটা, প্রত্যেক দেশের অভিজ্ঞ এবং সেরা খেলোয়াড়রা খেলবে। তাই সাফের চ্যালেঞ্জও হবে আলাদা। সুতরাং এশিয়ান গেমসের চেয়ে সাফের চ্যালেঞ্জ কঠিন। এটা নেওয়ার জন্য তরুণরা তৈরি কি না, সেটাও একটা ব্যাপার। ইংলিশ কোচ চেয়েছিলেন তারুণ্য-অভিজ্ঞতার মিশেলে সাফের দল তৈরি করতে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সিনিয়রদের পারফরম্যান্স তাঁকে একটু হতাশই করেছে। সেই ম্যাচ হারে তিনি তরুণদের দিকেই ঝুঁকে আছেন। দলের এই পালাবদল স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও বটে। পুরনোরা বিদায় নেবে, নতুনরা আসবে।

ঢাকার এই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ফুটবলের সেই পালাবদলের টুর্নামেন্ট। সিনিয়ররা আস্তে আস্তে বিদায় নেবেন, ফুটবলের পতাকা হাতবদল হয়ে যাবে সুফিল-সুশান্তদের কাছে। মাত্রই তাঁরা এশিয়ান গেমস ফুটবলে অফুরন্ত স্ট্যামিনার ছবি এঁকে ফিরেছেন। নতুন এই ছবিতে যখন আশার সঞ্চার হয়েছে তখন তাঁদের মানিয়ে নেওয়ার সময়টুকুও দিতে হবে। বয়সভিত্তিক দলের গণ্ডি পেরিয়ে সিনিয়র দলে যাওয়া মানে আরো কঠিন লড়াই। তাঁদের তৈরি হওয়ার সময়টুকু দিতে চান বাফুফের সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ। জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান সাফ শিরোপাকে একমাত্র লক্ষ্য না ধরে তরুণদের কাছে উপভোগ্য ফুটবল চান, এশিয়াডে এই তরুণ দলের খেলা আমাকে উৎসাহী করে তুলেছে। তারাই দেশের ফুটবলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। চ্যাম্পিয়ন সবাই হতে চায়, সেটা হলে দারুণ ব্যাপার হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই তাদের ভালো খেলা। তাদের চমৎকার খেলা দেখার জন্যই আমি মাঠে যাব।

জেমি ডেকে নিয়োগ দিয়ে খুব বিপদেই পড়েছিলেন নাবিল আহমেদ। একদম তাঁর নিজের পছন্দ ছিল এই ইংলিশ কোচ। কিন্তু এই কোচের বায়োডাটা অনেকের মনে ধরেনি। ইংলিশ ফুটবলের পঞ্চম বিভাগের কোচের হাতে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়াটা অনেকের ভালো লাগেনি। তাই সমালোচনার তীরও সইতে হয়েছিল জাতীয় দল কমিটির প্রধানকে। সাম্প্রতিক অতীতকে সামনে টেনে তিনি সহাস্যে বলেছেন, প্রোফাইলধারী কোচের পেছনে না দৌড়ে যিনি নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে চান এ রকম এক তরুণ কোচকে এনেছি। তাই সমালোচনা হয়েছে এবং আমি হাসিমুখেই নিয়েছিলাম। এখন এশিয়ান গেমসের পর প্রশংসাটুকুও নিশ্চয়ই আমার প্রাপ্য...। এরপর জেমির দলের কথায় ফিরে গিয়ে বলেন, জেমির হাতে এই দলের রংবদলটা অবশ্যই দেখার মতো। আমার বিশ্বাস এই তরুণরা ধাপে ধাপে এ দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নেবে, হয়তো একটু সময় লাগবে।

জেমি এবং তাঁর দুই সহকারী মিলে জুন থেকে কাজ করছেন জাতীয় দল নিয়ে। তৈরি হয়েছে একটি লড়াকু ফুটবল দল। যারা শারীরিক সামর্থ্য দিয়ে ফুটবলীয় ঘাটতিটুকু ঢেকে দিতে চায়। যারা হারার আগে হারতে রাজি নয়। আড়াই মাসে এর চেয়ে বেশি বদলানো যায় না। এই বদলে সাফের গ্রুপ উতরানো গেলেও কম নয়। ১০ বছর পর বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলবে। প্রত্যাশার পারদ আর না চড়ানোই ভালো।

খেলা- এর আরো খবর