English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

মডরিচের মঞ্চে যে কারণে ছিলেন না রোনালদো

  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

লিওনেল মেসি যে আসবেন না, তা আগেই জানা। উয়েফার বর্ষসেরা ফুটবলারের সেরা তিনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা হয়নি তাঁর। সেরা তিন ফরোয়ার্ডে থাকলেও তা জয়ের সম্ভাবনাও প্রায় শূন্যের কোঠায়। শূন্য হাতে ফিরে যাওয়ার জন্য তাই মোনাকো যাবেন কেন বার্সেলোনার মহাতারকা? তাই বলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও আসবেন না!

পুরনো ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে গত মৌসুমে তাঁর চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স। দলের টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে করেছেন সর্বোচ্চ ১৫ গোল। টানা তৃতীয়বার উয়েফার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের তাই ফেভারিট ছিলেন রোনালদো। কিন্তু মোনাকোর জমকালো অনুষ্ঠানে তাঁর অনুপস্থিতিতেই দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে ফেলেন অনেকে। সেরাদের সেরা হতে না পারলে সে অনুষ্ঠানে যে সাধারণত যান না রোনালদো! ঠিকই তাঁকে পেছনে ফেলে উয়েফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন ক্রোয়েশিয়া ও রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ।

গেল মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ইউরোপা লিগের গ্রুপ পর্বে খেলা ৮০ কোচ এবং উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশের একজন করে সাংবাদিক এই ১৩৫ জন ছিলেন বিচারক। প্রত্যেকে নিজের পছন্দের সেরা তিনজন খেলোয়াড়কে বেছে নিয়েছেন। প্রথম পছন্দের জন্য ৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় পছন্দের ৩ এবং তৃতীয় পছন্দের জন্য ১ পয়েন্ট। তাতেই সাকল্যে ৩১৩ পয়েন্ট পেয়ে বিজয়ী মডরিচ। সেরা তিনের বাকি দুজন রোনালদো (২২৩ পয়েন্ট) ও মোহামেদ সালাহ (১৩৪)।

পজিশন-ভিত্তিক সেরা ফুটবলারের পুরস্কারে শতভাগ সাফল্য চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাজয়ী রিয়াল মাদ্রিদের। সেরা গোলরক্ষক কেইলর নাভাস (২২২ পয়েন্ট)। সেরা ডিফেন্ডার রামোস (১৮৪)। সেরা মিডফিল্ডার তো অবশ্যই মডরিচ (৩৪৭)। আর সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার না জিতলেও সেরা ফরোয়ার্ডে সালাহ (২১৮) ও মেসিকে (৪৩) পেছনে ফেলে বিজয়ী রোনালদো (২৮৭)।

মোনাকোর এই অনুষ্ঠানে পাদপ্রদীপের আলোয় সবচেয়ে বেশি করে ছিলেন মডরিচ। এমন এক পুরস্কার জয়ের গর্ব তাঁর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়, আমার জন্য এটি অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত। এই পুরস্কার পেয়ে আমি গর্বিত ও রোমাঞ্চিত। আমাকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ আমার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে; আমার কোচদের এবং সতীর্থদের, যাঁরা ভালো-খারাপ সব সময় আমার পাশে থেকেছেন। আমার এই পুরস্কার তাঁদেরও। সময়টাকে ক্যারিয়ারের সেরা হিসেবেও মানছেন ৩২ বছরের এই ক্রোয়াট, নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, এটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা বছর। সেরা দলীয় হিসেবে যেমন, তেমনি ব্যক্তিগত অর্জনের দিক দিয়েও। সময়টা আমি সত্যি খুব উপভোগ করছি। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাবার প্রতি, বাবা আমাকে সব সময় স্বপ্নের পেছনে ছোটার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। আমার সব অর্জনই তাঁর জন্য। এই শিখরে পৌঁছার জন্য আমি প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি। আর রিয়াল মাদ্রিদের পুরনো সতীর্থ রোনালদোর না থাকায় মন খারাপ হওয়ার কথাও জানান মডরিচ, ক্রিস্তিয়ানো এখানে না থাকায় আমার মন খারাপ হয়েছে। আমি নিশ্চিত, যথার্থ কারণের জন্যই ও আসতে পারেনি। ওকে দেখতে পেলে ভালো লাগত। আশা করছি, শিগগিরই অন্য কোথাও আমাদের দেখা হয়ে যাবে।

নিশ্চিতভাবেই প্রচণ্ড মন খারাপ রোনালদোরও। ক্ষুব্ধ, ক্রুদ্ধও তিনি। এই উয়েফার বর্ষসেরা পুরস্কারে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রভাব যে অনেক বেশি, চার পজিশনে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের পুরস্কার জয়ে তা বোঝা যায়। সেই টুর্নামেন্টে রোনালদোর ১৫ গোল আর মডরিচের গোল-অ্যাসিস্ট মোটে একটি করে। সে কারণেই হয়তো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যাননি ওই পর্তুগিজ। পুরনো সতীর্থের বিপক্ষে নিজের ক্রুদ্ধতার প্রকাশ তো আর করতে পারেন না, তবে রোনালদোর এজেন্ট হোর্হে মেন্দেস ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছেন ওই ক্যাম্পের প্রতিক্রিয়া, চ্যাম্পিয়নস লিগে ক্রিস্তিয়ানো ১৫ গোল করেছে, রিয়াল মাদ্রিদকে আরেকটি শিরোপা জেতানোর পথে টেনে নিয়ে গেছে। তবু ওর সেরা না হওয়াটা হাস্যকর; বিব্রতকরও বটে। আমি তো মনে করি, এ পুরস্কার কে জিতবে, তা নিয়ে কোনো দ্বিধাই থাকা উচিত নয়।

তাও দ্বিধা ছিল। সে দ্বিধার জয়ে উয়েফার বর্ষসেরার পুরস্কার জিতেছেন মডরিচ। কে জানে, ফিফা দ্য বেস্ট এবং ব্যালন ডিঅরে রোনালদো-মেসির দিন ফুরোনোর ইঙ্গিতও তা বহন করছে কি না! উয়েফা, মার্কা

খেলা- এর আরো খবর