English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

শুধুই একটা ফাইনাল নয়

  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

জাকার্তা থেকে প্রতিনিধি : ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে মর্যাদার ম্যাচ। হোসে মরিনহোর দলের মাঠ থেকেই ৩-০ গোলে জিতে এসেছে টটেনহাম। অথচ দলের সেরা তারকা সন হিউং মিন এখন ইন্দোনেশিয়ার পাকানসারিতে। টেলিভিশনেও দেখেননি নিজের ক্লাবের জয়! জাতীয় দলের হয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জেতাটা এর চেয়ে হাজার গুণ বেশি গুরুত্বের তাঁর কাছে। কারণ সোনা না পেলেই ফুটবল ছেড়ে যেতে হতে পারে সেনাবাহিনীর ব্যারাকে! সপ্তাহে ৮৫ হাজার পাউন্ডের বেতন মাসে কমে দাঁড়াবে ২৭৫ ডলারে। শুধু তিনি নন, দক্ষিণ কোরিয়ান দলের ২০ ফুটবলারকে যেতে হতে পারে দেশের সেবায় সেনাবাহিনীতে। আজকের ফাইনালে জাপানকে হারিয়ে তাই সোনা জিততে মরিয়া সন, টটেনহামের ম্যাচটি দেখা হয়নি, ইন্দোনেশিয়ায় অনেক রাত তখন। দলের জয়ে ভীষণ খুশি আমি। সবাই জানেন কেন এশিয়ান গেমস গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। আমরা এর জন্যই লড়াই করব। মনে হয় না এ নিয়ে কিছু বলার দরকার আছে, সবাই জানেন আপনারা।

দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী সুস্থ যেকোনো যুবককে ২৮ বছর হওয়ার আগে সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হবে অন্তত ২১ মাস। অ্যাথলেটদের জন্য ছাড় আছে কিছুটা। এ জন্য জিততে হবে এশিয়ান গেমসে সোনা। আর অলিম্পিকে যেকোনো পদক পেলেই চলবে। এশিয়ান গেমসের গত আসরে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তখনকার দল বেয়ার লেভারকুসেন না ছাড়ায় সেবার খেলা হয়নি সন হিউং মিনের। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের সময় বয়স ২৮ ছাড়িয়ে যাবে বলে আজই শেষ সুযোগ সনের। দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ কিম হাক বুমও চান সন আর দলের বাকি খেলোয়াড়দের যেন সেনাবাহিনীতে যেতে না হয়। রেকর্ড পঞ্চম এশিয়ান গেমস জিততেও মুখিয়ে তিনি, আমরা ইরানের সমান চারবারের চ্যাম্পিয়ন। এবার জিতে ইতিহাস গড়তে চাই।

দুই দলের ম্যাচের আগে জাপানি মিডিয়ায় ঘোরে নিকানসেন শব্দটি। এর অর্থ যুদ্ধ। আজও একটা যুদ্ধই, তা যতই এশিয়ান গেমসের লড়াই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হোক না কেন? জাপান আবার টোকিও অলিম্পিক মাথায় রেখে পুরো দল গড়েছে অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলারদের নিয়ে। ২৩ বছরের বেশি তিনজন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নেয়নি কাউকে। জাপানি কোচ হাজিমে মরিইয়াসু এ জন্যই জানালেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সব সময় উপভোগ্য ম্যাচ হয় আমাদের। ছেলেরা সবাই আত্মবিশ্বাসী ফাইনালটা স্মরণীয় করতে। ওদের বয়স কম, তাই চাপে নেই কেউ।

আজকের ফাইনালটা সোনা নয়তো সেনাতে যাওয়ার বলে নিজেদের সেরাটা খেলতে চান সন, আমরা ইতিহাস গড়তে চাই। এটা জাতীয় নয় তরুণদের দল। ওদের আত্মবিশ্বাস মুগ্ধ করার মতো। এখন মুগ্ধ করার মতো একটা ফাইনালের অপেক্ষায় সবাই।

খেলা- এর আরো খবর