English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

পুরনোদের সংবর্ধনা নতুনদের শুভ কামনা

বসুন্ধরা কিংস-বিএসপিএ ফুটবল স্টারস ২০০৩ ও ২০১৮

  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফারস হোটেলের বিশাল হলরুমে ঢুকেই যেন ১৫ বছর পেছনে ফিরে যাওয়া। একটা আলোকিত দিনে, একটা উত্সবের মুহূর্তে নিজেকে আবিষ্কার করা। সেই উত্সব দেশের মাটিতে প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের। ২০০৩ সালের সেই স্মৃতির ছবিমালা হলরুমের দেয়ালে দেয়ালে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই বীরদের মাঝেও নিজেকে খুঁজে পাওয়া। কী আশ্চর্য, একে একে ঢুকছেন যে রজনী, আলফাজ, আরমান, মনি, কাঞ্চনরা! বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্ত এনে দেওয়া এই খেলোয়াড়রা আবার এক হয়েছিলেন এখনকার জামাল, সুফিল, মামুন, জাফরদের শুভ কামনা জানাতে।

আবারও যে সাফ ফুটবলের দামামা বেজেছে দেশের মাটিতে। পুরনো সাফল্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে নতুনদের উজ্জীবিত করতেই এই মিলনমেলার আয়োজন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির। সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগের নতুন ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। ফুটবলে নাম লিখিয়েই যারা ক্লাব ফুটবলের খোলনলচে বদলে দিতে শুরু করেছে। সেই কিংসের পৃষ্ঠপোষকতাতেই আয়োজন ফুটবল স্টারস : ২০০৩ ও ২০১৮। বসুন্ধরা কিংসের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ১৫ বছর আগের সাফ জয়ী দলের কীর্তিকে স্মরণ করে এবারের দলকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

বিজয়ী দলের খেলোয়াড় আর বর্তমান দলের খেলোয়াড়রা এক হয়েছেন। পুরনোরা ভাগাভাগি করেছেন তাঁদের অভিজ্ঞতা। নতুনরা তারই জোরে শপথ নিয়েছেন আরেকটি বিজয়ের। ২০০৩-এর বিজয়ী খেলোয়াড়দের স্বাক্ষর করা বল তুলে দেওয়া হয়েছে নতুনদের হাতে। তাঁদের হাত দিয়েই ফুলেল শুভেচ্ছা পেয়েছে এই প্রজন্ম। তবে এ সবই প্রতীকী আয়োজন। নতুনদের মাঝে সেই একই জয়ের তৃষ্ণাটা ছড়িয়ে দিতেই যেন প্রাণান্ত চেষ্টা ছিল আলফাজ, আমিনুল, আরমানদের। আরমান মিয়া সেই ফাইনালের আগের রাতের স্মৃতি স্মরণ করেন, রাত ২টায় আলফাজকে দেখি আমার রুমে। বলছেভাই, নামাজ পড়ে এলাম। সেই দলের দলনেতা শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর স্মরণ করেন দুই কার্ডের কারণে ফাইনাল খেলতে না পারা রজনী কেন হাসান আল মামুনকে আর্মব্যান্ড পরিয়ে দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। কিভাবে অস্ট্রিয়ান কোচ শিষ্যদের কাছে নিজের চাওয়া বর্ণনা করতে গিয়ে গোটা দলকে অশ্রুসিক্ত করেছিলেন, পাশাপাশি এই বলে উজ্জীবিত করেছিলেন, তোমাদের ঘরের মাঠে এই ফাইনাল। তোমরাই ঠিক করবে কারা জিতবে আর কারা হারবে।

সেমিফাইনালের পর সেই ফাইনালেও গোল করে দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বরেণ্য খেলোয়াড় হয়ে থাকা রোকনুজ্জামান কাঞ্চন কাল অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগে সবার প্রথমে এসে হাজির। নতুনদের আনুষ্ঠানিক শুভ কামনা জানানোর আগেই সবার সঙ্গে বুক মিলিয়ে তাঁর আলাদা ভালোবাসা জানানো শেষ। কিছু সময় বসে থাকলেন জামাল, সুফিলদের সঙ্গেই। সেই দলের অন্যতম খেলোয়াড় পারভেজ বাবু এখন অনূর্ধ্ব-১৫ দলের কোচ। দল নিয়ে ক্যাম্প করছেন নীলফামারী স্টেডিয়ামে। কিন্তু সাফের আগে নতুনদের শুভ কামনা জানানো থেকে দূরে থাকতে পারেননি। গতকালই সৈয়দপুর থেকে ফ্লাইটে ঢাকায় এসে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। ২০০৩-এ আর্জেন্টাইন হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন নামে খ্যাতি পেয়ে যাওয়া মিডফিল্ডার আরিফ খান জয় এখন ক্রীড়া উপমন্ত্রী। কিন্তু পুরনো সতীর্থদের এই মিলনমেলা আর নতুনদের শুভ কামনা জানানোর সুযোগটা তিনিও হাতছাড়া করতে চাননি। তাঁর সরল স্বীকারোক্তি, এই একটা টুর্নামেন্ট আমার জীবন বদলে দিয়েছে। তোমরাও পারো এবারের আসর দিয়ে তোমাদের ক্যারিয়ার বদলে দিতে আর গোটা বাংলাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। ১৫ বছর বাংলাদেশ এই শিরোপা থেকে বঞ্চিত। প্রথম ও একমাত্র সেই ট্রফি হাতে তোলা অধিনায়ক রজনী কালও আবেগসিক্ত, বলছিলেন, কাতার, থাইল্যান্ডের বিপক্ষে (এশিয়ান গেমসে) যে ম্যাচ খেলেছ তোমরা, এই খেলাটাই শুধু ধরে রেখো। তোমাদের দিয়েই যেন আবার আমরা সাফ ট্রফি ফিরে পাই। ২০০৩-এর অধিনায়ক হিসেবে এটাই আমার চাওয়া তোমাদের কাছে।

বর্তমান প্রজন্মের এরপর প্রতিশ্রুতি না দিয়ে উপায় থাকে না। এশিয়ান গেমসে কাতারের বিপক্ষে গোল করা জামাল ভুঁইয়া তো এমনও বললেন, আমরা তোমাদের ভুলিয়ে দেব। এই বছরটা হবে আমাদের। সিনিয়র খেলোয়াড় মামুনুল ইসলাম বলেছেন, আমরা কয়েকজন আছি এই দলে যাঁদের এটাই হতে পারে শেষ সাফ। সতীর্থদের কাছে তাই অনুরোধই করব একটা শিরোপা দিয়ে আমাদের বিদায় দাও। ইংলিশ কোচ জেমি ডে-ও প্রতিশ্রুতি দিলেন এই বলে যে, ১২টি সপ্তাহ এই খেলোয়াড়রা কঠিন পরিশ্রম করেছে। আমি এখন বলতে পারি ওরা সাফের জন্য তৈরি। নিশ্চিতভাবেই পুরনোদের সাফল্য অনুপ্রেরণা হয়ে এই দলটিকে শক্তি জোগাবে। সাফ শিরোপার অপেক্ষা ঘোচাতে সবাই-ই এমন আকুল যে কাল অতিথি হয়ে এসে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও আরিফ খান জয় তখনই ঘোষণা দিয়ে দিলেন যে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তাঁরাই পাঁচ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার দেবেন। সন্দেহ নেই এমন অনেক পুরস্কারের বন্যাই বয়ে যাবে ২০০৩-এর সেই স্বর্ণালি সন্ধ্যা আবার ফিরিয়ে আনতে পারলে। সারা দেশের মানুষ যে কতটা তৃষ্ণার্ত ফুটবলের এই একটি ট্রফির জন্য গতকালের অনুষ্ঠানের পরতে পরতে তারই প্রকাশ এবারের খেলোয়াড়দেরও উদ্দীপ্ত না করে পারে না।

খেলা- এর আরো খবর