English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

লে খা র ই শ কু ল

অন্যায়ের প্রতিবাদে উচ্চকণ্ঠ হ্যারল্ড পিন্টার

  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ব্রিটিশ নাট্যকার, কবি ও চিত্রনাট্যকার হ্যারল্ড পিন্টার নাটকে অভিনয় করতেন, নাটকের নির্দেশনাও দিতেন। যুদ্ধ-পরবর্তী ব্রিটিশ নাটকের উত্থানে যাঁরা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন তাঁদের অন্যতম পিন্টার। দ্য রুম, দ্য বার্থডে পার্টি, দ্য হোমকামিং, নো ম্যানস ল্যান্ড, বিট্রেয়াল এগুলো তাঁর বিখ্যাত নাটকের কয়েকটি। প্রথম দিকের নাটকগুলোর কমেডি অব মেনাস নাম দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে কয়েকটি নাটককে মেমোরি প্লেস বলা হয়। একটা সাধারণ শৈলী হিসেবে পিন্টারের নাটকে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চরিত্রদের কথা বলার মাঝখানের নৈঃশব্দ্য। নৈঃশব্দ্যের ভেতর দিয়ে চরিত্রদের মাঝের সম্পর্ক প্রকাশ পায়। এ শৈলীটি তাঁর নাটকের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে গেছে বলে এটি পিন্টারেস্ক হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গেছে। এ বিষয়ে পিন্টার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা বাঁকা ভঙ্গিতে উল্লেখ করেন, ওই নৈঃশব্দ্যগুলো এতটাই তাত্পর্য অর্জন করেছে যে তাঁর খোদ নাটকগুলোকেই বিমূঢ় করে দিয়েছে। সে জন্যই এ শৈলীটাকে তাঁর নিজের অস্বস্তির কারণ বলেই মনে করেছেন তিনি।

হ্যারল্ড পিন্টারের নাটকে সাধারণ বিষয় হিসেবে বেশি এসেছে মানুষের সম্পর্কের মধ্যে যোগাযোগের অক্ষমতা। নাটকের সংলাপ বেশির ভাগ সময়ই সোজাসাপটা হলেও ক্ষমতার ভারসাম্য, শ্রেণিসচেতনতা কিংবা লিঙ্গবিভাজনের মতো বিষয়, যেগুলো সম্পর্কের প্রকাশমাধ্যম হিসেবে কাজ করে, সেগুলো আপাতসহজ সংলাপের মধ্যেই থাকে। তাঁর নাটকে মাঝেমধ্যে সহিংসতার উপস্থিতিও দেখা যায়। তবে প্রায়ই করুণ রসের ধারাও বয়ে যায় নাটকে। হ্যারল্ড পিন্টার নাটকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির উপস্থাপনাও ঘটান। বিশেষ করে শাসকশক্তির বিরুদ্ধে দ্রোহ তৈরি করে তাঁর নাটক।

হ্যারল্ড পিন্টার লেখকের দায়বদ্ধতার দিক থেকে ছিলেন শতভাগ সচেতন। বিশ্বের যখন যেখানে ক্ষমতাধররা নিরীহদের ওপর অত্যাচার করেছে, তখনই তিনি তাঁর অবস্থান থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ, ১৯৯৯ সালে কসোভোর যুদ্ধে যুগোস্লাভিয়ায় ন্যাটোর বোমা বর্ষণ, যুক্তরাষ্ট্রের ২০০১ সালের আফগানিস্তান যুদ্ধ এবং ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান পিন্টার। ক্ষমতাবাজ রাষ্ট্রনায়কদের প্রতিও তিনি কঠোর মন্তব্য প্রকাশ করেন। বুশকে সমর্থন জানানোর কারণে তাঁর দেশের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে তিনি বেঘোর বেকুব বলেন। অন্যদিকে মার্কিন বুশ প্রশাসনকে তিনি নািস জার্মানির সঙ্গে তুলনা করেন। পিন্টার যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন। স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশনের শোভাযাত্রায় বক্তব্য দেন তিনি। ইন্টারন্যাশনাল পিইএনের অফিসার হিসেবে তিনি ১৯৮৫ সালে আর্থার মিলারের সঙ্গে তুরস্ক সফর করেন বন্দি লেখকদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানাতে। কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানানোর লক্ষ্যে গঠিত ব্রিটিশ সংগঠন কিউবা সলিডারিটি ক্যাম্পেইনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন পিন্টার। এগুলো ছাড়া তিনি আরো অনেক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বিশ্বব্যাপী অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

২০০৯ সালে হ্যারল্ড পিন্টারের সম্মানে পিইএন পিন্টার প্রাইজ ও পিন্টার ইন্টারন্যাশনাল রাইটার অব কারিজ অ্যাওয়ার্ড নামে দুটি সাহিত্য পুরস্কার চালু করা হয়। পিন্টার নিজে ইংলিশ পিইএনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং ইন্টারন্যাশনাল পিইএন রাইটার্স ইন প্রিজন কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কোনো লেখক নিজের বিশ্বাসের কথা তাঁর লেখায় প্রকাশ করার কারণে কোনো রাষ্ট্রশক্তি কর্তৃক নির্যাতন কিংবা স্বৈরাচারী বিচারের শিকার হয়ে থাকলে তাঁকে পিন্টারের নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরস্কার দেওয়া হয়। কোনো প্রকাশনা স্বাধীনতা ও সাহসের সঙ্গে ভালো লেখা প্রকাশ করে থাকলে সে প্রকাশনাকেও পিইএন পিন্টার পুরস্কার দেওয়া হয়।

►দুলাল আল মনসুর

শিলালিপি- এর আরো খবর