English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

অন্তঃকোন্দলে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপি কমিটি বাতিল!

  • রাঙামাটি প্রতিনিধি   
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

রাঙামাটিতে বিএনপির কাপ্তাই উপজেলা শাখার কার্যকরী কমিটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক দীপেন তালুকদার দীপু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হওয়া, সমন্বয়হীনতা ও অন্তঃকোন্দলে লিপ্ত থাকার মতো দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে কমিটি বাতিল করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হওয়ায় বিগত ৬ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির জরুরি সভায় সিদ্ধান্তক্রমে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির কার্যকরী কমিটি বাতিল করা হইল।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু জানান, এর আগেও একবার কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির এ কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। দুই মাস আগে দল পরিচালনার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু তারা নিজেরা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সংগঠনের কেন্দ্র ও জেলা ঘোষিত কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এহেন কার্যক্রম ও দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে জেলা বিএনপি সিদ্ধান্তক্রমে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির কমিটি বাতিল করেছে।

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মামুন বলেন, জেলা বিএনপির সব সিদ্ধান্ত মেনে নিতে আমরা বদ্ধপরিকর। আর জেলা বিএনপি বুঝেশুনে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি দলবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত। তিনি সরকারি দলের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা বিএনপিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। তাই আমি মনে করি, জেলা বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

তবে বাতিল ঘোষিত কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, কাপ্তাইয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত সব কর্মসূচিই পালিত হয়েছে। আর দলীয় অন্তঃকোন্দলের যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো জেলা বিএনপির নেতারাই সৃষ্টি করেছেন। যার প্রভাব পড়েছে উপজেলাগুলোতেও এবং জেলা বিএনপি মূলত এ দ্বন্দ্বগুলো জিইয়ে রাখতে চায়। জেলা বিএনপির নেতারা এসব দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখে নিজেরা ফায়দা লুটছেন। তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে অর্থনৈতিক ব্যাপারে জর্জরিত। তিনি আরো বলেন, আমরা জনপ্রতিনিধি হয়ে কখনোই দ্বন্দ্ব, অন্তঃকোন্দল চাই না। আর এ কার্যকরী কমিটি বাতিলের আগে আমাদের জেলা বিএনপি কোনো ধরনের কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়নি। তারা নোটিশ দেওয়ার পর আমরা নোটিশের উত্তর দিতে না পারলে তারা তখন একটা ব্যবস্থা নিত। আমি বলব এটা মূলত তাদের রাজনৈতিক দৈন্যতা ও নিজের ইচ্ছাশক্তির বাস্তবায়ন।

দিলদার আরো বলেন, জেলা বিএনপি নানা সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাজে যায়। কিন্তু তা উপজেলা বিএনপিকেই জানানো হয় না। এতে তারাও তো

দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজ করছে। তারা মূলত দায়িত্বে থেকে দালালি ও স্বেচ্ছাচারিতা করছে। তাদের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত কাপ্তাই উপজেলার মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন- এর আরো খবর