English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

বাঁশখালীতে বন্য হাতির তাণ্ডব

  • বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রজারপাড়ায় হাতির আক্রমণে মরিয়ম খাতুন (৬২) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। একই ওয়ার্ডের নতুনপাড়ায় মো. শোয়েবুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি নিহত পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং আহত পরিবারকে ৫ হাজার টাকা নগদ আর্থিক সহযোগিতা করেন। কালীপুর রেঞ্জার রইসুল ইসলামও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া পুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিন আহত পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে নগদ ৫ হাজার টাকা সহযোগিতা করেন।

নিহত মরিয়ম খাতুনের ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে আছে। এক ছেলে সৌদি আরব ও আরেক ছেলে ওমান প্রবাসী। বড় ছেল আক্কাস কৃষক। তাঁর খোঁজ করতে গিয়েই রাতে হাতির আক্রমণে মরিয়ম মারা যান। মরিয়মের স্বামীর নাম ছিদ্দিক আহমদ।

ঘটনাস্থল ঘুরে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ৩টা নাগাদ রজারপাড়ার ছিদ্দিক আহমদের বাড়ির উঠানে দুটি হাতি আসে। উঠানে আছে গোয়ালঘর। হাতি দুটি আসার কারণে গোয়ালঘরে রাতের বেলা গরুগুলো অস্বাভাবিকভাবে ডাক দিতে থাকে।

ছিদ্দিক আহমদের বড় ছেলে আক্কাস আহমদ চোর গরু নিয়ে যাচ্ছে মনে করে পাকা বাড়ির লোহার গেট খুলে দেখেন উঠানে হাতি। আক্কাসও চিত্কার করে দৌঁড়ে পালিয়ে যান। আক্কাসের মা মরিয়ম খাতুন ছেলের চিত্কারে ঘর থেকে বের হন। ছেলেকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে একটি হাতি শূঁড় দিয়ে মরিয়ম খাতুনকে ছুড়ে মারে। এ দৃশ্য দেখে পরিবারের সবাই চিত্কার করতে থাকলে মরিয়ম খাতুনকে একটি হাতি পা চাপা দিয়ে ডান পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় মরিয়ম মারা যান। একই হাতির দল পাশের নতুনপাড়ায় আক্রমণ করে মো. শোয়েবুল ইসলামকে গুরুতর আহত করে। তিনি এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তাঁর বাড়ি আংশিক ভাঙচুর করেছে হাতি। হাতির দল ঘরে ধাক্কা দেওয়ার সময় ঘর থেকে বের হলে শোয়েবুল আহত হন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ আহমদ বলেন, প্রতিদিন হাতির আক্রমণে অতিষ্ঠ পুকুরিয়াবাসী। গত এক মাসে অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করেছে। সর্বশেষ মরিয়ম খাতুনকে হাতি মেরে ফেলল। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।

বাঁশখালী থানার এস আই বিমল কুমার দাশ বলেন, পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসকের ফান্ড থেকে নিহত পরিবারকে ২০ হাজার টাকা ও আহত পরিবারকে ৫ হাজার টাকা নগদ আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। অন্যান্যদের আর্থিক সহযোগিতাও করা হবে।

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন- এর আরো খবর