English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজন

সাম্প্রদায়িকতা রোখার আহ্বান জন্মাষ্টমীতে

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ভক্তের ঢল

  • দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমীতে গতকাল চট্টগ্রাম নগরে (বাঁয়ে), কক্সবাজারের চকরিয়ায় (ডানে উপরে) এবং নোয়াখালীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে গতকাল রবিবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। আলোচনায় বক্তারা সাম্প্রদায়িকতা রুখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে :

চট্টগ্রাম : শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় কমিটি নগরে মহাশোভাযাত্রা বের করে। সকালে জে এম সেন হল প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শোভাযাত্রা নগরের বিভিন্ন সড়ক-উপসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে লাখো মানুষ অংশ নেন। এছাড়া জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রবিবার থেকে জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে চার দিনের উৎসব শুরু হয়েছে।

প্রধান শোভাযাত্রা ও উৎসবের পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়। স্থায়ী ও অস্থায়ী বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। সর্বত্র ছিল কৃষ্ণভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।

শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত জে এম সেন হল প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে মহাশোভাযাত্রা নগরের আন্দরকিল্লা মোড়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মহাপ্রভু শ্রী অঙ্গন, ঢাকার অধ্যক্ষ শ্রীল রাধাবিনোদ মিশ্রজী মহারাজ। এর আগে সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ অসামপ্রদায়িক দেশ। এখানে আমরা যার যার ধর্ম পালন করি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যে হায়েনার দল রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল তারা এদেশে অসামপ্রদায়িক চেতনা ধ্বংসের চক্রান্ত করেছে। এ দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের জন্য সনাতন সমপ্রদায় অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে আমরা পরিচালিত করব। আগামী নির্বাচনে আর যেন অশুভ শক্তির উত্থান না হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, বাংলাদেশের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সামপ্রদায়িকতা এর মধ্যে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সামপ্রদায়িকতা মোকাবিলা করতে হবে ধর্মের মর্মবাণী দিয়ে। আমরা নিজ নিজ ধর্ম পালন করব। একই সঙ্গে উৎসব পালন করব সবাই মিলে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ সেটি প্রতিষ্ঠার জন্য অগ্রসর হব। আমরা সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকি।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, কিছু অশুভ শক্তি যুগে যুগে সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের কমিটমেন্ট-একটি অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন আপনারা-সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। যত লড়াই এসেছে, সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ আপনাদের। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে এই অবদান ততদিন স্মরণে থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিষদের সহ-সভাপতি অলক দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, সংগঠনের সভাপতি গৌরাঙ্গ দে, সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোস্তাইন হোসেন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি দেবাশীষ পালিত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দন তালুকদার, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাখাল দাশগুপ্ত, বিএফইউজের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

এরপর ঢাক-ঢোল-করতাল আর আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের তালে-তালে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতিকৃতি, রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম মুহূর্তসহ বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন ভক্তরা। শোভাযাত্রায় ছিল শ্রীকৃষ্ণের গো-পালন ও মাখন চুরির দৃশ্যাবলি। ভক্তরা কৃষ্ণের রথ, কংসের কারাগারসহ কৃষ্ণের জীবনের নানা অংশের আদলে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। অনেক শিশুকে দেখা যায় বাবা-মায়ের কাঁধে-কোলে চড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে। বিভিন্ন মঠ-মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মিনি ট্রাক, ট্রেলারসহ নানা যানবাহনে চড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

এদিকে হাটহাজারী পৌরসভা সদরের সীতাকালী মায়ের কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে হাজারো কৃষ্ণভক্তের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। রবিবার দুপুরে শোভাযাত্রাটি সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে সীতাকালী মায়ের নাট মন্দির প্রাঙ্গণে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম। উদ্বোধক ছিলেন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কোর সদস্য মিলন শর্মা। উপজেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিপক কৃষ্ণ দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী। মুখ্য আলোচক ছিলেন শ্রীপাদ চিন্ময়কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী। আরো বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমান, অ্যাডভোকেট বাসন্তী প্রভা পালিত, উদয় সেন প্রমুখ।

অপরদিকে হাটহাজারী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে দেওয়ানগর শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মায়ের মন্দিরে আলোচনাসভা জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মাস্টার অশোক কুমার নাথের সভাপতিত্বে পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিমন মুহুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধক ছিলেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম। প্রধান অতিথি ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উন নেছা শিউলী। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় পূজা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলী আজম, অ্যাডভোকেট বাসন্তী প্রভা পালিত, ডা. অশোক কুমার দেব, বিশ্বজিৎ পালিত, দুর্গাপদ নাথ, শাহাজাদা স ম এনাম, অলক মহাজন, সেকান্দর উদ্দিন তুহিন, অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম বাবলু, মাস্টার পরিমল কান্তি দে, সুধীর রঞ্জন দে প্রমুখ। এরপর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এ ছাড়া ফতেয়াবাদ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে গতকাল সকালে চৌধুরীহাট এলাকায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রার পর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে ধর্মীয় আলোচনাসভা অনুষ্টিত হয়েছে।

মিরসরাই : উপজেলা জম্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে উপজেলা কেন্দ্রীয় জগদ্বেশ্বরী কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম পূজা পরিষদের সাবেক সভাপতি দিলীপ কুমার মজুমদার। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে গীতা পাঠ, হরিনাম সংকীর্তনসহ শ্রীকৃষ্ণপূজার আয়োজন করা হয়।

শোভাযাত্রা শেষে কালীবাড়ি কমিটির সভাপতি সুদর্শন রায়ের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইয়াছমিন আক্তার কাকলী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য শেখ আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের আহবায়ক উত্তর শর্মা, উপজেলা জম্মাষ্টমী পরিষদের সভাপতি সুভাষ সরকার প্রমুখ।

রাঙামাটি : সকালে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমর কুমার দের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম শফি কামাল ও সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।

অন্যদিকে একই সময় শহরের তবলছড়ি মাঝের বস্তি এলাকার শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। এতে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, এনডিসি, জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (সদর) এইচ এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

চকরিয়া : ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কক্সবাজারের চকরিয়ায় চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ চকরিয়া ও নিত্যানন্দ গীতা সংঘের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানমালার মধ্যে গতকাল রবিবার প্রথমদিন সকালে পৌরশহরের চিরিঙ্গা কেন্দ্রীয় হরিমন্দির থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা।

এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজারো নর-নারী বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে যোগ দেন। শোভাযাত্রাটি মন্দির থেকে বের হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং চকরিয়া থানা সেন্টার থেকে ফুলতলা দিয়ে ফের মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে মন্দির প্রাঙ্গণে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ডা. তেজেন্দ্র লাল দের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম।

জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া পৌরসভার সভাপতি নারায়ণ কান্তি দাশের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়ার সভাপতি রতন বরণ দাশ ও সাধারণ সম্পাদক মুকুল কান্তি দাশ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ।

আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় হরিমন্দির উন্নয়ন কমিটির সভাপতি প্রদীপ দাশ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রীদুল রঞ্জন দাশ, পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক টিটু বসাক প্রমুখ। পরে অতিথিরা বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন।

জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ নেতারা জানিয়েছেন, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে গতকাল থেকে শুরু হওয়া নানা অনুষ্ঠান চলবে চার দিনব্যাপী। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে সোমবার বিকেলে ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মহানামযজ্ঞের শুভ অধিবাস, রাতে চট্টগ্রামের অনন্যা দত্ত ও তাঁর দলের পরিবেশনায় লীলা কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা। পরদিন মঙ্গলবার ভোর থেকে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ।

এদিকে উপজেলার ডুলাহাজারা, বরইতলী, হারবাংসহ বিভিন্ন স্থানে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বের করা হয় শোভাযাত্রা।

খাগড়াছড়ি : ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে খাগড়াছড়ি ও মহালছড়িতে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। সকালে খাগড়াছড়ি জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের শোভাযাত্রা লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ত্রিপুরা জনগণ এতে অংশ নেন।

খাগড়াছড়িতে জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। এ সময় সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক, জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ টি এম কাউছার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দে, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য জুয়েল ত্রিপুরা, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সম্পাদক চন্দন কুমার দে, পৌরসভার কাউন্সিলর পরিমল দেবনাথ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মহালছড়িতে মঙ্গল শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা রতন কুমার শীল উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী : দুপুরে জেলা শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দত্তের হাট ইস্কন মন্দিরের সামনে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি দত্তের হাট ইস্কন মন্দির থেকে শুরু হয়ে মাইজদীবাজারস্থ শ্রীশ্রী রামঠাকুর মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন। পরে শ্রীশ্রী রামঠাকুর মন্দির প্রাঙ্গণে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি পালনের গুরুত্ব বিষয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মাহবুবুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুধীর সাহা ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাখন লাল ভৌমিক। আলোচনাসভা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয় এবং শোভাযাত্রাটি পুনরায় দত্তেরহাট ইসকন মন্দিরে ফিরে আসে।

ফেনী : সকালে ফেনী ইস্কন মন্দির ও সহদেবপুর কালীবাড়ি মন্দির, ফেনী জগন্নাথ বাড়ি মন্দির, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক শোভাযাত্রা বের হয়। এসব শোভাযাত্রা শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সহদেবপুর মন্দিরে এসে শেষ হয়। সকালে ইস্কন মন্দির ও সহদেবপুর কালীবাড়ি মন্দিরে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর লুত্ফুর রহমান খোকন হাজারী। উপস্থিত ছিলেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, শিবু প্রসাদ মজুমদার, লিটন সাহা, রিপন সাহা, অর্জুন মাস্টার, শিপন বিশ্বাস, সৌরভ সাহা।

বিকেলে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে জয়কালী মন্দিরে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজজামান, পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকার, রাজিব খগেশ দত্ত, শুসেন চন্দ্র শীল প্রমুখ।

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন- এর আরো খবর