English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

খাগড়াছড়িতে পেশকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগ

  • খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

খাগড়াছড়ি মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের নিম্নমান সহকারী ও পেশকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিরাজুম মনিরের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি এই কর্মচারী ক্ষমতা দেখিয়ে জেলা শহরের হাসপাতাল গেট এলাকায় আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (আয়ু) নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এর প্রতিনিধি আবু ইউসুফ। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়েও না পেয়ে বর্তমানে ইউসুফ চরম নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন বলে জানান।

গতকাল সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন আরগন ফার্মাসিউটিক্যালসের কম্পানি প্রতিনিধি মো. আবু ইউসুফ। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সিরাজুম মনির।

সংবাদ সম্মেলনে মো. আবু ইউসুফ অভিযোগ করেন, তিনি হাসপাতাল গেট মসজিদ মার্কেটে ব্যবসা করে আসছিলেন। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের কারণে কর্মচারী সেহাব উদ্দিনকে ছাঁটাই করেন। এ ঘটনাকে পুঁজি করে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের পেশকার ও খাগড়াছড়ি আদালত কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সিরাজুম মনির তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় মনির ক্ষিপ্ত হয়ে ১০-১২ জন লোক নিয়ে গত ৮ মার্চ দুপুরের দিকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় তারা লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তখন আবু ইউসুফকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। এখনো তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীর পরিবারকে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। উল্টো মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা করতে গেলেও প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো আইনজীবী তাঁর মামলা নিচ্ছেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া পৌরসভার মেয়রের কাছে প্রতিকার চেয়েও তিনি পাননি। এমনকি মনির এলাকায় মেয়রের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ করেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে নির্যাতনের শিকার মো. আবু ইঊসুফ তাঁর দোকানটি খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

হাসপাতাল গেট এলাকার বাজারের ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মতিন ও দোলন চক্রবর্তী জানান, তাঁরাও মারামারির ঘটনা জেনেছেন। সেই থেকে আবু ইউসুফকে আর দেখা যায়নি। দোকানটিও বন্ধ রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি তাঁরা।

পেশকার সিরাজুম মনির ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আবু ইউসুফের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগই নেই। তাঁকে জড়িয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার করা হয়েছে। তিনি আবু ইউসুফের ব্যাপারে এলাকায় প্রতারণা ও দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ ছাড়া ঘটনার দীর্ঘদিন পর এই অভিযোগের ভিত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন- এর আরো খবর