English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

এশীয় বিপ্লব

পশ্চিমা স্টুডিওগুলোর এশীয় অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করতে বরাবরই ‘অনীহা’। এ নিয়ে নানা সমালোচনার মধ্যেই মুক্তি পেয়েছে ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’। এশীয় অভিনেতাদের নিয়ে ছবিটি মুক্তির পরই তৈরি করেছে সাফল্যের নতুন ইতিহাস। লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বছর পনেরো আগে হলিউডি প্রযোজকদের মাথায় এশিয়া ছিল না বললেই চলে। এশীয় পটভূমিতে বর্ণিত গল্পগুলোতেও প্রধান চরিত্রে দেখা যেত সাদা চামড়া। কয়েক বছর ধরে বক্স অফিসের জটিল হিসাব-নিকাশে অনেক কিছুই বদলে গেছে। প্রায় সব ছবিতেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে এশীয়দের উপস্থিতি তারই প্রমাণ। কিন্তু শুধু এশীয় অভিনেতাদের নিয়েই হলিউড ছবি! কিছুদিন আগেই যা ছিল কষ্টকল্পনা, সেটাই হয়েছে। ১৫ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে ক্রেজি রিচ এশিয়ানস। এশীয় অভিনেতাদের নিয়ে ছবিটি মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিস কাঁপাচ্ছে। এ বছর গ্রীষ্মের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবির তকমা পেয়েছে এর মধ্যেই।

ছবির গল্প নেওয়া হয়েছে কেভিন কোয়ানের একই নামের উপন্যাস থেকে। মূল চরিত্র র্যাচেল, এক চীনা বংশোদ্ভূত আমেরিকান। অর্থনীতির শিক্ষক এই তরুণী প্রেমিকের আহ্বানে ঘুরতে আসেন সিঙ্গাপুর। আবিষ্কার করেন, দেশটির অন্যতম ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান তাঁর প্রেমিক নিক। সেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার নানা ঘটনা নিয়েই ছবি। জন এম চুর রোমান্টিক কমেডি ঘরানার চলচ্চিত্রটির প্রধান দুই চরিত্র করেছেন কনস্ট্যান্স উ ও হেনরি গোল্ডিং।

২০১৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশের পরই প্রযোজকদের দৃষ্টি পড়ে এর ওপর। লেখক কেভিন কোয়ানের জীবনও যেন একটি উপন্যাসের মতোই। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে ধনাঢ্য পরিবারে জন্ম নেওয়া এই লেখক বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ নিতে অস্বীকৃতি জানান। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই লেখককে তখনই দোষী সাব্যস্ত করে জেল দেওয়া হয়। কিন্তু স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করায় সেই শাস্তি আর ভোগ করতে হয়নি। লেখক নিজেই সিঙ্গাপুরের উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য হওয়ায় উপন্যাসটি যেন হয়ে উঠেছিল বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।

ছবিটি মুক্তি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে বিস্তর। কারণ এর পরিবেশনা নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছিল ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও নেটফ্লিক্স। নেটফ্লিক্সের দেওয়া প্রস্তাব বেশি লোভনীয় হলেও চলচ্চিত্রটি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়াকেই বেশি প্রাধান্য দেন লেখক ও প্রযোজকরা।

প্রধান চরিত্র হেনরি গোল্ডিংয়ের এটাই রুপালি পর্দায় প্রথম উপস্থিতি। আমেরিকান-মালয়শিয়ান এই অভিনেতা আগে ছোট পর্দায় কাজ করেছেন; যদিও শুরুতে ছবির প্রস্তাব পেয়েই না করে দেন। কারণ নিজেকে সিনেমার জন্য যথেষ্ট যোগ্য মনে করছিলেন না! পরে পরিচালকের হাজারো অনুরোধে রাজি হন। এ প্রসঙ্গে পরিচালক জন এম চু বলেন, চরিত্রটি যেন তাঁকে নিয়েই লেখা ছিল। অন্য কোনো অভিনেতাকে ভাবতেই পারছিলাম না। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর নিজের সবটুকু ঢেলে দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই অভিনেতা। এমনকি নিজের হানিমুনটাও সংক্ষিপ্ত করেছেন অভিনয়ের জন্য।

চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর এক মাসেরও কম সময়ে তিন কোটি ডলারের চলচ্চিত্রটি বক্স অফিস থেকে তুলে নিয়েছে ১৫ কোটি ডলারেরও বেশি! সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছে ক্রেজি রিচ এশিয়ানস। বোদ্ধাদের মতে, চলচ্চিত্রটি হলিউডের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তাঁদের মতে, সুপারহিরোময় হলিউডের ছবিতে নতুন স্বাদের গল্প পেয়ে লুফে নিয়েছে দর্শক। যদিও যে দেশের কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয়েছে, সেই সিঙ্গাপুরের বাসিন্দারাই বেজায় নাখোশ ছবিটি নিয়ে। দেশটিতে বাস করা বিভিন্ন জাতির গল্প না বলে শুধু চীনা বংশোদ্ভূত সিঙ্গাপুরের অধিবাসীদের দেখানোয় হতাশ তারা। তবে এসব সমালোচনা খুব বেশি গায়ে মাখছেন না নির্মাতারা। এরই মধ্যে এই ট্রিলজির দ্বিতীয় উপন্যাস চায়না রিচ গার্লফ্রেন্ড নিয়েও চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন প্রযোজক।

রঙের মেলা- এর আরো খবর