English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

চট্টগ্রামের বিস্ময়বালক মো. জাহিদ। ‘মধু হই হই বিষ হাওয়াইলা’ গেয়ে সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছে। এবার প্রকাশ পেয়েছে তার প্রথম মৌলিক গান ‘পান’। তাকে নিয়ে লিখেছেন আতিফ আতাউর

  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

এক গানই বদলে দিয়েছে জাহিদের জীবন। এখন আর তাকে স্কুল কামাই করতে হয় না, নতুন গান শেখার জন্য পাড়ার দোকানে গিয়ে টেলিভিশনের সামনেও দাঁড়াতে হয় না। ঘরেই আছে টেলিভিশন। মজার ব্যাপার, যে বাবা তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, বিয়ে করে আলাদা থিতু হয়েছিলেন, সেই বাবাও এখন ফিরতে চান জাহিদদের কাছে। এটা আনন্দের কথা হলেও আমরা মানতে পারি না। যখন আমাদের কিছুই ছিল না, তখন বাবা অন্যত্র বিয়ে করে মাকে এবং আমাদের তিন ভাই-বোনকে ছেড়ে চলে যান। কষ্টের সময় পাশে না থেকে উল্টো পালিয়েছেন। এখন আমার গায়ক পরিচিতি দেখে নিজেকে আমার বাবা বলে পরিচয় দেন। আমাদের কাছে ফিরতে চান। কিন্তু আমরা তাঁকে চাই না।

কিভাবে বদলে গেল জাহিদের জীবন? শোনা যাক তার কাছেই, পরিবারে উপার্জনের মানুষ ছিল না। সবাই যখন বই নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে রওনা দিত, আমি তখন সাগর পানে ছুটতাম। সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের গান শোনাতাম, হাত-পা ম্যাসাজ করে দিতাম। বিনিময়ে খুশি হয়ে যে যা দিত, দিনশেষে তুলে দিতাম মায়ের কাছে। এভাবেই একদিন সাগরপারে ইমরান নামের একজনকে গান শোনাচ্ছিলাম। শুনে তিনি খুব বাহবা দিলেন। গাওয়ার মুহূর্তটি আমার অজান্তেই তাঁর এক বন্ধু মোবাইলে ভিডিও করেন। সেই ভিডিও কিভাবে যেন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রবির একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার সুযোগ পাই। রেডিও-টেলিভিশন থেকে ডাক আসে। জীবন বদলে যেতে শুরু করে।

রবির বিজ্ঞাপনচিত্রে জাহিদের গাওয়া মধু হই হই দেশের আনাচকানাচে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে যায়। সবার কাছে পৌঁছে যায় জাহিদের সংগ্রামের কথা। এগিয়ে আসে চট্টগ্রামের সাইমন হোটেল কর্তৃপক্ষ। জাহিদকে ডেকে নিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় হোটেলে আগত অতিথিদের সামনে গান করার সুযোগ দেয়। সেই থেকে এখনো হোটেলটিতে গান করছে। জাহিদের সঙ্গে যখন কথা হয় সে তখন স্কুলের পথে। বাড়ি থেকে পাঁচ মিনিট দূরত্বে কলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে সে। স্কুলের সবাই তাকে একনামে চেনে। নিজের মোবাইল ফোন থেকে ফেসবুক চালায় জাহিদ। জানায়, অনেকেই ফেসবুকে তাকে শুভেচ্ছা পাঠায়। গান শোনার আবদার জানিয়ে মেসেজ দেয়। বেশ মজা লাগে তার।

ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে প্রকাশ পেয়েছে জাহিদের প্রথম মৌলিক গান পান-এর ভিডিও। ভিডিওতে আছে জাহিদও। প্রিন্স রুবেলের কথা ও সুরে গানটির সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী। ভিডিও পরিচালনায় শাহরিয়ার পলক। এই গানটি কিভাবে হলো? ঢাকা থেকে জানানো হয়, একটি সিলেটি গান গাইতে হবে। স্টুডিওতে ঢোকার আগমুহূর্তেও ধরে নিয়েছিলাম, মধু হই হই গাইতে হবে। কিন্তু ভেতরে গিয়ে জানতে পারি, আমার মৌলিক গান করতে চায় তারা। বেশ কয়েকবার রিহার্সাল করে গানটি রেকর্ড করি। কেমন সাড়া পাচ্ছ? অনেক ভালো। এই গানটির ওপর নির্ভর করছে আমার পরবর্তী মৌলিক গান গাওয়ার সুযোগ। ধ্রুব মিউজিক থেকে বলা হয়েছে, ভালো সাড়া পেলে আমাকে দিয়ে আরো কয়েকটি নতুন গান করাবে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে গানটির ভিউ চেক করি। কমেন্ট পড়ি। আশা করছি নতুন গানে শিগগিরই ডাক পাব। আর কোনো খবর? কলকাতার একটি চলচ্চিত্রে গান করার কথা চলছে। সব ঠিকঠাকমতো হলে এ বছরই সেখান থেকে ডাক পাওয়ার কথা।

গান গেয়ে জীবন বদলে গেলেও গানটাই এখনো ঠিকমতো শেখা হয়নি তার। যাওয়া হয়নি কোনো ওস্তাদের কাছে। শুনে শুনেই গলায় গান তুলত জাহিদ। চর্চা বলতে এখনো সেটাই। পরিচিতি পাওয়ার পর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ভর্তি করানো হলেও সেখানে মন টেকেনি। তবে শিগগিরই গান শেখা শুরু করবে সে।

কার গান শুনতে পছন্দ? ইমরানের জাহিদের ঝটপট জবাব। প্রিয় এই শিল্পীর দেখাও পেয়েছে জাহিদ। পান রেকর্ড করার সময় স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন ইমরান ও সালমা। অন্য একটি গানের রেকর্ডে এসেছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই জাহিদ দেখা পায় ইমরানের। ভালো লাগার কথা জানায় প্রিয় শিল্পীকে। ইমরানও নাকি মুগ্ধ জাহিদের গানে, তিনি আমার গান শুনেছেন। তাঁর মতো শিল্পী হতে চাই শুনে আমাকে উইশ করেছেন।

এখন তোমার স্বপ্ন কী? গান গেয়েই বাকি জীবন কাটাতে চাই। পড়াশোনাও ভালোমতো শেষ করতে চাইবলল জাহিদ।

রঙের মেলা- এর আরো খবর