English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

আহা রে সোনালি বন্ধু

দুজনই গানের মানুষ। গান করতে গিয়েই একসময় প্রেম ও বিয়ে। প্রথমবারের মতো একই অ্যালবামে যুক্ত হয়েছেন লাবিক কামাল গৌরব ও নবনীতা চৌধুরী দম্পতি। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

এবারই প্রথম গৌরবের সংগীতায়োজনে গান প্রকাশ করলাম। জিপি মিউজিকে গানটি দেওয়ার পর শ্রোতাদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছি। এরপর ভিডিও আকারে আপলোড করা হয় জি-সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে। সেখানেও সবাই ইতিবাচক মন্তব্য করছেন। অল্প সময়ে গানটির জন্য মানুষের এত ভালোবাসা পেয়ে আমরা

অভিভূত, অনুপ্রাণিতনিজের দ্বিতীয় অ্যালবাম আহা রে সোনালি বন্ধুর টাইটেল প্রসঙ্গে বলছিলেন নবনীতা চৌধুরী। গানটির কথা ও সুর হাসন রাজার। খুব শিগগির জি-সিরিজের ব্যানারে অ্যালবামটি প্রকাশ পাবে। এতে গান থাকবে ৯টি। রবীন্দ্রনাথ ও লালনের একটি করে গান বাদে বাকিগুলো নবনীতার নিজের শহর সিলেটের গীতিকার-সুরকারদের। এর মধ্যে হাসন রাজা ছাড়াও রয়েছেন রাধারমণ, রসিক লাল, সীতালং শাহ প্রমুখ। পুরো অ্যালবামের সংগীতায়োজনে লাবিক কামাল গৌরব। গায়িকা বলেন, বাবার বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জে হলেও কিছু জনপ্রিয় গান ছাড়া সিলেটের গান শুরুতে সেভাবে শোনা হয়নি। বিবিসিতে চাকরি করার সুবাদে লন্ডনে থাকার সময় প্রবাসী সিলেটিদের আয়োজনে লোকগানের নানা আসরে গিয়ে সিলেটি গানের প্রতি ভালোবাসা জন্মে। সিলেটি গানের প্রেম, সরলতা, সুরের গভীরতা, লয়ের দোলা বুকের ভেতর এক অন্য হাহাকার তৈরি করে। তখন থেকেই সিলেটের লোককবিদের কম চর্চিত গানগুলো গলায় তুলে গাইতে শুরু করি। সেসব গান গৌরবের সঙ্গে তার গিটার-দোতারায় তুলে মঞ্চে পরিবেশন করতে থাকি। একসময় শুরু করি স্টুডিওতে রেকর্ডিং। সিলেটের শাস্ত্রীয় সংগীতের গুরু রামকানাই দাস তখন নিউ ইয়র্কে থাকতেন। কয়েকবার গ্রীষ্মের ছুটিতে তাঁর কাছে গিয়ে গানগুলো তুলেছি। তাঁর কাছ থেকেই গানগুলো সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা আয়ত্ত করার চেষ্টা করেছি।

এভাবেই নিজেদের ভাণ্ডারে জমা গানগুলো থেকে বাছাই করে এই অ্যালবাম সাজিয়েছেন নবনীতা-গৌরব। গৌরব বলেন, ২০১২ সালে লন্ডনেই অ্যালবামটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়। এরপর দেশে ফিরে দুজনই নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই। ফলে ইচ্ছা থাকার পর কাজটি এগিয়ে নিতে পারিনি। এবার শেষ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

অন্যান্য লোকগানের অ্যালবামের তুলনায় এই অ্যালবামের সংগীতায়োজনে নতুন কী থাকছে? সাধারণত দেখা যায়, এই ধরনের অ্যালবামের ক্ষেত্রে লাইভ গানগুলো শুনতে এক রকম, আবার অ্যালবামে শুনতে আরেক রকম। হয়তো কোনো রকমভাবে অ্যালবামের রেকর্ডিং শেষ করা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পুরো অ্যালবামের কাজ করেছি। নিজের মতো করে গানগুলো তুলেছি, বাজিয়েছে। তারপর রেকডিংয়ে নেমেছি। এর ফলে রেকর্ডিং ও সাউন্ডের মধ্যে আলাদা একটা স্বাদ এসেছে। শ্রোতারা শুনলেই সেটা টের পাবে। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে বাজিয়েছেন আমার লাবিক কামাল গৌরব অ্যান্ড দ্য ব্যান্ড-এর সদস্যরা। তাঁরা হলেন বুনো, স্বাদ, জীবন, নজরুল, জালাল ভাইদের মতো মিউজিয়িশানরাবলছিলেন গৌরব।

২০০৭ সালে আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতায়োজনে নিজের প্রথম অ্যালবাম আমি যন্ত্র তুমি যন্ত্রী প্রকাশ করেছিলেন নবনীতা। সেটি ছিল লালনের গান নিয়ে। প্রায় এক যুগ পর নিয়ে আসছেন দ্বিতীয় অ্যালবাম। অনেকে বলেন, নবনীতার বাউল গানের মধ্যেও রবীন্দ্রনাথের টান পাওয়া যায়! এর ব্যাখ্যাটা দিলেন গৌরব, ও তো রবীন্দ্রসংগীত শিখেছে ওয়াহিদুল হকের কাছে। ফলে ওর ব্যাকগ্রাউন্ডটা সেভাবেই তৈরি হয়েছে। সে কারণেই হয়তো এটা হয়েছে। আর বিষয়টি শ্রোতারা এনজয়ও করে।

কথার শেষ ভাগে এসে নিজেদের প্রেম-বিয়ে নিয়েও মুখ খোলেন গৌরব, ২০০৬ সালে ঢাকায় এক বাউলের বাড়িতে লালনের গান শুনতে গিয়ে আমাদের পরিচয়। নবনীতা লন্ডনে বিবিসিতে কাজ করে। আমিও যাই সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে। সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করার পর তার সঙ্গে বাজাতে বলে। অর্ণবের সঙ্গে একটি ট্যুরে গিয়ে সখ্য আরো বাড়ে। একসময় অনুভব করি আমরা একে অন্যকে ভালোবেসে ফেলেছি। ২০১১ সালের জুনে আমরা বিয়ে করি। আমাদের একমাত্র সন্তান আনন্দিতা। তার বয়স এখন চার বছর।

গৌরবের সংগীতায়োজনে নবনীতার অ্যালবাম আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দুজন একসঙ্গে কোনো গান বা অ্যালবামে কণ্ঠ দেননি। নবনীতা বলেন, কিছুদিনের মধ্যে হয়তো তাও হয়ে যাবে। এনামুল করিম নির্ঝর ভাই সামনে দাম্পত্য নিয়ে একটি প্রজেক্ট করবেন। সেই প্রজেক্টে আমাদের গাইতে বলেছেন। প্রজেক্টটি আমাদের দুজনেরই হওয়ার কথা। সেখানে দ্বৈত গানও থাকতে পারে।

রঙের মেলা- এর আরো খবর