English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

একের ভেতর তিন শিক্ষকও একজন

  • গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হয় একসঙ্গে। কারণ গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক মাত্র একজন। ওই একজন শিক্ষককেই ১১১ জন শিক্ষার্থীর গত দেড় বছর ধরে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষক সংকট এ বিদ্যালয়ের একটি মারাত্মক সমস্যা। উপজেলা সদর থেকে তুলনামূলক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় কোনো শিক্ষকই এখানে বেশি দিন থাকেন না। এ কারণে শিশুদের পড়াশোনা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় অভিভাবকদের। গত বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষক উত্তম চন্দ্র মণ্ডল বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ফয়সালের ভাষ্য, এভাবে সবাইকে এক জায়গায় বসিয়ে ক্লাস করলে পড়া বুঝতে কষ্ট হয়।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহানের মা ইয়ানুর বেগম বলেন, স্কুলে শিক্ষক নেই। তাই মেয়ের পড়াশোনাও তেমন হচ্ছে না। অন্য স্কুলেও দেওয়া সম্ভব না। দেড় বছর ধরে শুনছি নতুন শিক্ষক আসবেন। কিন্তু কোনো শিক্ষক আসেননি। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তিত।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক উত্তম চন্দ্র মণ্ডল জানান, তিনি গলাচিপা পৌরসভা সদর থেকে বিদ্যালয়ে আসেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ছাড়াও সব রকমের দাপ্তরিক কাজও তাঁকে করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় একই ইউনিয়নের অন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষককে ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। কিন্তু তাঁরাও এখন আর আসছেন না।

গলাচিপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের কথা আমাদের জানা আছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করব।

প্রিয় দেশ- এর আরো খবর