English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

বাগেরহাটে হাসপাতালে দুই প্রসূতিকে মারধর

স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটি

  • বাগেরহাট প্রতিনিধি   
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা দুই প্রসূতিসহ তিনজন চিকিৎসকের মারধরের শিকার হয়েছেন। হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। গত রবিবার সকালে গাইনি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সোমবার স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তা ছাড়া বাগেরহাটের সিভিল সার্জন অভিযুক্ত চিকিৎসককে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা হলেন জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাথী ইউনিয়নের হামচাপুর গ্রামের ভ্যানচালক আলম শেখের স্ত্রী রোজিনা বেগম (২০), তাঁর মা নাছিমা বেগম (৪২) ও সদর উপজেলার পঞ্চমালা গ্রামের দিনমজুর জাহিদুল গাজীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩০)।

মারধরের শিকার প্রসূতি রোজিনার মা নাছিমা বেগম বলেন, প্রসব বেদনা উঠলে রবিবার ভোরে রোজিনাকে নিয়ে তিনি সদর হাসপাতালে যান। সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদ রোগীকে দেখতে আসেন। তখন প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিল রোজিনা। এ ব্যাপারে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চাইলে ডা. আবুল কালাম আজাদ ক্ষেপে গিয়ে তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারেন। মারধরের এক পর্যায়ে থাবা মেরে তাঁকে মেঝেতে ফেলে দেন। এর প্রতিবাদ করলে চিকিৎসক এসে প্রসূতি রোজিনা বেগমকে বলেন, তোর মাকে মেরেছি। এবার তোকে মারব। এই বলে রোজিনাকেও চড়-থাপ্পড় মারেন।

গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি ফাতেমা বেগম নামের অপর এক প্রসূতির অভিযোগ, ওই দুজনকে চড়-থাপ্পড় মারার পর চিকিৎসক তাঁর কাছে আসেন। কথাবর্তার এক পর্যায়ে ক্ষেপে গিয়ে তাঁকেও কয়েকটা চড় মারেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদ সব সময় রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। রবিবারও তিনি তিনজনকে চড়-থাপ্পড় মেরেছেন।

জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম জাদু জানান, ওই সময় তিনি হাসপাতালে ছিলেন। হঠাৎ গাইনি ওয়ার্ডে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে দ্রুত সেখানে ছুটে যান। পরে জানতে পারেন চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদ দুজন প্রসূতিসহ তিনজনকে মারধর করেছেন। এ সময় রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হলে ওই চিকিৎসক দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।

এ বিষয়ে ডা. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. অরুণ চন্দ্র মণ্ডল জানান, প্রাথমিক তদন্তে তিনি রোগীদের চড়-থাপ্পড় মারার সত্যতা পেয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. সুশান্ত কুমার রায় জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় উপপরিচালক ডা. হোসনেয়ারাকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিয় দেশ- এর আরো খবর