English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কুমিল্লায় ‘বড় দল’ ও ‘ছোট দল’ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গতকাল দুপক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার পর স্বজনদের আহাজারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ববিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার ভোরে উপজেলার শিদলাই গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত অদুদ মেম্বারের ছেলে খোরশেদ আলম (৫৫) ও শিরু মিয়ার ছেলে শুকুর মিয়া ওরফে সানু (৫০)। এর মধ্যে খোরশেদ ঘটনাস্থলে এবং শুকুর কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁরা দুজন একই গ্রুপের বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে জহির, কাউসার, আবুল হোসেন, রুহুল আমিন ও রিপনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা চলছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান বলেন, দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে শিদলাই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে ওসি শাহজাহান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়ার শিদলাই গ্রামে কয়েক বছর ধরে দুটি গ্রুপ বড় দল ও ছোট দলে বিভক্ত রয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রুপ দুটি প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গত বছর এ রকমই একটি সংঘর্ষে প্রাণ হারান বড় দলের নেতা মফিজুল ইসলাম। এর পর থেকেই ছোট দলের লোকজন মামলার ভয়ে এলাকাছাড়া ছিল।

গতকালের ঘটনা সম্পর্কে এলাকাবাসী জানায়, ভোরে হঠাৎ করেই ছোট দলের লোকজন জড়ো হয়ে বড় দলের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালাতে শুরু করে। এ সময় বড় দলও পাল্টাহামলা চালায়। টেঁটা-বল্লম-রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুটি গ্রুপের সংঘর্ষ চলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ছোট দলের খোরশেদ আলম। তাঁর দুই পায়ে অসংখ্য টেঁটার আঘাতের ক্ষত দেখা গেছে। এ ছাড়া কেটে ফেলা হয় তাঁর দুই পায়ের রগ।

সংঘর্ষে গুরুতর অবস্থায় ছোট দলের শুকুর মিয়াকে নেওয়া হয় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনিও মারা যান। শুকুর মিয়ার শরীরে কয়েকটি টেঁটার আঘাতের চিহ্ন ছাড়াও তাঁর ডান পায়ের রগ কাটা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

প্রিয় দেশ- এর আরো খবর