English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

গলাচিপায় আলিশান ভবন পরিত্যক্ত

  • এমরান হাসান সোহেল ও সাইমুন রহমান এলিট, পটুয়াখালী   
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

পটুয়াখালীর গলাচিপা ইউনিয়ন পরিষদের আধুনিক কমপ্লেক্স। ভবনটি নির্মাণের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভেতরে একটি কক্ষে খড় স্তূপ করে রাখা হয়েছে (ইনসেটে)। সেখানে রাতে শিয়াল থাকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর গলাচিপা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) জন্য ২০০৬ সালে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে একটি দ্বিতল আলিশান কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়। এখানে হলরুমসহ চেয়ারম্যানের কক্ষ, সচিবের কক্ষ, ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) কক্ষ, আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের কক্ষ রয়েছে। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে ভবনটি অবহেলায়-অযন্তে পড়ে রয়েছে। এখানে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আসেন না। ফলে ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কার্যক্রম চলে না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বন্য প্রাণী শিয়াল। আধুনিক এ ভবনে মানুষের কোলাহল না থাকায় সন্ধ্যা নামলেই শিয়ালদের হৈচৈ শুরু হয়। আর তা চলে সকাল পর্যন্ত। নির্মাণের পর ১৩ বছর এভাবেই চলছে।

জানা গেছে, ২০০৬ সালে জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় বোয়ালিয়া গ্রামের শাহ আলী তালুকদার নামের এক ব্যক্তি কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মাণের জন্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের এক একর জমি দান করেন। জমিদাতার স্বপ্ন অনুযায়ী কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হলেও সাধারণ মানুষের কাজে আসছে না।

সরেজমিনে ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ভবনের দরজা-জানালা নেই। কক্ষগুলো ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব। কক্ষের মেঝেতে বিভিন্ন প্রাণীর মলমূত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। কোনো কোনো কক্ষে গরুর খড়কুটা রাখা আছে। শেওলা ধরে ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ভবনে প্রবেশের রাস্তাও কাদাপানিতে একাকার।

বোয়ালিয়া গ্রামের কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন বাসিন্দা সুচিত্রা রানী পাল বলেন, নির্মাণ হওয়ার পর আমি কখনো দেখিনি এ অফিসে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আসছে। মানুষজন না আসায় সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানে অনেক শিয়াল আসে। তারা সারা রাত ডাকাডাকি করে। এতে আমাদের ভয় লাগে।

সুলতান তালুকদার নামের ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা বলেন, এহ্যানে দিনে গরু-ছাগল আর রাইতে পাতিহাল (শিয়াল) থাহে।

জমিদাতা শাহ আলী তালুকদার বলেন, এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করেই আমি কয়েক লাখ টাকার জমি দান করেছি; কিন্তু কোনো উপকার হয়নি। এটাকে সরব করতে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের এগিয়ে আসা উচিত। তারা এখানে নিয়মিত অফিস করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী জমি দান সার্থক হবে।

এদিকে ভবন নির্মাণের পর গত ১৩ বছরে দুজন চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবন নির্মাণের সময় দায়িত্বে ছিলেন নাসির উদ্দিন। বর্তমানে হাবিবুর রহমান হাদী দায়িত্ব পালন করছেন। এ দুজনের কেউই ওই ভবনে এক দিনের জন্যও অফিস করেননি। তাঁরা দুজনই পুরান পরিত্যক্ত গলাচিপা উপজেলা সদরে অবস্থিত ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার বলেন, প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি ব্যবহার না হওয়ায় দরজা-জানালা ভেঙে গিয়ে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এটি ব্যবহার উপযোগী করতে এলজিইডি অধিদপ্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এরই মধ্যে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাদী বলেন, গত তিন-চার বছর আগে মাঝেমধ্যে পরিষদ ভবনে কাজ করেছি। ভবন সংস্কার করা হলে ওখানেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ জন্য ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এমন একটি আলিশান ভবন ব্যবহারে অনীহা কেনএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ওই স্থানটি একটি বিচ্ছিন্ন এলাকা। তাই ওখানে কেউ যেতে চায় না।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, ভবনটিতে আমি প্রায়ই অফিস করেছি। এখন হয় কি না, তা জানি না।

প্রিয় দেশ- এর আরো খবর