English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

উপকূলে ফাঁদ আর বালাইনাশকের আগ্রাসন

দেশি মাছ তালিকায় আছে, পানিতে নেই

  • আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ভৌগোলিক অবস্থানে উপকূলীয় অঞ্চল নিচু হওয়ায় অসংখ্য জলাশয়, খাল আর বিলে একসময় দেশি মাছের অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছিল। মাছ নিধনের নানা ফাঁদ আর কৃষিজমিতে কীটনাশকের আগ্রাসনে জলাশয়গুলো এখন মাছশূন্য হওয়ার পথে। অনেক দেশি মাছের নাম এখন শুধু বইয়ের পাতা আর মৎস্য দপ্তরের তালিকায় আছে, পানিতে নেই।

শোল, গজার, কই, শিং, মাগুর, পুঁটি, পাবদা, টেংরা, বাইলা, টাকি, বাইম, বাঁশপাতা, রুই, কাতল, মৃগেল, ফলি, সরপুঁটি, বোয়াল, ভেটকি, দরগি, মলান্দি, চান্দাগুরা, ভেদি, বকথুরিনা, চিতল, উটকাল, নাপতা চিংড়ি, মলা, ভাটা, ফাইস্যা, বাতাসি, চ্যালা, কাটালি, মৌ কাটালি, গোদা চিংড়ি ইত্যাদি দেশি মাছে সমৃদ্ধ ছিল উপকূল। এখন জলাশয়ে ফাঁদ (জাল) ও কৃষিজমিতে কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে এসব মাছের অনেকগুলো পাওয়া যায় না। কিছু প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় কম।

অতিবৃষ্টি ও জোয়ারে পিরোজপুরের উপকূলীয় প্রত্যন্ত এলাকায় খাল, বিল ও মাঠঘাটে এখন পানির প্রবাহ বাড়ছে। জোয়ারের পানিতে ভেসে আসছে নানা জাতের দেশি মাছ। বর্ষায় উপকূলে এই মাছ ধরতে নানা ধরনের জাল ও বাঁশের তৈরি চাঁই ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে হাতে বোনা জাল ও বাঁশের কঞ্চির উপকরণে তৈরি একটি বিশেষ জালের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এ মৌসুমে মাছ শিকারিরা এতকাল দুই ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করছিলনাইলন সুতায় বোনা বুচনা জাল ও বাঁশের কঞ্চির চাঁই। এখন বাঁশ অপ্রতুল আবার বুচনা জাল তৈরিতে খরচ বেশি। ফলে দেশি মাছ শিকারে ব্যবহার করা হচ্ছে ছোট আকৃতির এক ধরনের জালের ফাঁদ। স্থানীয়ভাবে হাতে তৈরি এই ফাঁদ বোডা জাল নামে পরিচিত। বর্তমানে এর চাহিদা বাড়ায় বাণিজ্যিক প্রসার ঘটেছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বোডা জাল, বুচনা জাল ও বাঁশের চাঁই দিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে দেশি অনেক মাছের পোনা বিনষ্ট হয়। এটি দেশের মিঠা পানির দেশি মৎস্যসম্পদের জন্য ক্ষতিকর।

প্রিয় দেশ- এর আরো খবর