English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

বাঘারপাড়ায় সড়কে হাট যানজটে ভোগান্তি

  • চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর)   
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

যশোরের বাঘারপাড়ায় সড়কে সাপ্তাহিক হাট বসায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

আশির দশকের আগ পর্যন্ত যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা সদরের সাপ্তাহিক হাট বসত চিত্রা নদীর কোলঘেঁষে। তখন এ নদীতে চলত নৌকা। সে সময় এ অঞ্চলের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম নৌকা হওয়ার কারণে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য নৌকায় করে বাঘারপাড়া হাটে নিয়ে আসত। সপ্তাহে দুই দিন সোম ও শুক্রবার চিত্রা নদীর পারে বসত এই হাট। কিন্তু আশির দশকের প্রথম দিকে জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় আসার পর ধলগ্রামে স্লুইসগেট নির্মাণ করলে বাঘারপাড়া অংশে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মূলত এরপর থেকেই তিন যুগ ধরে বাঘারপাড়া উপজেলা সদরের (থানার সামনে হওয়ায় থানার হাট বলে থাকে কেউ কেউ) হাট বসতে শুরু করে বাঘারপাড়া-নারিকেলবাড়িয়া সড়কঘেঁষে, কখনো সড়কের ওপরে।

গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাটের স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই কৃষকরা ধান-পাট সবজিসহ নানা পণ্য নিয়ে বসেছে সড়কের ওপর। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চলাচলকারীরা। ঠেলাঠেলি করে চলাচল করছে পথচারীরা। যাত্রীবাহী বাসসহ আটকে রয়েছে কয়েকটি যানবাহন। সড়কের ওপরে ধানের বস্তা রেখে বিক্রির জন্য দাঁড়িয়ে আছেন কৃষক নূর ইসলাম। একটি ভ্যানগাড়ি পার হতে গিয়ে তাঁর ধানের বস্তাটি ফেলে দিল। শুরু হলো দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। কৃষক নূর ইসলাম ও ভ্যানচালক আলামিনের মতো এমন উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা প্রতিহাটেই ঘটে বলে জানালেন পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা পাট বিক্রেতা বাবর আলী।

বাঘারপাড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আজগর আলী বলেন, এ সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক চলাচল করে। এটি একটি ব্যস্ততম সড়ক। হাটের দিন দুটি যানবাহন মুখোমুখি ঢুকে পড়লে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। অনেক সময় এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া ঘটে থাকে দুর্ঘটনাও। অধ্যক্ষ আজগর আলীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক নজরুল ইসলাম বলেন, হাটের পাশেই নদীর পারে প্রায় ১০ শতক সরকারি জমি রয়েছে। ওখানে ধান-পাটের হাট স্থানান্তর করলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। একাধিকবার উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলেও জানান নজরুল।

এ বছর ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বাঘারপাড়া পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উপজেলা সদরের হাটটি স্থানান্তরের ব্যাপারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সঙ্গে নিয়ে হাটের জায়গা নির্ধারণের জন্য ঘুরে দেখেছি। গত সপ্তাহেও বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি খুব শিগগিরই বাঘারপাড়ায় এসে হাটের স্থান নির্ধারণের ব্যাপারটি সমাধান করে দেবেন।

প্রিয় দেশ- এর আরো খবর