English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় গৃহকর্ত্রী জেলে

  • নড়াইল প্রতিনিধি   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ঢাকায় একটি বাসায় আট মাস ধরে কর্মরত রোকসানার (১০) ওপর চলেছে নির্যাতন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে স্বজনদের কাছে। নির্মম নির্যাতনে মরণাপন্ন শিশু গৃহকর্মী রোকসানা এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করা হলে গতকাল মঙ্গলবার গৃহকর্ত্রী সোনিয়াকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন নড়াইলের আদালত।

সূত্র জানায়, গৃহকর্ত্রী সোনিয়া গতকাল নড়াইল আদালতে জামিন নিতে হাজির হন। লোহাগড়া আমলী আদালতের বিচারক মো. জাহিদুল আজাদ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত ২২ আগস্ট গৃহকর্তা ইলিয়াস হোসেন পলাশ, তাঁর স্ত্রী সোনিয়া, সোনিয়ার ভাই ইব্রাহিম ও সালেহা বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন শিশুটির পিতা রাসেল শেখ। এজাহার সূত্রে জানা যায়, আট মাস আগে ঢাকায় ওয়ারী এলাকার ইলিয়াস হোসেন পলাশ নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে পরিচারিকার কাজে দেওয়া হয় শিশু রোকসানাকে। রোকসানার বাড়ি লোহাগড়া উপজেলার বাহিরপাড়া গ্রামের একজন নারী এতে মধ্যস্থতা করেন। পরে নানা কারণে শিশু রোকসানার ওপর নির্যাতন চলে। উদ্ধারের পর শিশুর শরীরে মিলেছে দগদগে ক্ষত, কালশিটে দাগসহ নির্যাতনের নানা চিহ্ন। একপর্যায়ে শিশুকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ১৭ আগস্ট স্বজনদের ঢাকায় ডেকে শিশুকে হস্তান্তর করা হয়। এরপর নড়াইল হাসপাতালে কয়েক দিন চিকিৎসার পর ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে রোকসানাকে।

শিশু নির্যাতনের এ ঘটনায় নড়াইলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়েছে। ঢাকায় চিকিৎসাধীন রোকসানার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী আমিরুল ইসলাম লিটু।

নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম নবী বলেন, রোকসানাকে যেভাবে নিষ্ঠুরতম নির্যাতন করা হয়েছে, তার উপযুক্ত বিচার চাই আমরা।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, একজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জে।

খবর- এর আরো খবর