English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

অক্সফামের প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা নারীদের সুরক্ষায় দরকার ৬০৩ কোটি টাকা

  • কূটনৈতিক প্রতিবেদক   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা নারীদের জরুরি সুরক্ষায় অন্তত ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৬০৩ কোটি টাকা) প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা অক্সফাম। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটি এ কথা জানায়। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় নারী ও কন্যাশিশুদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়াসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রাওয়া কমপ্লেক্সে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সীমান্ত খুলে দেওয়ার দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মিয়ানমার থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, আক্ষরিক অর্থেই জাতিগত নির্মূলের কারণেই রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। মিয়ানমারবিষয়ক আন্তর্জাতিক স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর ভয়ংকর কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রচারাভিযান জোরদার করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্য নিরসনে জোরালো রাজনৈতিক আগ্রহ ও দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখাতে হবে।

এদিকে অক্সফাম তার প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে এবং তারা সহযোগিতাবঞ্চিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবিরের অনেক স্থানেই তারা অস্বাস্থ্যকর ও অনুপযুক্ত পরিবেশে নিপীড়নের ঝুঁকিতে আছে।

বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার (প্রায় ৪,১৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা) মঞ্জুরি সহায়তা দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছে তা থেকে ৬০৩ কোটি টাকা রোহিঙ্গা নারীদের জরুরি সুরক্ষায় ব্যয় করাসহ রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য মানবিক কর্মসূচি প্রণয়নে অন্তত ১৫ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের আহ্বান জানিয়েছে অক্সফাম। সংস্থাটি আরো বলেছে, বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা উদ্যোগে নারীদের জন্য আলাদা বাজেট নেই।

অক্সফাম ও অন্য সহযোগী সংস্থাগুলো তাদের সমীক্ষায় দেখতে পেয়েছে, কক্সবাজারে আশ্রিত এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোহিঙ্গা নারী পানি সংগ্রহ করতে যেতে বা টয়লেট ও গোসলখানা ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। অনেক টয়লেট ও গোসলখানার ওপর ছাদ নেই। রোহিঙ্গা নারীদের অর্ধেক ও কিশোরীদের এক-তৃতীয়াংশ জানিয়েছে, স্যানিটারি সামগ্রী ধোয়ার জন্য নারীদের আলাদা কোনো স্থান নেই। মাসিকের সময় প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তারা পায় না। অক্সফাম বলেছে, টয়লেটে যাওয়া এড়াতে রোহিঙ্গা নারীরা খাবার কম খায়। অস্বাস্থ্যকর স্যানিটারি সামগ্রী ব্যবহারের কারণে তাদের নানা রোগ সংক্রমণ হচ্ছে।

খবর- এর আরো খবর