English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

তামাক কম্পানির হস্তক্ষেপে ব্যাহত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম

গবেষণা প্রতিবেদন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

তামাক কম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী এ দেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) যৌথভাবে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। গবেষণা প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল তামাক কম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক : এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০১৮।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি, অনারারি প্রেসিডেন্ট, ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস, দি ইউনিয়নসহ তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গবেষণায় পাওয়া তথ্য উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার কো-অর্ডিনেটর হাসান শাহরিয়ার।

গত ২০১৬-১৭ সালে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন তামাক কম্পানির কার্যক্রম খতিয়ে দেখে এ গবেষণাপত্র তৈরি করা হয়। এ ধরনের গবেষণা বাংলাদেশে প্রথম।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, তামাক কম্পানির অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর হস্তক্ষেপ সূচকে এশিয়ার ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। ব্রুনেই, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, লাওস, মিয়ানমার, ভিয়েতনামের পরে বাংলাদেশের অবস্থান।

তামাক কম্পানির সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ থাকায় তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়েছে। তামাক করসংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তামাক কম্পানির অংশগ্রহণ দেখা যায়। যেমনজাতীয় বাজেট তৈরির সময় তামাক পণ্যে করারোপের ক্ষেত্রে কম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে তাদের পরামর্শ নেওয়া হয়। তামাক কম্পানির সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে বিড়ির ওপর প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিভিন্ন সময় তামাক কম্পানিকে নানাভাবে সুবিধা প্রদানের তথ্য গবেষণায় পাওয়া গেছে। যেমনরপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত কম্পানিকে তামাকজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রদান থেকে অব্যাহতি প্রদান।

কর প্রদান একটি আইনি বাধ্যবাধকতা হওয়া সত্ত্বেও এর জন্য তামাক কম্পানিগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। এতে তামাক কম্পানির ব্যবসা উৎসাহিত হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে নির্বাহী কর্মকর্তাদের যোগাযোগ আরো বাড়ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তামাকপণ্যের দাম এখনো কম। এসব পণ্যের দাম বাড়াতে আগামী বাজেটে বাড়তি রাজস্ব আরোপে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এ পথে তামাককে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশি তামাক কম্পানির সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি তামাক কম্পানির হস্তক্ষেপ বাড়ছে। অর্থনীতিতে এসব কম্পানির অংশ বাড়ছে। তাই এদের এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

হাসান শাহরিয়ার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের তামাকবিরোধী কার্যক্রমের ফলে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে তামাকের ব্যবহার ১৮.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তবে তামাক কম্পানির বিদ্যমান হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন পিছিয়ে যেতে পারে।

খবর- এর আরো খবর