English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সৈয়দপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২

৩০০ ঘর নির্মাণ নিয়ে ইউএনওর নয়ছয়!

  • সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০০ ঘর নির্মাণকাজ শেষ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় তা নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ সরকারের হলেও সুবিধাভোগীদের কাজ করতে এবং তাদের টাকায় নির্মাণসামগ্রী আনতে বাধ্য করা হচ্ছে। গত ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন অর্থবছরে এসে গত জুলাই থেকে এ কাজ শুরু হয়। পরে জুলাই মাসে বজলুর রশীদ পদোন্নতি পেয়ে দিনাজপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি হলেও তিনি বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ না করে তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন।

সৈয়দ উপজেলা পরিষদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সূত্র জানিয়েছে, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় ৩০০ ঘর নির্মাণকাজ চলছে। সৈয়দপুরে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হলেন ইউএনও বজলুর রশীদ। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে এখনো অর্ধশতাধিক ঘরের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি। অথচ ওই প্রকল্পের একটি ঘরে নির্মাণকাজ রাতের আঁধারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে তড়িঘড়ি শেষ করা হয়।

উপজেলার ৫ নম্বর খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছইল মালিপাড়ার বাসিন্দা ধ্রুব চন্দ্র রায়ের নামে বরাদ্দকৃত ওই ঘরটি গতকাল দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শওকত চৌধুরী ফিতা কেটে ঘরটি উদ্বোধন করেন। এ সময় সৈয়দপুর উপজেলায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বজলুর রশীদ, নির্বাচন অফিসার মো. রবিউল আলম, খাতামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জুয়েল চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণের জন্য তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে ৩০০ ঘরের প্রতিটির জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ৬০টি করে ঘর নির্মাণকাজ গত জুলাই মাসে শুরু করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী গত বছর ২০১৭ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরু এবং গত ৩০ জুন কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ইউএনও তা করতে পারেননি। পরে তিনি বরাদ্দকৃত টাকা অন্য তহবিলে সরিয়ে রেখে বর্তমান অর্থবছরে এসে কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, গত জুলাইয়ে কাজের শুরু থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউএনও বজলুর রশীদ কমিটির অন্য সদস্যদের পাশ কাটিয়ে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে ঘর নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন প্রকল্পের মেয়াদ চলে যাওয়া এবং নিজের বদলির আদেশের ফলে নিজের হাতেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চাইছেন ইউএনও রশীদ।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে, নিম্নমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহার করে একেকটি ঘর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে নির্মাণ করার পাঁয়তারা করছেন কমিটির সভাপতি। এ কাজ সরকার নিয়োজিত ঠিকাদারের হলেও সুবিধাভোগীদের খরচে আরসিসি পিলারসহ নির্মাণসামগ্রী আনানো হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে। আর ঘর নির্মাণে ভিটা উঁচু করানো হচ্ছে সুবিধাভোগীর টাকায়। ল্যাট্টিনের জন্য গর্ত খননসহ অন্যান্য কাজও করা হচ্ছে তাদের দিয়ে।

এ ব্যাপারে খাতামধুপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাভোগী গত শুক্রবার কালের কণ্ঠর কাছে অভিযোগ করেন, ঠিকাদারের লোকজন তাঁকে ঘরের ভিটায় মাটি তুলতে বলেন। তিনি প্রতি ট্রলি মাটি ৬০০ টাকা করে তিন হাজার টাকার মাটি কিনে ঘরের ভিটা উঁচু করেন। বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়ার উপকারভোগী মুজিবর রহমানকে ল্যাট্টিনের গর্ত করতে বলেছেন ঠিকাদারের লোকজন। গতকাল মুজিবর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হামাক ঘর বানে (তৈরি করে) দেইছে। সরকার থাকি তো সব কাম (কাজ) করি দিবার কথা শুনছি। কিন্তু এখন হামাক কেন ল্যাট্টিনের খাইল (গর্ত) খুঁড়ির লাগবে? অভিযোগের ব্যাপারে ইউএনও মো. বজলুর রশীদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিনিধির ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে মোবাইল ফোন খুদে বার্তায় (এসএমএস) তিনি বলেন, এ ব্যাপারে অফিসিয়াল কোনো বক্তব্য নেই।

খবর- এর আরো খবর