English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

নান্দাইলে বাল্যবিয়ে বন্ধের পরও আতঙ্কে স্কুলছাত্রী

নিবন্ধন ছাড়াই ‘বিয়ে’ আরেক ছাত্রীর

  • আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বেতাগৈর ইউনিয়নে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী নিজ প্রচেষ্টায় নিজেকে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছে। তবে বিয়ে আপাতত বন্ধ হলেও ওই শিক্ষার্থীর ভয় কাটেনি। তার আশঙ্কা, যেকোনো সময় পরিবারের লোকজন তাকে জোর করে বিয়ে দিতে পারে।

এদিকে একই উপজেলায় সদর ইউনিয়নের দাতারাটিয়া গ্রামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ের নিবন্ধন ছাড়াই তুলে নিয়ে গেছে বরপক্ষের লোকজন।

দুটি ঘটনাই ঘটে গত বৃহস্পতিবার রাতে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। বেতাগৈর ইউনিয়নের ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন জানায়, ভুক্তভোগী ইয়াসমিন আক্তার খামাটখালী গ্রামের আজিজুল খাঁর মেয়ে। সে স্থানীয় জহুরা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। একই গ্রামের মো. শহীদের বেকার ছেলের সঙ্গে গতকাল শুক্রবার তার বিয়ের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আগের দিন (বৃহস্পতিবার) রাতে ইয়াসমিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার কাছে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করার অনুরোধ জানায়। প্রধান শিক্ষিকার সূত্র ধরে এ খবর চলে যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদা আক্তার ও পুলিশের কাছে। পরে তাঁদের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হয়।

গতকাল ইয়াসমিন বলে, বিয়ে হয়তো সাময়িক বন্ধ হইছে। কিন্তু বাবার কথাবার্তায় মনে হয়, আমাকে জোর করে হলেও এ বিয়ে দেবেই। তাই যদি হয় তবে আমাকে কেউ পাবে না। এ বিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করেন। আমি পড়তে চাই।

এদিকে দাতারাটিয়া গ্রামের ঘটনা সম্পর্কে এলাকাবাসী জানায়, ভুক্তভোগী নিলুফার ইয়াসমিন সরকারবাড়ি এলাকার লাল মিয়ার মেয়ে। সে গদুরভিটা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। বৃহস্পতিবার নান্দাইল পৌরসভার ঝালুয়া মহল্লার আবু ছিদ্দিকের ছেলে মো. সালেহর (২৮) সঙ্গে তার বিয়ের দিন ধার্য ছিল। এ অবস্থায় আলোচিত ঘাস ফড়িং সংগঠনের তৎপরতায় দিনে বিয়ের কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে রাতে বরের লোকজন চুপ করে রাত আড়াইটার দিকে কোনো নিবন্ধন ছাড়াই কনেকে তুলে যায়।

গতকাল বরের বাড়িতে গেলে বরের চাচা আবু ছাঈদ ভেণ্ডার দাবি করেন, মেয়ের বয়স ১৮ বছর পার হয়েছে। বয়স নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তাহলে নিবন্ধন ছাড়াই মেয়েকে আনলেন কেনএমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মেয়ের এলাকায় একটু সমস্যা ছিল, তাই এখানে আনা হয়েছে।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম জানান, তিনি দুটি ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

নাটোরে রক্ষা লিথির

নাটোর প্রতিনিধি জানান, সেখানে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে জেলার সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী লিথি খাতুন। সে তাজপুর ইউনিয়নের রাখালগাছা মধ্যপাড়ার মো. আব্দুল গনির মেয়ে। চান্দাইকোনার আবু বক্কর নামে এক ছেলের সঙ্গে তার বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বিষয়টি উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আফছার আলীকে জানায় স্বর্ণ কিশোরী জ্যোতি সরকার। এরপর আফছার আলী ওই ছাত্রীর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে বন্ধ করেন।

খবর- এর আরো খবর