English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

নির্বাচনের প্রাক্কালে জোট এবং যুগপৎ আন্দোলন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বাংলাদেশে যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি ও নামসর্বস্ব দল নিয়ে হঠাৎ করে একেকটি জোটের আবির্ভাব ঘটে। পাঁচ বছর এসব নেতাসর্বস্ব দলের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না, নেতারাও খুব একটা জনসমক্ষে আসেন না, দেশের রাজনীতি নিয়ে দৃষ্টিকাড়া কোনো বক্তব্য দেন না। কেউ কেউ অবশ্য জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত কোনো ছোট আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন, মিডিয়ার কল্যাণে জানান দেন যে তিনি আছেন। কেউ কেউ দু-চারটা কথা মাঝেমধ্যে বলেন, মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেন। তবে বাংলাদেশের মতো একটি দেশকে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অগ্রসর করে নেওয়ার মতো মতামত খুব কম নেতার কাছ থেকেই শুনতে পাওয়া যায়।

আসলে কয়েক দশক আগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধরন থেকে বর্তমান বাস্তবতার যে বিশাল গুণগত পরিবর্তন ঘটে গেছে, সেটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের চিন্তাভাবনা ও কর্মসূচির বিস্তার না ঘটাতে পারার কারণে বেশির ভাগ নেতা এবং দল একেবারেই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়েছে, তাদের পেছনে নেতা ও কর্মীও খুব একটা নেই, জনগণ তো নেই-ই। এককালের প্রভাবশালী নেতা এখন কতটা অসহায় অবস্থায় ঘরবাড়ি ও অফিসে সময় কাটান, তা তাঁদের ধারেকাছে ভিড়লেই দেখা যাবে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, আমাদের দেশে রাজনীতি নামে ও প্রচারে যতটা আছে বাস্তবে নেতাদের মেধা-মননে ও চিন্তা-চেতনায় নেই, কিছু থাকলেও সেটিকে ক্রমাগতভাবে অগ্রসর করার কোনো ধারায় নিজেরা যুক্ত থাকেন না। ফলে বেশির ভাগ নেতাই যুগোপযোগী মেধা ও রাজনৈতিক দর্শন চিন্তার জন্য উপযুক্ততা হারিয়ে ফেলেছেন। এর পরও তাঁরা আছেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁরা থাকবেন, মৃত্যুই তাঁদের নাম এবং দলের নাম সমাধিস্থ করতে পারে। নেতাসর্বস্ব দল ও রাজনীতির করুণ পরিণতি এ দেশে অসংখ্য থাকার পরও কেউই রাজনীতির ইতিহাস পাঠ করে দেখেন না। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর আগেই ন্যাপ ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে, তাঁর মৃত্যুর পর ন্যাপ নতুন প্রজন্মের কাছে মোটেও পরিচিত নয়। অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ এখনো জীবিত আছেন; কিন্তু তাঁর দলের নামও এখন আর উচ্চারিত হয় না। ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম নামে আছেযেহেতু সভাপতি আছেন, বি চৌধুরীরও অবস্থা অনেকটা তাই। অন্যদের অবস্থা মনে হয় নতুন করে বলার দরকার নেই।

যাঁরা একসময় নিজ নিজ দল স্বেচ্ছায় অথবা বাধ্য হয়ে ছেড়েছিলেন, নতুন দল গঠন করে দেশ ও জাতিকে নতুন রাজনীতি, গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, তাঁদের তো শক্তিশালী দল নিয়ে দেশে নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দেওয়ার কথা ছিল। গণফোরামকে আওয়ামী লীগ বাধা দেয়নি। দেশের বাম ও মধ্যপন্থার অনেকেই তাঁর দলে একসময় যোগ দিয়েছিলেন; কিন্তু তাঁদের মধুচন্দ্রিমা হওয়ার কোনো সুযোগ ঘটার আগেই দলটি নেতাসর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছিল। বি চৌধুরী বিএনপির মূলধারার রাজনীতির বাইরে একটু উদারবাদী ধারায় চলার চেষ্টা করতে গিয়ে বঙ্গভবনের প্রধান পদই শুধু হারাননি, জীবনের নিরাপত্তা নিতে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের কাছে যেতে হয়েছিল, তাঁর ছেলে মাহীকে সব হারাতে হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে কোনো বিকল্প ধারার রাজনীতি গড়ার চেষ্টাই করেননি। আ স ম আবদুর রবের স্বর্ণযুগ ১৯৭৫ সালের আগেই গত হয়ে গেছে, আশির দশকে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার বিষয়টি ছিল রাজনীতির পরিহাস চক্রের ফসলযার কোনো জনভিত্তি থাকতে পারে না। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর একাত্তরের অসম সাহসী ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা অনেকটাই হিমালয়ের মতো উঁচু; কিন্তু দলীয় রাজনীতিতে তিনি স্বতন্ত্র নজির সৃষ্টির কোনো অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেননি। মাহমুদুর রহমান মান্নার রাজনৈতিক দীক্ষা কোনোকালেই হঠকারিতার চৌহদ্দি অতিক্রম করার উদাহরণ দেয়নি।

বাম নেতারা একসময় রাজনীতিতে তাঁদের দলকে বিকশিত করতে সক্রিয় ছিলেন, নব্বইয়ের দশকে গিয়ে তাতে ভাটা পড়তে থাকে। এখন তাঁদের নাম অতীতের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই না পারার দায় কার? নিশ্চয়ই নিজেদের। অথচ তাঁদের কথা শুনে মনে হয় তাঁরা ভীষণ সফল, ভীষণ আশাবাদী; কিন্তু ডুবন্ত নৌকা তুলে ধরার ক্ষমতাও তাঁদের কারো নেই। দেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় বিশ্বাস ও জাতিগত সাংস্কৃতিক দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতাকে বুঝে নিয়ে দেশে গণতন্ত্রের সমস্যা কোথায়, কিভাবে, কাদের সঙ্গে একত্রে, কাদের বিরুদ্ধে কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর মতো রাজনৈতিক অপশক্তিগুলোর চরিত্র উন্মোচন করে দেশে গণতান্ত্রিক ভাবাদর্শের রাজনীতিসচেতন জনগোষ্ঠী গঠনের কর্ম মহাপরিকল্পনা এখনকার ৯৫ শতাংশের বেশি নেতার মধ্যে নেই। ১৯৭৫ সালের পর থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পকে রাজনীতির বাতাসে ছড়িয়ে যারা গোটা সমাজমানসকে গণতন্ত্রবিরোধী করে ফেলেছেতাদের তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বরূপটিই এ দেশে খুব একটা উন্মোচিত নয়, প্রগতিশীল দাবিদাররা একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গোটা দেশটিকেই ভয়াবহ রাজনৈতিক যথেচ্ছাচারে নিক্ষেপ করে দিয়েছে। এর দায় তাদের, এর সুবিধা নিয়েছে সাম্প্রদায়িক শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারী শক্তি, তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠী, মানহীন শিক্ষাব্যবস্থা, গণমাধ্যমের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা গোষ্ঠী, সুবিধাবাদী প্রশাসন যন্ত্রসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই দ্বিধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর একদিকে দুর্বল অসাম্প্রদায়িকতা, বিপরীত অবস্থানে রয়েছে শক্তিশালী সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন গোষ্ঠী।

বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের আগে সাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের অবস্থান মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখতে হতোখুঁজে পেতে কষ্ট হতো, সেই বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর থেকে সাম্প্রদায়িকতার উন্মাদনা বাড়তে বাড়তে এখন কত শতাংশে পৌঁছেছে, তা নির্ণয় করলে পিলে চমকানোর অবস্থা তৈরি হবে হয়তো। অথচ এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব ও বিকাশের পরিণতি আমাদের রাজনীতিতে অবস্থানকারী ছোট-বড় অনেক দল এবং নেতাই রাখেন না। মস্ত বড় এই প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পথের কথা বলেন না, তেমন রাজনীতির দায় অপরিহার্য হয়ে আছে অনেক আগেইসে কথাও কানে নেন বলে মনে হয় না। অথচ তাঁদের দেখি গণতন্ত্রের জন্য বুক ভাসিয়ে কাঁদতে, গেল গেল সব গেল, গণতন্ত্র গেল, স্বৈরতন্ত্র এসে গেল! এমন কান্না প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর হিটলারও কেঁদেছিলেন, ইতালিতে মুসোলিনিও কেঁদেছিলেন। জনগণ আবেগ আপ্লুত হয়ে দুজনকেই নেতা বানিয়েছিল ভোট দিয়ে। শেষ পর্যন্ত জার্মানি ও ইতালি শুধু নিজ দেশ নয়, বিশ্ব ইতিহাসকে কী দিয়েছিলতা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজনীতির আবেগ আর বাস্তবতা বোধের যদি ব্যাখ্যা জানা না থাকে, তাহলে ইতিহাসের করুণ পরিণতির জন্য সবাইকে শুধু অপেক্ষা করতে হবে, অপশক্তির হাতে চলে যাওয়া ক্ষমতার পরিণতি ভোগ করা থেকে নিস্তার নেই। পাকিস্তান হাজার চেষ্টা করেও কি সাম্প্রদায়িক-সামরিক শক্তির কবল থেকে মুক্ত হতে পারবে? আমরাও একসময় তেমন চক্রেই পড়ে গিয়েছিলাম। কতটা নিরাপদ হতে পেরেছি তা বলা বেশ কঠিন। আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার সর্বত্র সাম্প্রদায়িকতা ও সুবিধাবাদ, দুর্নীতি ও প্রতিক্রিয়াশীলতার ভাবাদর্শ এমনভাবে অনুপ্রবেশ করেছে যে তারা ধর্ম, রাজনীতি, শিক্ষা, প্রচারমাধ্যম এবং প্রতিষ্ঠানের নানা অবস্থানের ভেতরে লুকিয়ে আছে, পোশাক পরিবর্তন করে দেশপ্রেমিক, গণতন্ত্রপ্রেমিক ইত্যাদি সাজার চেষ্টা করছে, নিকট-অতীতে এরা সরকার উত্খাতে ইন্ধন কম দেয়নি, সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। অথচ গণতন্ত্র সম্পর্কে এদের কারোরই কোনো আস্থা নেই। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুযোগ তাদের হাতে গেলে তখনই সুধীসমাজের দাবিদাররা তাদের আসল স্বরূপটি দেখতে পাবে। তখন কারোরই কিছু করার থাকবে না, যেভাবে অনেক দেশেই জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হাতে চলে যাওয়া রাষ্ট্রে অন্যদের স্পেস শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে, মানুষের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে এমন রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা নিয়ে কোনো কোনো দল হঠাৎ করেই জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। অথচ ড. কামাল হোসেন কয়েকটি টিভি চ্যানেলে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলতে পারেননি তাঁরা ক্ষমতায় গেলে কী করবেন? তাঁদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্যই তিনি স্পষ্ট করতে পারেননি। অথচ তাঁর সঙ্গে ঐক্যপ্রক্রিয়ায় রয়েছেন এমন কোনো কোনো নেতা বিএনপি-জামায়াতকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন ও নির্বাচনের ধারণাকে উড়িয়ে দেননি। বোঝা যাচ্ছে, জোটের মধ্যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা নিয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই, কর্মপরিকল্পনাও নেই। তবে বর্তমান সরকারকে বাদ দিয়ে বিএনপি-জামায়াতকে নিয়ে দেশ শাসন করতে তাঁদের কোনো প্রশ্ন নেই, দ্বিধা নেই, অথচ ড. কামাল হোসেন বলেছেন যে তাঁর নেতৃত্বাধীন ঐক্যপ্রক্রিয়া হবে ১৯৭২ সালের সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। তাহলে এখন কার কথা জোটের মূলকথা, সেই প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে যুগপৎ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা আশির দশকে হয়েছে, এরশাদ সরকারের পতন ঘটেছে। কিন্তু তাতে কী গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে? সাম্প্রদায়িকতার প্রভাবাধীন নির্বাচন কোনোকালেই গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত নয়, সংকুচিত করেএটিই ইতিহাসের শিক্ষা। কালো টাকা, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাকোনোটাই নির্বাচনে গণতন্ত্রের জন্য ন্যূনতম সহায়ক হয় না, সরব গণতন্ত্রের দরজা শক্ত করেই বন্ধ করে দেয়। যুগপৎ আন্দোলনের তত্ত্ব আশির দশকে চমক সৃষ্টি করেছিল, আবেগ মথিত রাজনীতির বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল; কিন্তু স্বৈরাচারকে পরাজিত করতে গিয়ে সাম্প্রদায়িকতাকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বৈধতা দেওয়া হলো।

রাষ্ট্রক্ষমতায় সাম্প্রদায়িক শক্তির বৈধ উত্থান স্বৈরতন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর। এটি রাষ্ট্রে রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ সব প্রতিষ্ঠানে হাঁটু গেড়ে বসে যাওয়ার সুযোগ পায়। সাম্প্রদায়িকতার ছদ্মাবরণের শক্তিকে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছেদ করা মোটেও সম্ভব নয়, বরং ক্ষমতার সুযোগ-সুবিধা পেয়ে তারা আরো পুষ্ট হতে পারে। বাংলাদেশে নব্বই-উত্তর সময়ে সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষক রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান সংহত হয়েছে, এর ভাবাদর্শে তরুণদের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করতে পারছেযারা গণতন্ত্র এবং ধর্মকে শেষ বিচারে প্রতিপক্ষই ভাবে, যদিও নির্বাচনী সুযোগ নিতে গণতন্ত্র তাদের কাছে মস্ত বড় আওড়ানো বুলি। কিন্তু গণতন্ত্র তাদের কাছে পশ্চিমা মতবাদ, কুফরি মতবাদ ইত্যাদি হিসেবেই বিবেচিত এমন রাজনৈতিক অপশক্তির সঙ্গে যখন যুগপৎ আন্দোলন, জোট গঠন, নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির কূটকৌশল নিহিত থাকে তখন দেশ শেষ বিচারে আরো অগণতান্ত্রিক সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী, সুবিধাবাদী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির হাতেই চলে যায়। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের পর থেকে নানা পর্বে সাম্প্রদায়িকতার কাছেই হার মেনেছে, সেই শক্তিকেই স্পেস বেশি দিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের গণতন্ত্রের ধারা সংকুচিত করেছে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার মতো নেতৃত্বকে ১৯৭৫ সালে একবার দলসুদ্ধ হত্যা করেছে, ২০০১-২০০৬ সালে অবশিষ্টাংশ হত্যার মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করছিল, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে নিশ্চিহ্ন করার কাজ সমাপ্ত করতে মোটেও কৃপা করবে না, যেভাবে ১৯৭৫ সালে কাউকে ছাড়েনি, ২০০১-২০০৬ সালে নেতাকর্মীদের রক্তে রঞ্জিত করতে ছাড়েনি। শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। সেটি সম্ভব হলে এখনকার গণতন্ত্রপ্রেমীদের বশীভূত করতে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রশক্তির কোনো চিন্তাই করতে হবে না। নির্বাচনের আগে নতুন ঐক্য জোট গঠন, যুগপৎ আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশলী গোপন জোট গঠনের অন্তরালে নতুন মোড়কে পুরনো শক্তির ষড়যন্ত্রই যেন আবার একত্র হচ্ছে। তেমন আভাস-ইঙ্গিত তাঁরাই দিচ্ছেন, আমরা বানিয়ে কিছুই বলছি না।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

মুক্তধারা- এর আরো খবর