English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

বোঝার সুবিধার্থে ধাপে ধাপে কোরআন নাজিল করা হয়েছে

  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

১০৫. আমি সত্যসহ কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং তা সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে। আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি শুধু সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে।

১০৬. আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি খণ্ড খণ্ডভাবে, যাতে তুমি তা মানুষের সামনে ধাপে ধাপে পাঠ করতে পারো। আর আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১০৫-১০৬)

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে মুসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছিল। এগুলো বর্ণনা করা হয়েছে কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর সত্যায়ন করার জন্য। আলোচ্য দুই আয়াতে কোরআন সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। অনুরূপ এটি জিবরাইল (আ.) যথাযথভাবে নিয়ে এসেছেন। মহানবী (সা.)ও তা কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়াই প্রচার করেছেন। তাই এ কোরআনের ব্যাপারে কোনো ধরনের সন্দেহের অবকাশ নেই। আর কোরআন ধাপে ধাপে অবতীর্ণ করা হয়েছে, যাতে কোরআনের পাঠক তা সহজে বুঝতে পারে।

কোরআনের তথ্যকণিকা

৬১০ খ্রিস্টাব্দ ও রমজান মাসের কদরের রজনীতে হেরা পর্বতের গুহায় সর্বপ্রথম কোরআন অবতীর্ণ হয়।

অবতীর্ণের মোট সময়কাল ২২ বছর পাঁচ মাস ১৪ দিন। প্রথম নাজিলকৃত পূর্ণ সুরা হলো সুরা ফাতিহা।

সর্বপ্রথম নাজিলকৃত কোরআনের আয়াত হলো সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত। কোরআনের প্রথম শব্দ হলো ইকরাতুমি পড়ো। কোরআনের সর্বশেষ নাজিলকৃত সুরা হলো সুরা আন-নসর এবং সর্বশেষ নাজিলকৃত আয়াত হলো সুরা বাকারার ২৮১ নম্বর আয়াত। কোরআন অবতীর্ণ হওয়া সমাপ্ত হয় হিজরি ১১ সালের সফর মাসে। কোরআনের সর্ববৃহৎ সুরা হলো সুরা বাকারা। এর আয়াতসংখ্যা ২৮৬। কোরআনের সবচেয়ে ছোট সুরা হলো সুরা কাওসার। এর আয়াতসংখ্যা ৩।

পবিত্র কোরআনের মোট সুরা ১১৪টি। এর মধ্যে মাক্কি সুরা (হিজরতের আগে বর্ণিত) ৯২টি, মাদানি সুরা (হিজরতের পরে বর্ণিত) ২২টি। কোরআনে মোট ৫৪০টি রুকু আছে। প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী কোরআনের মোট আয়াত ছয় হাজার ৬৬৬টি। কিন্তু দায়িত্বশীল গবেষকদের দৃষ্টিতে কোরআনের মোট আয়াত ছয় হাজার ২৩৬টি। কোরআনের মোট শব্দ ৮৬ হাজার ৪৩০টি। কোরআনের মোট অক্ষর তিন লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৩টি, মতান্তরে তিন লাখ ৪৯ হাজার ৩৭০টি, মতান্তরে তিন লাখ ৫১ হাজার ২৫২টি। মোট পারা ৩০টি।

কোরআনের হরকতের মধ্যে জের ৩৯ হাজার ৫৮২, জবর ৫২ হাজার ২৩৪, পেশ আট হাজার ৮০৪, জজম এক হাজার ৭৭১, নুকতা এক লাখ পাঁচ হাজার ৬৮১, তাশদিদ এক হাজার ৪৫৩, ওয়াক্ফ ১০ হাজার ৫৬৪, মাদ এক হাজার ১৭১ ও আলিফ মামদুদাহ ২৪০টি।

সর্বপ্রথম কোরআনে নুকতা ও হরকত প্রবর্তন করেন আবুল আসওয়াদ দুয়াইলি, মতান্তরে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। হানাফি মাজহাব মতে, কোরআনে সিজদার আয়াত ১৪টি এবং সাকতার সংখ্যা চার।

কোরআনে ২৫ জন নবী-রাসুলের নাম এসেছে। কোরআনে চারজন ফেরেশতার নাম এসেছে। কোরআনে শয়তান শব্দটি এসেছে ৮৫ বার, ইবলিস এসেছে ১১ বার। জিন জাতির প্রসঙ্গ এসেছে ৩২ বার।

নবীদের মধ্যে পবিত্র কোরআনে সবচেয়ে বেশি এসেছে মুসা (আ.)-এর নাম। তাঁর নাম এসেছে ১৩৫ বার।

কোরআনে মহানবী (সা.)-এর নাম এসেছে চারবার। কোরআনে ছয়জন কাফিরের নাম আছে। কোরআনে বিসমিল্লাহ নেই সুরা তাওবায়। কোরআনে বিসমিল্লাহ দুইবার এসেছে সুরা নামলে। কোরআনে মাত্র একজন সাহাবির নাম এসেছে। তাঁর নাম জায়েদ (রা.)।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

মুক্তধারা- এর আরো খবর