English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ব্যক্তিত্ব

  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

নূর মোহাম্মদ শেখ

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইলে। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়, তিনি তাঁদের অন্যতম। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেসা। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সপ্তম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করেননি। নিজ গ্রামেরই সম্পন্ন কৃষক ঘরের মেয়ে তোতাল বিবিকে বিয়ে করেন। ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করার পর ১৯৭০ সালে তাঁকে যশোর সেক্টরে বদলি করা হয়। এরপর তিনি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালে সুতিপুরে নিজস্ব প্রতিরক্ষার সামনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে তাঁকে অধিনায়ক করে পাঁচজনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং প্যাট্রল পাঠানো হয়। শত্রুর মর্টারের গোলা এসে লাগে তাঁর ডান কাঁধে। সঙ্গীরা তাঁকে বহন করে নিয়ে গেলে সবাই মারা পড়বেএই আশঙ্কায় তিনি রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে রাজি হননি। পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র, অন্যদিকে মাত্র অর্ধমৃত সৈনিক; সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিত গুলি। এই অসম অবিশ্বাস্য যুদ্ধে তিনি শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতিসাধন করেন যে তারা মৃত্যুপথযাত্রী ওই যোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে বিকৃত করে চোখ দুটি উপড়ে ফেলে। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]

মুক্তধারা- এর আরো খবর