English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ফেরাউনের পতনের পর বনি ইসরাঈলের পুনঃপ্রতিষ্ঠা

  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

১০৪. এরপর আমি (আল্লাহ) বনি ইসরাঈলকে বললাম, তোমরা ভূপৃষ্ঠে বসবাস করো। যখন কিয়ামতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে তখন তোমাদের সবাইকে আমি একত্র করে উপস্থিত করব। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১০৪)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, ফেরাউন মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের স্বদেশ থেকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল। পরিণতিতে মহান আল্লাহ ফেরাউনকে সদলবলে সাগরে নিমজ্জিত করেছেন। এর পরের ঘটনা আলোচ্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। ফেরাউনকে ধ্বংস করে মহান আল্লাহ বনি ইসরাঈলকে পৃথিবীতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাদের সিরিয়া বা মিসরের যেকোনো স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাদের জানিয়ে দিয়েছেন, কিয়ামতের দিন সবাইকে একসঙ্গে সমবেত করা হবে।

আলোচ্য আয়াতে অন্য ইঙ্গিতও আছে। কাহিনিটি বর্ণনা করার মূল উদ্দেশ্য ভিন্ন। মক্কার মুশরিকরা মুসলমানদের ও নবী করিম (সা.)-কে আরবের মাটি থেকে উত্খাত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছিল। তাই তাদের জানানো হয়েছে, ফেরাউন এ সব কিছু করতে চেয়েছিল মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলের সঙ্গে। কিন্তু কার্যত ফেরাউন ও তার সঙ্গীদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীতে মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের বসবাস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন তোমরাও যদি এই একই পথ অবলম্বন করো, তাহলে তোমাদের পরিণামও এর থেকে ভিন্ন হবে না।

মুসা (আ.)-এর নবুয়ত লাভের আগে ফেরাউন বনি ইসরাঈলকে অবৈধভাবে দাস বানিয়ে রেখেছিল। এই দাসদের সঙ্গে তার জালিম বাহিনী অমানবিক ও বর্বরোচিত আচরণ করত। কোনো পরিবারে ছেলেসন্তানের জন্ম হলে সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটিকে হত্যা করা হতো। শুধু মেয়ে হলেই বেঁচে থাকার অধিকার ছিল। তা-ও এ কারণে যে এই মেয়েরা তাদের ভোগের উপকরণ হবে। মুসা (আ.)-এর আবির্ভাবের পর ফেরাউনি ক্ষমতার মসনদ তছনছ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে জালিম ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দেন। এটি নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার বড় নিয়ামত। এই নিয়ামত তিনি বনি ইসরাঈলকে হজরত মুসা (আ.)-এর মাধ্যমে দান করেছেন। ফেরাউনের জুলুম থেকে তাদের মুক্তি দিয়ে তিনি তাদের পরীক্ষা করতে চেয়েছেন। দেখতে চেয়েছেন তারা ঈমানের পথে পরিচালিত হয়, নাকি গোমরাহিতেই লিপ্ত থাকে।

সুখ ও দুঃখ দিয়ে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করার পর কাফিরদের চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়া আল্লাহর রীতি। তাই আল্লাহ তাআলা অব্যাহত অবকাশ দেওয়ার পর পরিশেষে প্রবল ক্ষমতাধর ফেরাউনকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাদের নির্মিত ভোগবিলাসের সব উপকরণ, বড় বড় দালানকোঠা, ফলমূলের বাগানসহ সবই চোখের নিমেষে ধ্বংস হয়ে গেছে। তারপর তিনি নির্যাতিত, দুর্বল হিসেবে পরিগণিত বনি ইসরাঈলকে ফেরাউন ও তার স্বজনদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। বনি ইসরাঈলকে মিসর ও সিরিয়ার শাসনক্ষমতা দান করেছেন। মাটির উর্বরতা, ফল-ফসলের অধিক উৎপাদন আর নবী-রাসুলদের আবাসভূমি ও সমাধিস্থান হিসেবে এলাকা দুটির প্রাচুর্যতা সর্বজনবিদিত। আল্লাহর ওয়াদার এ বাস্তবায়ন ঘটেছে তাদের সবর, ধৈর্য ও দৃঢ়তার ফলস্বরূপ।

আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, কিয়ামতের প্রতিশ্রুত সময় এলে পৃথিবীর আদি-অন্ত সব মানুষকে একত্রে এক জায়গায় জড়ো করা হবে। সেখানেই সবার জীবন-কর্মের চূড়ান্ত মূল্যায়ন হবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

মুক্তধারা- এর আরো খবর