English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

মুসা (আ.) ৯টি স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছেন

  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

১০১. ইসরাঈলের বংশধরদের জিজ্ঞেস করো, মুসাকে আমি ৯টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছিলাম। যখন সে তাদের কাছে এসেছিল ফেরাউন বলেছিল, হে মুসা, আমি মনে করি তুমি জাদুগ্রস্ত। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১০১)

তাফসির : আগের আয়াতগুলোতে মক্কার কাফির ও তাদের অভিনব দাবিদাওয়া সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে বনি ইসরাঈল ও মুসা (আ.) সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। বনি ইসরাঈল মুসা (আ.)-এর কাছে আল্লাহকে দেখার দাবি জানিয়েছিল। মক্কার কাফিররাও ঈমান আনার শর্ত হিসেবে মহান আল্লাহ ও ফেরেশতাদের দেখতে চেয়েছিল। এ আয়াতে মক্কার কাফিরদের ফরমাশি মোজেজা দেখানোর দাবির জবাব দেওয়া হয়েছে। কাফিররা বলত, আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব না, যতক্ষণ না তুমি অমুক অমুক কাজ করে দেখাবে। জবাবে তাদের বলা হয়েছে, তোমাদের আগে ফেরাউনের জাতিকে পর পর ৯টি সুস্পষ্ট মোজেজা দেখানো হয়েছিল; কিন্তু তার পরও তারা ঈমান আনেনি। তাদের পরিণতিও হয়েছিল ভয়াবহ।

এখানে যে ৯টি নিদর্শনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো এর আগে সুরা আরাফে বর্ণিত হয়েছে। যদিও ওই ৯টি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তাফসিরবিদদের মতপার্থক্য আছে। সেগুলো হলো(১) লাঠি, যা সাপে পরিণতি হতো। (২) সাদা হাত, যা বগলের ভেতর থেকে বের করার পর চমকাতে থাকত। (৩) জাদুকরদের জাদুকে প্রকাশ্য জনসমক্ষে পরাভূত করা। (৪) এক ঘোষণা অনুযায়ী সারা দেশ দুর্ভিক্ষকবলিত হওয়া এবং তারপর একের পর এক। (৫) তুফান, (৬) পঙ্গপাল, (৭) শস্যকীট, (৮) ব্যাঙ এবং (৯) রক্তের আপদ অবতীর্ণ হওয়া।

তাফসিরবিদদের বড় একটি অংশ মনে করে, এখানে যে ৯টি সুস্পষ্ট নিদর্শনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ৯টি বিধি-বিধান। সেগুলো হলোআল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না, ব্যভিচার কোরো না, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা কোরো না, চুরি কোরো না, জাদু কোরো না, সুদ খেয়ো না, নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য তাকে আইনের হাতে তুলে দিয়ো না, সতীসাধ্বী নারীকে অপবাদ দিয়ো না, বিশেষভাবে তোমরা ইহুদিরা শনিবারে সীমা লঙ্ঘন কোরো না। (আততাফসিরুল মুনির; আততাফসিরুল কাবির)

এসব নিদর্শন বা বিধি-বিধান নিয়ে যখন মুসা (আ.) ফেরাউনের কাছে গিয়েছেন তখন ফেরাউন বলেছে, এগুলো জাদুমন্ত্র। আর মুসা (আ.) জাদুকরের মতো একজন জাদুকর (নাউজুবিল্লাহ)।

মক্কার কাফিররাও মহানবী (সা.)-কে জাদুকর বলে প্রচার করত। কেননা মানুষ তাঁর কথা শুনেই মুগ্ধ হয়ে যেত মোহগ্রস্তের মতো। কাফিররা মহানবী (সা.)-কে হেয় করার জন্য নানা ধরনের কথা বলতে থাকে, নানা ধরনের অজুহাত দাঁড় করাতে থাকে। একবার তারা বলে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল নন। একবার বলে, এ তো জাদুকর। আসলে তারা যদি সঠিকভাবে চিন্তাভাবনা করত, তাহলে উপলব্ধি করতে পারত যে সত্যি তিনি আল্লাহর নবী ও রাসুল। কেননা তাঁর কথামালা এতই উঁচুমানের, যাঁর সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। জাদুমন্ত্রে মানবজীবনের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো আলোচনা থাকে না, আদেশ-নিষেধ ও আইন-কানুন থাকে না এবং সমাজ পরিবর্তনের নির্দেশনা থাকে না। অথচ মহানবী (সা.)-এর কাছে আসা ওহির মধ্যে এসব আলোচনা আছে। সুতরাং নবীদের কথা জাদু নয়। নবীরা জাদুগ্রস্তও নন। তা সত্ত্বেও কাফিররা যুগে যুগে নবীদের ওপর জাদুর অপবাদ দিয়েছে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

মুক্তধারা- এর আরো খবর