English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

এই সময়

ট্রাম্পের দিনকাল ভালো যাচ্ছে না

তারেক শামসুর রেহমান

  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিনকাল খুব একটা ভালো যাচ্ছে না ইদানীং। একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা, যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্ক ধামাচাপা দিতে তাদের অর্থ দেওয়াএসব ঘটনা যেমন তাঁর ভাবমূর্তিকে নষ্ট করেছে, ঠিক তেমনি ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার সম্ভাবনা তাঁকে বারবার বিতর্কিত করছে। তাঁর প্রশাসন থেকে একের পর এক তাঁর সহযোগীরা পদত্যাগ করছেন। মাইকেল কোহেন, যিনি ট্রাম্পের আইনজীবী ছিলেন, তিনি এখন নিউ ইয়র্কে বিচারের সম্মুখীন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি ভিন্ন মামলায় তিনি দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের নির্দেশেই দুজন যৌনকর্মীকে অর্থ দিয়েছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী ম্যানেজার পল মানাফোর্টও বিচারের মুখোমুখি। ট্রাম্প এখন অভিশংসনেরও প্রায় মুখোমুখি। শিগগিরই হয়তো এটি হবে না। তবে সংবাদপত্রগুলো তাঁর বিরুদ্ধে লেগে আছে। দি ইকোনমিস্টের সর্বশেষ সংস্করণের কাভার স্টোরি ট্রাম্পকে নিয়েAbove the law? তিনি কি আইনের ঊর্ধ্বে? আর ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট মাইকেল গারসনের প্রবন্ধ A Cancer on the presidency (২৩ আগস্ট)। সব মিলিয়ে একজন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে অতীতে এমন আলোচনা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিজীবনের এটা একটা কালো দিক। শুধু তা-ই নয়, একসময় যাঁদের তিনি ঘনিষ্ঠজন মনে করতেন, তাঁরাও একের পর এক তাঁকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এতে তিনি একরকম অসহায় হয়ে পড়েছেন। ট্রাম্পের জন্য একটা দুঃখজনক সংবাদ হচ্ছে, তিনি বড় সংবাদপত্রগুলোকে, বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট কিংবা বোস্টন গ্লোবের মতো সংবাদপত্রগুলোকে তাঁর সমর্থনে আনতে পারেননি। প্রথম থেকেই এসব মূলধারার সংবাদপত্র ট্রাম্পের বিরোধিতা করে আসছিল। সম্প্রতি ১০০ মার্কিন সংবাদপত্র তাদের সম্পাদকীয় পাতায় ট্রাম্পের সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এর আগে ট্রাম্প মার্কিন মিডিয়াকে মার্কিন জনগণের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। এর প্রতিবাদে বোস্টন গ্লোবের উদ্যোগে গত ১৬ আগস্ট ১০০টির ওপর সংবাদপত্র ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ অবস্থান নিয়েছে।

এমন কোনো দিন নেই, যেদিন মার্কিন সংবাদপত্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো সংবাদ ছাপা হচ্ছে না। সবই নেতিবাচক। তাঁর ১৮ মাসের শাসনামলে খুব কম ক্ষেত্রেই ট্রাম্প সম্পর্কে পজিটিভ সংবাদ ছাপা হয়েছে, যদিও এসব সংবাদকে তিনি খুব একটা গুরুত্ব দেন না। এখন দেখা যাচ্ছে, সংবাদপত্রের পাশাপাশি বিচার বিভাগের সঙ্গেও তিনি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন।

এখন যে প্রশ্নটি কোনো কোনো মহল থেকে উচ্চারিত হচ্ছে, তা হচ্ছে তিনি অভিশংসিত হতে পারেন। এ মুহূর্তে এটা হবে না। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলেই এই অভিশংসন সম্ভব। ৮ নভেম্বর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে একজন কংগ্রেস সদস্য আল গ্রিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই আহ্বানে সুর মিলিয়েছেন রন ফেইন, যিনি ফ্রি স্পিচ ফর পিপল নামে একটি সংগঠনের প্রধান। তিনি একটি বইও লিখেছেন, The Constitution Demands it : The case for the Impeachment of Donald Trump। বইটিতে রন ফেইন লিখেছেন, ট্রাম্পের জন্য অপশন দুটিহয় তিনি পদত্যাগ করবেন অথবা তিনি অভিশংসনের মুখোমুখি হবেন। এ মুহূর্তে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে রিপাবলিকানদের আসন ৫১, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭, দুজন দলনিরপেক্ষ। আর প্রতিনিধি পরিষদে (আসন ৪৩৫), রিপাবলিকানদের সংখ্যা ২৩৬, আর ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যা ১৯৩। ছয়টি পদ খালি রয়েছে। এখন নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ডেমোক্র্যাটরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, একমাত্র তখনই অভিশংসনের প্রশ্নটি আসবে। এর আগে অভিশংসনের কোনো উদ্যোগ সফল হবে না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ট্রাম্প একের পর এক সমস্যায় জড়িয়ে যাচ্ছেন, তাঁর সহযোগীরা হয় তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন অথবা ট্রাম্প তাঁদের বহিষ্কার করেছেন। এতে একটি জনমত তৈরি হচ্ছে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর সমর্থক অর্থাৎ রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে। ট্রাম্প তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ নিয়েও সমস্যায় আছেন। যৌনকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং এ সম্পর্ক ধামাচাপা দেওয়ার সব উদ্যোগের যেসব খবরাখবর নিত্য ছাপা হচ্ছে, তা যেকোনো মার্কিন নাগরিকের জন্যও অসম্মানজনক। কেননা ট্রাম্প তাদের প্রেসিডেন্ট। তাঁর ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন মাইকেল কোহেন। তাঁর এখন বিচার হচ্ছে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানের সময় প্রচারাভিযানের জন্য যে অর্থসংশ্লিষ্ট আইন রয়েছে, তা তিনি ভঙ্গ করেছিলেন। তিনি যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তাতে তিনি বলেছেন, তিনি যা করেছেন, তা প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই করেছেন। প্রেসিডেন্ট তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা তিনি পালন করেছেন মাত্র।

রবার্ট মুলার ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে এখন তদন্ত করছেন। এ তদন্ত নিয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে রবার্ট মুলারের এক ধরনের বিবাদ শুরু হয়েছে। মুলারের কর্মকাণ্ড নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ মুলার আইনবহির্ভূতভাবে অনেক কাজ করছেন, যা আইন তাঁকে অনুমোদন দেয়নি। ম্যান্ডেটের বাইরে গিয়ে তিনি কাজ করছেন, এ অভিযোগ ট্রাম্পের। যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর একটি অভিযোগ উঠেছিল যে রাশিয়ার হ্যাকাররা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার জন্য হিলারি ক্লিনটনের (যিনি ট্রাম্পের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন) ই-মেইল প্রকাশ করে দিয়েছিল। ট্রাম্প বিষয়টি জানতেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই মুলার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তিনি বিষয়টি তদন্ত করছেন। তাঁর তদন্তে যদি সত্যি সত্যিই এটা প্রমাণিত হয় যে ট্রাম্প বিষয়টি জানতেন, তাহলে ট্রাম্প অভিশংসন এড়াতে পারবেন না। রিপাবলিকানদের অনেক আইন প্রণেতা অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিতে পারেন। সম্ভবত ট্রাম্প এটা আঁচ করতে পারছেন। তাই তিনি এটা বলার চেষ্টা করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সম্মানহানি করার জন্যই মুলার তাঁর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি তাঁর হতাশা এমন পর্যায়ে গিয়ে উন্নীত হয়েছিল যে তিনি মুলার ও তাঁর টিমকে দুর্বৃত্ত হিসেবে আখ্যায়িত করতেও দ্বিধা বোধ করেননি। পাঠক স্মরণ করতে পারেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মার্কিন সংবাদপত্র খবর দিয়েছিল যে ট্রাম্পের যথেষ্ট ব্যাবসায়িক স্বার্থ রয়েছে রাশিয়ায়। তাঁর কম্পানি কর্তৃক পরিচালিত ট্রাম্প টাওয়ার হোটেল মস্কোসহ অন্যান্য শহরে রয়েছে। এমনকি ট্রাম্পের রাশিয়ায় যে বিনিয়োগ রয়েছে, তাদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ব্যক্তিগত সখ্য রয়েছে। তাঁরাই চাচ্ছিলেন ট্রাম্প নির্বাচনে বিজয়ী হোন।

এখন মুলারের তদন্ত কত দিনে শেষ হবে, বলা যাচ্ছে না। তবে মুলার একের পর এক সমস্যা তৈরি করছেন ট্রাম্পের জন্য। তিনি এরই মধ্যে নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেনের বাসভবনে গোয়েন্দাদের পাঠিয়েছেন। গোয়েন্দারা সেখান থেকে প্রচুর তথ্য উদ্ধার করেছে। এতে দেখা যায় কোহেন ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেসনসের সঙ্গেও ট্রাম্পের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। অথচ সেসনস ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সহযোগিতা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প তাঁকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করেন। কিন্তু এখন ট্রাম্প ও সেসনস উভয়ই প্রকাশ্যে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়েছেন। প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের যিনি চেয়ারম্যান ছিলেন, সেই মানাফোর্টকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া, ব্যাংক জালিয়াতি ইত্যাদি। ট্রাম্পের অভিযোগ, সেসনস মানাফোর্টকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁকে অর্থসংক্রান্ত আইন ভঙ্গের (নির্বাচনী প্রচারণার সময়, ২০১৬) অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। অন্যদিকে সেসনস দাবি করেছেন, তিনি বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা হয়েও বিচার বিভাগকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারছেন না। প্রেসিডেন্ট যে তাঁর কর্মকাণ্ডে অবৈধ হস্তক্ষেপ করছেন, তা তিনি জানিয়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করেননি। আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ট্রাম্প সেসনসকে বরখাস্ত করতে পারেন। কিন্তু এতে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে, এটা বিবেচনায় নিয়েই তিনি এ কাজ করছেন না। তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, যৌনকর্মী ম্যাগডোগালের (যার আসল নাম ট্রেফানি ক্লিফোর্ড) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও সেই সঙ্গে আরো এক যৌনকর্মীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তাঁকে সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেপ্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই যৌনকর্মী ম্যাগডোগালকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন, যাতে ম্যাগডোগাল বিষয়টি চেপে যান। কারণ নির্বাচনের আগে এটা জানাজানি হলে, তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরেকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল যে ন্যাশনাল এনকোয়ার নামে অপর একটি সংবাদপত্র ম্যাগডোগাল-ট্রাম্পের সম্পর্কের বিষয়টি জানত। ন্যাশনাল এনকোয়ারের মালিকানা আমেরিকান মিডিয়া নামে একটি কম্পানির হাতে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আমেরিকান মিডিয়াকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছিল, যাতে পত্রিকাটি (একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা) ম্যাগডোগাল-ট্রাম্পের বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন না ছাপে। আইনজীবী কোহেন বিষয়টি ফাঁস করে দিয়েছিলেন। বিষয়টি সামনে চলে আসে যখন ম্যাগডোগাল ২০১৮ সালের মার্চ মাসে লস অ্যাঞ্জেলেস কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন ন্যাশনাল এনকোয়ারের বিরুদ্ধে, যাতে তিনি অভিযোগ আনেন ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি ফাঁস করতে পত্রিকাটি বাধা দিচ্ছে। এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে ওই পত্রিকার যে চুক্তি হয়েছিল, তা বাতিলের আরজিও জানান তিনি। পরে ১৯ এপ্রিল (২০১৮) পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর সমঝোতা হয় এবং তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি পান। তাঁকে যে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কথা না বলার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছিল, বিষয়টি ট্রাম্প প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে সম্পর্কের বিষয়টি তিনি স্বীকার করে নিয়েছিলেন। ফক্স টেলিভিশন চ্যানেলে তিনি স্বীকার করেন ম্যাগডোগালকে অর্থ দিয়েছিলেন তিনি। তবে তা নির্বাচনী তহবিল থেকে দেননি, দিয়েছিলেন নিজস্ব তহবিল থেকে। এতে কোনো আইন ভঙ্গ হয়নি। অপর একজন যৌনকর্মী স্টর্মি ড্যানিয়েলকেও ট্রাম্প এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। কোহেনের স্বীকারোক্তিতেও এ কথা জানা যায়।

এমনিতেই তাঁর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। চীনের সঙ্গে আবারও বিবাদে জড়িয়েছেন নতুন করে আরো শুল্ক আরোপ করায়। চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, মেক্সিকো সবার সঙ্গেই তিনি বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন। এই বাণিজ্যযুদ্ধ অর্থনীতিতে আঘাত করছে। মার্কিন অর্থনীতি খুব যে উন্নত হয়েছে, তা বলা যাবে না। এই যখন পরিস্থিতি তখন একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, যা তাঁর অবস্থানকে দুর্বল করছে। এখন এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় একটাইহয় পদত্যাগ নতুবা অভিশংসনের মুখোমুখি হওয়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত সাহসী মানুষ। তিনি পদত্যাগ করবেন না। অভিশংসন এড়াতে যা যা করা দরকার, তা তিনি করবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ভালো করলে, তিনি অভিশংসনের চাপ এড়াতে পারবেন। এখন রাজনৈতিকভাবে তিনি এসব সমস্যা কিভাবে মোকাবেলা করবেন, সেটাই দেখার বিষয়।

লেখক : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

tsrahmanbd@yahoo.com

মুক্তধারা- এর আরো খবর