English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

রাঘব বোয়ালদের চিহ্নিত করা উচিত

  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

আমাদের পরিবহন সেক্টর এক অশুভ শক্তির কাছে জিম্মি। হাজারো অনিয়ম, দুর্নীতি পরিবহন সেক্টরের প্রতিদিনের চিত্র। লাগামহীন ভাড়া আদায়, আইন-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে গাড়ি চালানোএহেন অরাজকতা বিশ্বের আর কোনো দেশে আছে বলে আমার মনে হয় না। সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে। রাজধানীসহ সারা দেশে দুর্ঘটনা ও যানজটের প্রধান কারণ পরিবহন খাতে নৈরাজ্য। লাগামহীন বর্ধিত ভাড়া আদায় ডাকাতির মতো মনে হয়, কিন্তু দেখার কেউ নেই। সড়ক ও পরিবহন খাতকে অভিভাবকহীন বখে যাওয়া সেক্টর মনে হয় আমার কাছে। মাঝেমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দলবল নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে মিডিয়ায় নিজেকে প্রদর্শন করে গলাবাজি করেন, সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি তাঁর চোখে পড়ে না। যাত্রীদের সঙ্গে ছদ্মবেশে রাস্তায় নেমে দেখুন, তাহলে বুঝবেন আমরা কোথায় বাস করছি। গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা হাঁপিয়ে তুলেছে আমাদের। রাস্তায় বের হতে গেলেই শঙ্কা তাড়া করে। আমরা সরকারের কাছে অনতিবিলম্বে পরিবহন সেক্টরের শৃঙ্খলা ফেরত চাই। গণপরিবহনের অনিয়ম দূর করতে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। আইনকে আরো জোরালো করতে হবে। পরিবহন মালিকদের অসাধু ক্ষমতার উৎস কী, তা জনসমক্ষে আনতে হবে। কার ছত্রচ্ছায়ায় তাদের এমন স্বেচ্ছাচারিতা? পরিবহন সেক্টরের আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে চাঁদাবাজি। প্রতিটি গাড়ি থেকেই চাঁদা আদায় করে ক্ষমতাধর রাঘব বোয়ালরা। প্রশাসন তাদের কিছুই করতে পারছে না। তবে কি সরকার নিজেও তাদের কাছে জিম্মি? চাঁদাবাজির টাকা জোগান দিতে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অধিক ভাড়া আদায় করছে পরিবহন শ্রমিকরা। এগুলো সরকারকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। গণপরিবহনে সিটিং সার্ভিস চালু হয়েছে। এটা প্রতারণা। পকেট কাটার অভিনব কৌশল। অল্পসংখ্যক যাত্রীর কাছ থেকে দ্বিগুণ থেকে চার গুণ ভাড়া আদায় করে চলা এসব গাড়ির কারণে বেশির ভাগ যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়িতে উঠতে পারে না। অফিসে লেট, বাসায় ফিরতে লেটএসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। সিটিং সার্ভিসের বাসগুলো ভাড়া আদায়ে কোন আইন অনুসরণ করছে? যদি আইন না মানে তাহলে কিসের ভিত্তিতে জনসাধারণকে হয়রানি করছে তা সরকারকে অবিলম্বে দেখতে হবে। গণপরিবহনের নৈরাজ্য বন্ধ করতে সরকার ও প্রশাসনকেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে। সাধারণ যাত্রীদের ভূমিকা এখানে নগণ্য। মালিকপক্ষ তো রাঘব বোয়াল। এই যে এত আন্দোলন, এত সভা-সমাবেশ, টক শো, প্রশাসন ও সরকারের নির্দেশনা, তার পরও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরছে না। কিছুদিন আগে ছাত্র-আন্দোলন এই সেক্টরকে কিছুটা নাড়িয়ে দিলেও শৃঙ্খলায় ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। এখনো চলছে ফিটনেসহীন গাড়ি, রয়েছে লাইসেন্সহীন চালক, লাগামহীন ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি প্রভৃতি অসংগতি। এসব কারণেই অহরহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।

পরিবহন সেক্টরের অশুভ শক্তির মদদদাতাদের জনসমক্ষে আনা উচিত। কার ছত্রচ্ছায়ায় এমন অরাজকতা পরিবহন খাতে? জনগণ জানতে চায়। আমরা শান্তি ও স্বস্তিতে থাকতে চাই, নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে চাই। সরকারকে কঠোর হতে হবে, প্রশাসনকে সততার সঙ্গে সরকারের নির্দেশমতো পরিবহন আইন কার্যকরে ভূমিকা রাখতে হবে। পরিবহন খাতের রাঘব বোয়ালদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। জনগণের মধ্যে সড়কের নিরাপত্তাবিষয়ক ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে। তাদের সচেতন করে তুলতে হবে। প্রশাসনের সততা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। ঘুষ কিংবা চাঁদা গ্রহণের মাধ্যমে কাউকে যেন আইনের ঊর্ধ্বে না ভাবেন ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সেদিকে সরকারকেই খেয়াল রাখতে হবে। দুর্ঘটনাবিষয়ক আইন আরো কঠোর করতে হবে। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করতে হবে। ফিটনেসহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। পরিবহন চালক ও শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে। সিটিং সার্ভিস বন্ধ করতে হবে। জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে। ব্যক্তিগত পরিবহনগুলোর যত্রতত্র পার্কিং ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

মতামত- এর আরো খবর