English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

শৃঙ্খলা ফেরাতে কয়েকটি প্রস্তাব

  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ৯৬টি জাতীয় মহাসড়ক ও ১২৬টি আঞ্চলিক মহাসড়ক রয়েছে। এসব সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত রাখতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর দেশে গাড়ির পরিমাণ যে হারে বাড়ছে সে অনুপাতে রাস্তাঘাট কিন্তু বাড়ছে না। পুরনো রাস্তা প্রশস্ত করা গেলে যানবাহন চলাচলে আরো সুবিধা হতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাস্তাঘাট প্রশস্ত করার মতো পরিকল্পনা হাতে নেওয়া এবং তা বাস্তবায়ন করার মতো সক্ষমতা আমরা এখনো অর্জন করতে পারিনি। তাই সুনির্দিষ্ট কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারলে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রথমত, সড়ক-মহাসড়কে ধীরগতির গাড়ির সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলতে হবে। হুট করে লেগুনা, হিউম্যান হলার বন্ধ করার আগে বিকল্প যানের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যেসব জেলায় আঞ্চলিক ট্রান্সপোর্ট কমিটি (আরটিসি) নেই, সেসব জেলায় দ্রুত আরটিসি গঠন করতে হবে। তৃতীয়ত, এক বাস কম্পানির সঙ্গে অন্য বাস কম্পানির প্রতিযোগিতা বন্ধে ট্রিপের চুক্তিতে বাস পরিচালনা করা যাবে না। ড্রাইভারদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও ভাবতে হবে। চালকদের জন্য বিরতির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের নাম করে যাত্রীদের জিম্মি করার যে কালচার গড়ে উঠেছে, তা বন্ধ করা প্রয়োজন। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা মানতে সব বাস কম্পানিকে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় রুট পারমিট বাতিল করার পাশাপাশি বাস কম্পানিগুলোর লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। শহরের গুরত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাস স্টপেজ তৈরি করতে হবে। বাস যেন নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া যাত্রী না তোলে, সে ব্যাপারে রাখতে হবে সতর্ক দৃষ্টি। আমাদেরও সচেতন হতে হবে। চলন্ত অবস্থায় বাস থেকে নামা বা ওঠা যাবে না। এতে যেমন দুর্ঘটনা কমে আসবে তেমনি চালকদের বেপরোয়া ড্রাইভিংও বন্ধ হবে। প্রয়োজনে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আলাদা বাহিনী চালু করতে হবে। বিআরটিএর ঘুষবাণিজ্য শক্ত হাতে বন্ধ করতে হবে। ফিটনেসহীন গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে বাস কম্পানিগুলোকে নতুন গাড়ি রাস্তায় নামাতে বাধ্য করতে হবে। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অতি জরুরি। শৃঙ্খলা আনতে সবার সদিচ্ছা প্রয়োজন।

খালিদ জামান সেজান

শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মতামত- এর আরো খবর