English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ক্ষেত্র তৈরির পর ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত

  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ক প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে, পরে সংসদে পাঠানো হবে। তবে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি কমিশন। এ নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছে। আওয়ামী লীগ পক্ষে, বিএনপি বিপক্ষেরাজনৈতিক ঐকমত্য এখনো গড়ে ওঠেনি। ব্যাবহারিক দক্ষতা-সক্ষমতার অভাবও রয়েছে। ভোটাররাও এখনো প্রস্তুত নয়। তাই সব দিক বিবেচনা করেই জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা উচিত। প্রযুক্তিকে স্বাগত জানানো রুচি-বুদ্ধির লক্ষণ, তবে তাড়াহুড়ার কিছু নেই। অহেতুক বিরোধিতাও কাম্য নয়। ক্ষেত্র প্রস্তুত করে তবেই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠর পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

❏ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম প্রচলনের কথা হচ্ছে শুনে আমরা আনন্দিত। আধুনিক এ পদ্ধতিকে স্বাগত জানাই। ইভিএম পদ্ধতি চালু হলে আর ভোট চুরি, কারচুপি করার সুযোগ থাকবে না। যারা ভোট কারচুপি করে, জাল ভোট দেয়, তাদের চিরবিদায় ঘটবে। ভোটের সময় ব্যালটপেপার ছিনতাই আর সিল মারার ঘটনা সবাই জানে। তাই ইভিএম চালু হলে আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেবঅন্তত এ নিশ্চয়তা পাব। ইভিএম পদ্ধতিতে প্রতিটি আসনে ভোট নেওয়া হলে আমরা স্বচ্ছ নির্বাচনের নিশ্চয়তা পাব। এতে একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারবে না। স্বাগত জানাই ইভিএম পদ্ধতিকে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রায়বাহাদুর রোড, পিরোজপুর।

❏ এই মুহূর্তে ইভিএম ব্যবহার করার সক্ষমতা আমাদের আছে কি না, এটা খুব গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। সময় নিয়ে আরো ভেবেচিন্তে বিষয়টি প্রয়োগ করতে হবে। সার্বিক ঐকমত্যের বিষয়টিও খাটো করে দেখা যাবে না। ইভিএমের কারণে যেন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেটিও মাথায় রাখতে হবে।

ওমর ফারুক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

❏ দুই দলের মধ্যেই আস্থার সংকট অত্যন্ত প্রকট। প্রকৃত গণতন্ত্রের দেশে হার-জিত কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু আমাদের এখানে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। এ যেন বাঘের পিঠ থেকে নেমে যাওয়ার মতো। আমরা কি উন্নয়নশীল দেশ থেকে শিক্ষা নিতে পারি না? এই অগ্রসরতার যুগে আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব সত্য হয়, তাহলে ইভিএমে আপত্তি কোথায়? বরং এটা কারচুপি রুখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এখন তো ক্ষমতায় যাওয়া ও প্রভাব বিস্তারই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনাস্থাটা বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।

কাজী ফরিদ উদ্দিন আখতার

মাইজভাণ্ডার, চট্টগ্রাম।

❏ জাতীয় নির্বাচন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দেশ পরিচালনা ভালো কাজ। কিন্তু এখানে দুষ্টু লোক ঢুকে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। এটা কষ্টের। ইভিএম মেশিন কেনার জন্য প্রচুর টাকার দরকার। এগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দরকার দক্ষ জনশক্তি ও প্রশিক্ষণ। কিন্তু বর্তমানে তা নেই। এই অল্প সময়ে সেই প্রশিক্ষণ ও মানুষের মানসিক প্রস্তুতিও সম্ভব নয়।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

❏ ইভিএমের যারা বিরোধিতা করছে, তারা কী ধরনের সুধী, তা নিয়ে সংশয় আছে। শহরাঞ্চলে ইভিএম ব্যবহার করলে সেটি ভালো হবে বলে মনে করি। তবে এ জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নিতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোরা, পিরোজপুর।

❏ পৃথিবীর তুলনামূলক সব ভালো কাজে বাধা এসেছে, আগামীতেও আসবে। এটাই স্বাভাবিক। সঠিকভাবে জাতীয় কাজে প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের আপত্তি নেই। দরকার প্রশিক্ষিত জনবল। তা না হলে ব্যাংক লুটের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। প্রযুক্তি যেমন আশীর্বাদ, তেমনি বিপজ্জনকও। এ ক্ষেত্রে আমাদের সচেতন ও সততা দরকার। ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলের ভুল বোঝার কারণ আছে। তবে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সততা দেখাতে হবে, যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

❏ দেশের অর্ধেক মানুষ হতাশায় নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। নির্বাচনে ভোট দখলের জন্য নানা কৌশল ও চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। ইভিএম ব্যবহার এই সময়ে কতটা যৌক্তিক, তা আগে ভাবতে হবে। এটা বড় ধরনের খরচ ও প্রশিক্ষণের ব্যাপার। এটা অত সোজা বিষয় নয়। বিরোধী দল বলছে, গণতন্ত্রে হেরে গিয়ে যন্ত্রে মনোযোগী হয়েছে সরকার। আমরা বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।

শহিদুল মোড়ল

দাকোপ, খুলনা।

❏ একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন যেভাবে বিতর্কিত হয়ে পড়ছে তাতে দেশের মানুষের মনে নানা কৌতূহলের জন্ম দিচ্ছে। তড়িঘড়ি করে কেন হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ইভিএম আনতে হবে? নির্বাচনের স্বল্প সময় বাকি থাকতে এ প্রকল্প পাস করা দুর্নীতিকে আরো উসকে দেবে। ইভিএম কিনলে মিলবে কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য। নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নও জন্ম দিয়েছে ইভিএম পদ্ধতি। সব দলের অনুমোদন ছাড়া ইভিএম কেনা হলে তা জাতিকে একদিন কৈফিয়ত দিতে হবে।

মো. তাওহীদ সরদার নঈম

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

❏ হঠাৎ করে ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ সন্দেহজনক। এটা খুব পরিষ্কার যে সারা দেশে অথবা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে ইভিএমের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের ভোট নেওয়ার মতো কারিগরি জনবল ও পারস্পরিক বিশ্বাসের জায়গা এখনো দেশে তৈরি হয়নি। এটি খুব সহজেই নাকি হ্যাক করা যায়। নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে খুবই পরিষ্কারভাবে স্বপ্রণোদিত হয়ে জনগণের কাছে বিতর্কিত হওয়ার আরো একটি উপলক্ষ তৈরি করা হলো।

কাজী মো. কাইসার হামিদ

সোনালি আ/এ, হালিশহর, চট্টগ্রাম।

❏ নির্বাচনের আগে বা পরে ইলেকশন প্রশ্নবিদ্ধ হোক তা চাই না। যেকোনো নতুন ভালো পদ্ধতি চালু করতে গেলে সাহসিকতার সঙ্গে এগুলোর প্রয়োজন স্বীকার করি। আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বিষয়ে ইসিকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংসদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে কিছু করা ঠিক হবে না। সব রাজনৈতিক পক্ষের সুচিন্তিত গঠনমূলক মূল্যবান মতামত ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থের অনুকূল সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

❏ দুটি দিক বিবেচনা করে বলছি, ইভিএমে নির্বাচন করার সময় বাংলাদেশে এখনো হয়নি। এক. ইভিএম ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তি যথাযথভাবে ব্যবহারের যোগ্য মানুষের এখনো বড় অভাব বাংলাদেশে। তাই অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে ইভিএম তুলে দিলে নির্বাচন বিতর্কিত হবে। ইভিএম ব্যবহারের জন্য দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন জনবল আগে গড়ে তুলতে হবে। উপযুক্ত জনসম্পদ গড়ে না ওঠা পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হবে। তাড়াহুড়া ভালো নয়। অথচ ইভিএম নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়া করছে, যা মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। দুই. রাজনৈতিক আস্থা নেই আমাদের দেশে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নতুন কিছু করার আগে অবশ্যই পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা ও সম্মান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের আগে বিতর্কের এবং নির্বাচনের পরে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। বিতর্ক অবশ্য শুরু হয়ে গেছে। আশা করছি বিতর্ক সংঘাত পর্যন্ত না যাক। শেষ কথা, কিছু আসনে ইভিএমের প্রয়োগ হবে, কিছু আসনে হবে নাএটা কেমন সিদ্ধান্ত? দেশের জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সরকারকে সব দলের সমন্বয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং বিতর্কমুক্ত নির্বাচন উপহার দেওয়ার আহ্বান করছি।

আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের

কল্যাণপুর, ঢাকা।

❏ আগামী নির্বাচন দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ নির্বাচনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। যেকোনো মূল্যে এ নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সব সদস্যকেই একমত হয়ে সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং দায়িত্ব পালন করতে হবে। আগামী নির্বাচন বিতর্কের উর্ধ্বে রাখতে হলে নির্বাচন কমিশনকেও বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।

ইভিএম ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন কমিশন নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে বলেই মনে হয়। এই উদ্যোগ অন্তত এক বছর আগে নেওয়া উচিত ছিল। কারণ এত অল্প সময়ের মধ্যে দেশের এক-তৃতীয়াংশ ভোটারঅর্থাৎ প্রায় এক কোটিরও বেশি মানুষকে এবং নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহার নতুন জটিলতা ও বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে। ২০১০ সাল থেকেই সীমিত পরিসরে স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই ইভিএম সম্পর্কে এখনো জানে না। রাজনৈতিক দলগুলোও যন্ত্রটির সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়নি। প্রথমে স্থানীয় নির্বাচনে শতভাগ কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের কাছে যন্ত্রটির সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরা উচিত। সবাই যখন এর সুবিধা বুঝতে পারবে, তখন এ নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দেবে না।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

❏ বিশেষজ্ঞরা ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষ মত হিসেবে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধাচরণ, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি সরকারি সংস্থা হলেও বিনা দরপত্রে তাড়াহুড়ো করে তিন হাজার ৮২৯ কোটি টাকার ইভিএম তাদের কাছ থেকে না কেনা, আদালতে এতদসংক্রান্ত মামলার জোরালো সম্ভাবনা থাকা, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা, ভোটারদের অনভ্যস্ততা, সময়ের স্বল্পতা এবং সংশ্লিষ্টদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের চরম অভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অদ্যাবধি ইভিএম প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। এত সব বিরুদ্ধ মতকে উপেক্ষা করে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা ভাবতে হবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

❏ প্রদর্শন, ভোটিং শিক্ষা ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নির্বাচন কর্মকর্তারা কিছুদিন কাজ করলেই ভোটাররা ইভিএমে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার বাইরে অন্তত তিনজন করে কারিগরি কর্মকর্তা রাখতে হবে। কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোটগ্রহণে যেন সমস্যা না হয়; ভোটাররা যেন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ইসির সক্ষমতাই ইভিএমকে গ্রহণযোগ্যতা প্রদান করবে বলে মনে হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল এবং দ্রুত ফল ঘোষণার জন্য ইভিএম পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

❏ ইভিএমে ভোটগ্রহণের চেষ্টাকে নির্বাচন না করার ষড়যন্ত্রের অংশ মনে হয়। একটা বড় ধরনের ভজকট পাকিয়ে নির্বাচন বানচাল করা ছাড়া এই মুহূর্তে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। ইসির ভুলে যাওয়া উচিত নয়, গত ১০ বছরে এ দেশের মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেনি। ইভিএমে ভোট নেওয়া হলে তা মানুষের মনে অনেক ভীতি তৈরি করবে। কখন বিদ্যুৎ যাবে, কখন মেশিন হ্যাং করবে, তাও বলা যায় না। মানুষের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা, স্টিলের বাক্স না স্বচ্ছ বাক্সসেটাও বড় বিষয় নয়; বড় বিষয় হচ্ছে ভোট শুরুর আগেই যেন তা ভরে রাখা না হয়। মানুষ হতাশ হয় সে রকম কিছু ইসি করবে না, তা আশা করি। ইভিএম নয়, মানুষকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করুন এবং তাদের এ ব্যাপারে সাহসী ও উৎসাহী করে তুলুন।

আব্দুর রহমান

দক্ষিণ বিজয়পুর, গৌরনদী, বরিশাল।

❏ জনগণ ভোট সুষ্ঠুভাবে দেবে। জনগণ যেভাবে ভোট প্রদান করছে, সেই পদ্ধতি পরিবর্তন করে আধুনিক ও যুগোপযোগী পদ্ধতিতে ভোট প্রদান করবে। যান্ত্রিক যুগে এর প্রয়োজন আছে। ইভিএম তো জনগণের ভোট আটকায় না, বরং তারা সহজেই ভোট দিতে পারবে স্বল্প সময়ে। ক্ষমতাসীন দল ভোট চুরি করবে ইভিএম পদ্ধতি চালু হলে, যে পদ্ধতি চলে আসছে সেই পদ্ধতিতেও শুনে আসছি ভোট চুরির কথা। বিরোধী দলের কোনো কিছুর ওপর আস্থা নেই। আস্থাহীন বিরোধী দল এই প্রজাতন্ত্রের জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ইভিএম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা নেই। একবার শুরু হলে, তাদের এ সম্পর্কে ধারণা আসবে। কোনো জিনিস শুরু না করলে তার শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। ইভিএমের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে দেশের জন্য সম্মানের হবে। রকিবউদ্দীন কমিশন ইভিএম ব্যবহার বাতিল করে অনেক ইভিএম ধ্বংস করে দেয়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ইভিএমের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮২১ কোটি টাকা। জনগণের এ অর্থের যেন অপচয় না হয়, এটা সরকার তথা নির্বাচন কমিশনকে ভাবতে হবে। প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তিকে দূরে ঠেলে রাখা দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে না। জাতীয় পর্যায়ে ইভিএম ব্যবহার এখনো হয়নি। জাতীয় নির্বাচনে এর ব্যবহার নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতির প্রয়োজন আছে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

❏ ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দিলে আশা করা যায় জাল ভোট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এ জন্য চাই পোলিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিশেষ প্রশিক্ষণ। ভোটারদেরও বিভিন্ন মিডিয়ায় ভোট দেওয়ার পদ্ধতি জানিয়ে দিতে হবে, যাতে তারা নিজ হাতে ভোট দিতে পারে, অন্যের সাহায্যের আশা না করে। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, বেশির ভাগ ভোটার এখনো প্রযুক্তির ছোঁয়া পায়নি।

ডা. মো. আবদুল মোল্লা

মোল্লা সমাজসেবা সমিতি।

❏ ইভিএম ব্যবহারে অনেক সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি। প্রথমত, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় নেই ইসির হাতে। দ্বিতীয়ত, বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে। তৃতীয়ত, ভোটাররা এখনো ইভিএমে অভ্যস্ত হয়নি। বেশির ভাগ ভোটার যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার করতে পারবে না। তা ছাড়া আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাই তাহলে দেখব, জার্মানিতে ইভিএম অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করা হয়েছে। ভারতের ভোট চলাকালে যন্ত্রের ত্রুটির কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছিল। যন্ত্রের অগ্রগতির এ সময়ে আমিও চাই ইভিএম ব্যবহার করা হোক, যদি ইসি এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে।

মো. মিজানুর রহমান

পাংগা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।

❏ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে নির্বাচন কমিশন এখন জাতীয় নির্বাচনে তা ব্যবহার করতে চাইছে। কমিশন প্রায় দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের এমন উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত বছর নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপ করেছে, তাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং কয়েকটি দল ছাড়া বেশির ভাগ দলই ইভিএমের বিরোধিতা করেছিল। তখন কমিশন জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার কথা বলেছিল। নির্বাচনের বাকি আর তিন মাসেরও কম সময় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে কমিশনের উদ্যোগ নিয়ে বিরোধী দল বিএনপি সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই আশা করছি।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

❏ নির্বাচন কমিশন বলেছে, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের আইন আছে, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহারের আইন নেই। এ জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনবিষয়ক আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ সংশোধন করে ইভিএম বিষয়ক ধারা সংযোজন করতে হবে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে অনেক রাজনৈতিক দল বিপক্ষে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য হবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জনগণকে উপহার দেওয়া। সব ভোটার যাতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা উচিত। জাতীয় নির্বাচন হোক স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ, সেটিই বাংলার মানুষের আশা।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

❏ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতির প্রচলন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দুটিই চলছে। প্রথমত, ইভিএম একটি যান্ত্রিক পদ্ধতি। বিশ্বের কিছু দেশে ইভিএমে ভোটগ্রহণের প্রচলন আছে। আমাদের দেশে সিটি নির্বাচনসহ বেশ কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে ইভিএমে যান্ত্রিক কারণে কারচুপির শঙ্কা থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও হল্যান্ডে ইভিএমে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে আমাদের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারে সম্মত নয়। এটি একটি জটিল পদ্ধতি। আমাদের দেশে এর ব্যবহার বিষয়ে দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। সাধারণ ভোটারদের এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা নেই। সব দল ও সুধীসমাজ যদি ঐকমত্য পোষণ করে, তাহলে কিছু আসনে ইভিএম ব্যবহার করা যেতে পারে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

❏ ভোটের স্বচ্ছতার প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ভোটার আইডি কার্ড, স্মার্ট কার্ড প্রবর্তন করেছে। ভোটার আইডির ব্যাপারে বিএনপির নেতিবাচক ভূমিকা ছিল। কিন্তু জনগণ এ কার্ডের সুফল পাচ্ছে। ইভিএমও আওয়ামী লীগের নতুন ভাবনা। পরীক্ষামূলকভাবে এর আংশিক ব্যবহার হয়েছে। দেখা গেছে, এটি দ্রুত ভোটগ্রহণ ও গণনায় ভূমিকা রেখেছে; এ নিয়ে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশ আসনে ইভিএম ব্যবহারের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপি বলছে, এতে ডিজিটাল জালিয়াতির আশঙ্কা আছে। এটা তাদের ভ্রান্ত ধারণা। যদি যথাযথভাবে নির্বাচন পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাহলে ইভিএম চালু করা সহজতর হবে। রেডিও-টিভিতে ব্যাপক প্রচারণা দরকার। তাহলে জনগণও বিষয়টি রপ্ত করে নিতে পারবে। ভ্রান্ত ধারণাও বদলাবে এবং আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুন্দর হবে।

মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

❏ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সম্পর্কে দেশের বেশির ভাগ মানুষের কোনো ধারণা নেই। এ ব্যাপারে জনগণকে শিক্ষিত করে তোলা প্রয়োজন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র চার মাস বাকি আছে। এত অল্প সময়ে সারা দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়। এটি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন। তবে ভবিষ্যতে ইভিএমের প্রচলন হবে। এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হলে কারচুপির সুযোগ বন্ধ হবে। নির্বাচন কমিশন এ বছরই ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নিতে চাচ্ছে। এর অর্থ জনগণের বোধগম্য নয়। এটা করতে হলে তিন লাখ মেশিনের দরকার হবে। নির্বাচন কমিশনের যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে জনগণের আপত্তি করার কিছু নেই। যা করলে জনগণের অর্থের অপচয় হবে না, তা-ই নির্বাচন কমিশন করবেএ আশা আমরা সবাই করব। যে নেতারা কারচুপি করে জিততে চান শুধু তাঁরাই ইভিএমের বিরোধিতা করবেন।

আবদুল খালেক

দাসপাড়া, নরসিংদী সদর।

মতামত- এর আরো খবর