English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সৌজন্যবোধের চর্চা

  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

দয়া, ক্ষমা, বিনয়, সরলতা, শিষ্টাচার, সাধুতা, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মসংযম ইত্যাদি সদ্গুণ শুধু মানুষের ভেতরে পরিলক্ষিত হয়, অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে তেমনভাবে নয়। এ জন্য মানুষ অন্য সব সৃষ্টি থেকে আলাদা। মানুষের এত গুণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধ। শিষ্টাচার মানবজীবনের অলংকার। সুন্দর আদব-কায়দা প্রত্যেক মানুষের অমূল্য সম্পদ। জীবনকে সঠিক ও যথার্থভাবে বিকশিত ও উপভোগ্য করার জন্য শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধের বিকল্প নেই। যার মধ্যে শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধ রয়েছে সে নিজেকে অন্যের কাছে আকর্ষণীয় ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারে। সমাজে প্রতিনিয়ত আমাদের নানা ধরনের মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। শিষ্টাচারের মাধ্যমে পারস্পরিক আচরণে সুষ্ঠু রুচিবোধ, ভদ্রতা, নম্রতা ইত্যাদি প্রকাশ পেলে মানবিক সম্পর্ক সুন্দর ও নিবিড় হয়ে ওঠে। এ জন্য মানবজীবনে শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় অনেক স্থানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও বিক্ষুব্ধ প্রতিযোগিতার মনোভাব এবং ক্ষমতা ও দায়িত্বের গর্বে গর্বিত হয়ে কেউ কাউকে সুচোখে দেখতে চায় না। কে কাকে কিভাবে কতটা খাটো করতে পারে তার চেষ্টা চলে। অনেক সময় নিজ গোত্রের ভেতরেও দেখা যায় নানা রেষারেষি ও দ্বন্দ্ব। এর পেছনে কাজ করে শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধের অভাব। কেউ কাউকে সম্মান দিতে রাজি নয়। কেউ কাউকে সুযোগ বা ছাড় দিতে রাজি নয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই শিষ্টাচার আর সৌজন্যবোধের সঙ্গে তোষামোদকে জড়িয়ে ফেলে। গুরুজনরা বলেন, প্রকৃত মানুষের পরিচয় তার চমৎকার আচার-আচরণ, নম্র-বিনয়ী ব্যবহার, সৌজন্যবোধে এবং ভদ্রতায়। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসন আমাদের সমাজজীবনকে পীড়িত করে চলছে। এই সংকট থেকে উদ্ধার পেতে আমাদের প্রয়োজন শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধের চর্চা করা।

এস আর শানু খান, যশোর।

চিঠিপত্র- এর আরো খবর