English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

বৃদ্ধাশ্রম চাই না

  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বৃদ্ধাশ্রম বলতে আমরা বুঝি বৃদ্ধদের আবাসস্থল। বৃদ্ধাশ্রমের উৎপত্তি হয়েছিল মূলত গরিব, দুস্থ, সহায়সম্বলহীন, সন্তানহারা বৃদ্ধদের শেষ জীবনে বিশেষ সেবা প্রদান করার জন্য। কিন্তু বর্তমান বৃদ্ধাশ্রমগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। একসময় যে মানুষদের ছাড়া একমুহূর্তও থাকতে পারতাম না, যাঁরা মুখে খাবার তুলে না দিলে সেদিন আর খাওয়া হতো না আমাদের, জীবনের সবচেয়ে দামি বস্তু বলতে যাঁরা আমাদেরই জানতেন, নিজেদের আরাম হারাম করে আমাদের মানুষ করেছেন, সেই মা-বাবার শেষ বয়সের ঠিকানা এখনকার বৃদ্ধাশ্রমগুলো। আমরা উন্নত ও শিক্ষিত হচ্ছি, সভ্য হচ্ছি; কিন্তু ভুলে যাচ্ছি আমাদের অতীত ও শিকড়কে। একসময় যে মানুষরা ছিলেন আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল, যাঁদের অস্তিত্ব ছাড়া আমাদের বেড়ে ওঠা ছিল অসম্ভব, আজ তাঁদের শেষ আশ্রয়স্থল আমরা হই না, হতে চাইও না। তাঁদের শেষ আশ্রয়স্থল হলো বৃদ্ধাশ্রম। পত্রিকার পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায় বৃদ্ধাশ্রম থেকে বৃদ্ধ মা-বাবার চিঠি তাঁর ব্যস্ত সন্তানদের কাছে। আবেগ-অভিমানের চিঠি পড়লে চোখে জল এসে যায়। আমরা বৃদ্ধ মা-বাবাকে অবহেলা করছি, তাঁদের বোঝা মনে করছি, বৃদ্ধাশ্রমে তাঁদের ফেলে রেখেছি। আমরাও একসময় শিশু ছিলাম। আমরা তো কখনো তাঁদের কাছে বোঝা হয়ে ছিলাম না। বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবা শিশুদের মতো হয়ে যান। শিশুসুলভ আচরণ করেন। তাঁরা যেমন করে আমাদের শৈশব থেকে শুরু করে ত্যাগ স্বীকার করে আমাদের মানুষ করেছেন, আমাদেরও কর্তব্য সেই মানুষগুলোকে জীবনের শেষ সময়টুকুতে বৃদ্ধাশ্রম নামক কারাগারে না রেখে নিজের কাছেই রাখা। আমরাও একদিন বৃদ্ধ হব। আমরা যদি আমাদের বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসি, আমাদের সন্তানরাও হয়তো একদিন আমাদের বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসবে। আমাদের উচিত বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রম নয়, কাছে রাখা এবং তাঁদের ভালোবাসা দেওয়া। বৃদ্ধাশ্রম নয়, নিজ আবাসস্থলই হোক মা-বাবার আশ্রয়স্থল।

রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

চিঠিপত্র- এর আরো খবর