English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

মাদকের বিস্তার রোধ করুন

  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

আমাদের সন্তানরা দিনকে দিন ঢুকে পড়ছে মাদকের মরণফাঁদে। তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে নিজেদের। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাদকাসক্তদের মধ্যে ৯৮ শতাংশই ধূমপায়ী। ধূমপান থেকেই মাদকের হাতেখড়ি ঘটে। মাদকাসক্তি বলতে মানুষের মেজাজ ও মানসিকতায় পরিবর্তন সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ধরনের মাদক, যেমনইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিলের প্রতি আসক্ত হওয়াকে বোঝায়। এসব সেবনের পরে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক নিওরোট্রান্সমিটার বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্যক্তি আবার গ্রহণ করতে উৎসাহিত হয় এবং ধীরে ধীরে তা বদভ্যাসে পরিণত হয়। এই আসক্তি তখনই জন্মে, যখন মাদক সহজলভ্য থাকে কিংবা আশপাশে কাউকে সেবন করতে দেখা যায়। কঠোর নীতি ও জনসচেতনতাই পারে আমাদের সন্তানকে মাদক থেকে দূরে রাখতে। মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে দেরি হলেও সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান কর্মসূচি কিছুটা হলেও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকের মনে ভীতি তৈরি করতে পেরেছে। মাদকের ভয়াবহতা থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিভিন্ন দেশে মাদক নির্মূল করার জন্য অভিনব কিছু কর্মসূচি আছে। যেমনজাপানে ধূমপানমুক্ত সপ্তাহ পালন করা হয়। ফিনল্যান্ডে ছেড়ে দাও জয় করো নামক এক অভিনব আকর্ষণীয় পন্থা আছে। যেখানে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে মাদক বর্জন করলে টাকা দেওয়া হয়। এতে অভাবনীয় সাড়াও পরিলক্ষিত হয়। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান কর্মসূচিতে জোগানদাতা ধ্বংস হলেও চাহিদা থেকে যাবে। এই কর্মসূচি কতটা সফল তা সময়ই বলে দেবে। তবে আমাদের দেশে অনেক মাদক নির্মূলকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। যদি সরকার দেশে মাদকবিরোধী বিভিন্ন পন্থা গ্রহণ করে ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা যায় তাহলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

হিমু চন্দ্র শীল

কক্সবাজার সরকারি কলেজ, কক্সবাজার।

চিঠিপত্র- এর আরো খবর