English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

জেনেভায় উদ্বেগের জবাবে বাংলাদেশ

দেশ অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেবে না সরকার

সুযোগসন্ধানীরা ছাত্র আন্দোলনে ঢুকে পড়ে

  • মেহেদী হাসান   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ। বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্ল্যাশেলেটের প্রতিবেদন নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার আলোচনার সময় তারা ওই উদ্বেগ জানায়। মিশেল ব্ল্যাশেলেট গত সোমবার তাঁর প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে সহিংসতা এবং

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ জনেরও বেশি ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবরে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তবে এর প্রতিক্রিয়ায় সরকারের উদ্যোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেনেভায় জাতিসংঘের দপ্তরগুলোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম শামীম আহসান। তিনি বলেন, সরকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালাতে দেবে এবং ছাত্রদের যৌক্তিক সব দাবি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু জননিরাপত্তা ব্যাহত করে এমন সহিংসতা, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগে গতকাল দুপুরে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে আলোচনার সময় যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত জুলিয়ান ব্রেইদওয়েট বলেন, আমরা বাংলাদেশে মত প্রকাশে স্বাধীনতায় বিধিনিষেধসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে উদ্বিগ্ন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সহযোগিতাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে বাংলাদেশকে ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউয়ে (ইউপিআর) তার অঙ্গীকারগুলো পূরণে আহ্বান জানাই। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিও সরাসরি বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শামীম আহসান গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর নির্ধারিত বক্তব্যে মানবাধিকার পরিষদকে বলেন, দুঃখজনকভাবে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ এখানে বলা হয়েছে। ওই আন্দোলন ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। এমনকি তাতে সরকারেরও সমর্থন ছিল। সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ তাদের দাবি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং পরিবহনবিষয়ক নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। মানবাধিকার পরিষদের পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের জন্য সময় নির্ধারিত ছিল দেড় মিনিট। ওই পুরো সময়টিই তাঁকে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খণ্ডন করতে হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলার মতো সময় তিনি পাননি। তবে লিখিত বক্তব্যে তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই আন্দোলন প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানীরা ওই আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করার পর তা সহিংস হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ছবি ব্যবহারের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিভ্রান্ত করে সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করতে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, নামকরা একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ থাকায় সরকারকে এ ব্যাপারে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে হতাহত হওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাময়িকভাবে মাদকবিরোধী কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাদক কারবারিদের সশস্ত্র প্রতিরোধের কারণে কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্য যেকোনো অভিযোগ তদন্তের ব্যাপারে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

রোহিঙ্গা ইস্যু : গতকালও জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনের আলোচনায় বেশ কয়েকটি দেশ রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের বিচারের তাগিদ দিয়েছে। তবে মিয়ানমারের প্রতিনিধি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেন, জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন রাখাইন রাজ্য ও পুরো মিয়ানমারে আন্ত সম্প্রদায় অবিশ্বাস সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছুই করবে না। প্রতিবেদনটি আগামী মঙ্গলবার মানবাধিকার পরিষদে উঠছে। সেদিন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

অন্যদিকে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর গতকাল মিয়ানমারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, দেশটিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গতকাল জেনেভায় আলোচনা পর্বে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে পাকিস্তান মানবাধিকার পরিষদকে জানায়, বর্তমানে বিশ্বে শরণার্থী গ্রহণকারী ও আশ্রয়দাতা সব রাষ্ট্রই ওআইসি সদস্য। ওআইসির দেশগুলোর ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

ইউরোপীয় রাষ্ট্র লিখটেনস্টেইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভেনিয়া ও ইতালি রোহিঙ্গা নিপীড়নের নিন্দা করলেও চীন ও রাশিয়া পুরনো অবস্থান ব্যক্ত করেছে। গতকাল তারা আবারও বলেছে, মানবাধিকারের নামে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী। চীন যুক্তি দেখায়, মানবাধিকারের নামে সরব অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির মতো ইউরোপীয় দেশগুলো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।

শেষের পাতা- এর আরো খবর