English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

আবারও ইভিএম!

আজ পরিকল্পনা কমিশনে বৈঠক

  • আরিফুর রহমান   
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

আবার সক্রিয় হচ্ছে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রকল্পটি। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠকের জন্য ২৪ ঘণ্টারও কম সময় দিয়ে পরিকল্পনা কমিশন থেকে গতকাল সোমবার একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব দিলোয়ার বখেতর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ইভিএম ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার প্রকল্প নিয়ে পিইসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে নির্বাচন কমিশন, অর্থ বিভাগ, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি), বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগসহ (আইএমইডি) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের থাকতে বলা হয়েছে। বিমসটেক সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে গত ১ সেপ্টেম্বর গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তাড়াহুড়া করে ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

গত ১৯ আগস্ট প্রকল্পটির ওপর পিইসি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ওই দিনের বৈঠকটি স্থগিত করে দেয় পরিকল্পনা কমিশন। গতকাল দিনভর ইভিএম ব্যবহারের প্রকল্পটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) নজরুল ইসলাম সরকারসহ ওই শাখার কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

গতকাল এ প্রতিবেদক পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব দিলোয়ার বখেতর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। পরিকল্পনা কমিশনের উপপ্রধান বোরহানুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈঠক হলে জানতে পারবেন। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য নেওয়া প্রকল্পটি প্রথম নির্বাচন কমিশন থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয় গত ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার। দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির পর ১৯ আগস্ট রবিবার প্রকল্পটির ওপর আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকে কমিশন। কিন্তু ওই দিন সকালেই অনিবার্য কারণ দেখিয়ে বৈঠকটি স্থগিত করে দেওয়া হয়। সবাই অপেক্ষা করছিল সরকারের নীতিনির্ধারক থেকে কী ধরনের বক্তব্য আসে। গত ১ সেপ্টেম্বর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, ইভিএম নিয়ে আসার জন্য আমি সব সময় পক্ষেই ছিলাম, এখনো আছি। তবে এটাও ঠিক, এটা তাড়াহুড়া করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ একটা প্র্যাকটিসের ব্যাপার আছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পরদিন সোমবার গণমাধ্যমে জানান, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করার পর নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমি ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে, তবে ইভিএমের ব্যবহার এখনই নয়; ধীরে ধীরে হওয়া উচিত। ইভিএম কেনা সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এসংক্রান্ত একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে এসেছে। কিন্তু প্রকল্পটির ওপর এখনো পিইসি বৈঠক হয়নি। একনেক সভায় ওঠানোর আলোচনাও হয়নি। তিনি বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন থেকে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। কিভাবে ইভিএম ব্যবহার হবে, সে বিষয়ে কমিশন জানতে চেয়েছে। এ বিষয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইভিএম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনিও বলেছেন, ধীরে ধীরে ইভিএম ব্যবহার করতে। এ জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে প্রকল্পটি একনেক সভায় পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি মিললে এই মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি একনেক সভায় উঠানো হতে পারে।

অবশ্য পরিকল্পনা কমিশন বলছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির ওপর কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। ২০১৬ সালে অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন পদ্ধতি নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা আছে, ২৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে কোনো প্রকল্প নেওয়া হলে সে প্রকল্পে সম্ভাব্যতা যাচাই করা আবশ্যক। প্রকল্পটি আদৌ দেশের জন্য ভালো হবে কি না, কতটুকু সুফল বয়ে আনবেএসব জানতে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা জরুরি। কিন্তু ইভিএম প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া প্রকল্পটি কেন পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলো, তাও জানতে চাওয়া হতে পারে আজকের বৈঠকে।

শেষের পাতা- এর আরো খবর