English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কুড়িগ্রাম

চারটি আসনই আমরা চাই

জাফর আলী
সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ

  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

কালের কণ্ঠ : আপনাদের দলীয় নির্বাচনী প্রস্তুতি কেমন?

জাফর আলী : কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে কমিটি গঠন ও সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম প্রায় শেষ। এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দলের সদস্য হতে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখে আমরা অভিভূত। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি অন্যবারের চেয়ে ভালো।

কালের কণ্ঠ : তার মানে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বেড়েছে?

জাফর আলী : অবশ্যই। দেশে জঙ্গিবাদ নেই। সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি নেই। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মানুষ শান্তিতে বাস করছে। আর দেশের অন্যান্য এলাকার মতো কুড়িগ্রামেও ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় মানুষের কাছে আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

কালের কণ্ঠ : জাতীয় পার্টির কারণে আপনাদের বারবার আসন ছেড়ে দিতে হয়। জেলার চারটি আসনে আপনাদের দলের কোনো এমপি তো নেই।

জাফর আলী : জাতীয় পার্টির অবস্থা তো অত্যন্ত নাজুক। কুড়িগ্রাম-১ আসনে আওয়ামী লীগ সহযোগিতা না করলে গত নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি হতো। কুড়িগ্রাম-২ আসনে নবম সংসদের উপনির্বাচনে জাপা প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। আর দশম সংসদে আমরা কেন্দ্রের নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বিরোধী দলের প্রয়াত চিফ হুইপ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনেও জাপার জনপ্রিয়তা কমার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাপা-বিএনপি কেউ প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না। কুড়িগ্রামের চারটি আসনই এবার আমরা চাই।

কালের কণ্ঠ : তার মানে এই চারটি আসনে বিএনপি-জামায়াত কোনো ফ্যাক্টর না?

জাফর আলী : না, কোনো ফ্যাক্টর না। আর সাংগঠনিকভাবে বিএনপির অবস্থা খুবই নাজুক। তাদের কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।

কালের কণ্ঠ : বিএনপির অভিযোগ, তাদের জনসংযোগে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ বাধা দিচ্ছে।

জাফর আলী : না, এ ধরনের কোনো অভিযোগ শুনিনি। বরং বিএনপি নেতাদের অনেকের বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে। মাঠেও তাঁরা কাজ করছেন।

কালের কণ্ঠ : জাতীয় পার্টি দুর্বল হলেও প্রতিবছরই তো নতুন প্রার্থী হাজির করে আপনাদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নেয়।

জাফর আলী : জাপার কেন্দ্রীয় নেতারাও এক সিটে দুইবার নির্বাচন করতে সাহস পান না। কাজেই বোঝা যায়, তাঁদের জনপ্রিয়তা কেমন।

কালের কণ্ঠ : তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন, আওয়ামী লীগের ওপর ভর করে জাপার নেতারা এমপি নির্বাচিত হচ্ছেন? কিন্তু এ অবস্থায় আপনাদের দল কি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না?

জাফর আলী : অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা বারবার আসন ছাড় দিচ্ছি।

কালের কণ্ঠ : জেলায় সরকারদলীয় এমপি না থাকায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি?

জাফর আলী : সমস্যা তো হচ্ছেই। জাতীয় পার্টির এমপিরা সংসদে কথা বলেন না। এলাকার উন্নয়নের জন্য কোনো দাবিও আদায় করতে পারেন না। কুড়িগ্রামে যা কিছু উন্নয়ন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে হচ্ছে। এখানে এমপিদের কোনো ভূমিকা নেই।

কালের কণ্ঠ : গ্যাস সংযোগ, আন্ত নগর ট্রেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়, দুধকুমার নদে সেতুসহ কুড়িগ্রামের উন্নয়নে অনেক জনদাবি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও গতি পাচ্ছে না। এটা কি সরকারদলীয় এমপি না থাকার কারণে?

জাফর আলী : অবশ্যই। ঢাকায় থাকলে অনেক তদবির ও যোগাযোগ করা যায়। এখানে থেকে তো হয় না। আমাদের দলের এমপি না থাকায় উন্নয়নবঞ্চিত হচ্ছে এই জেলার জনগণ।

কালের কণ্ঠ : মহাজোটের আসন ভাগাভাগিতে এবার কি আপনারা কোনো আসন পাবেন? নাকি গতবারের মতো অবস্থা হবে?

জাফর আলী : বৃহত্তর রংপুরের অন্যান্য জেলায় আওয়ামী লীগের এমপি আছেন। জাপা ও আওয়ামী লীগের মধ্যে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতাও হয়। কিন্তু গত নির্বাচনে কুড়িগ্রামে সেটা হয়নি। এবার আশা করছি সদর আসনসহ চারটি আসন আমাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। কারণ মাঠের অবস্থা দেখে বোঝা যায়, জাপার প্রার্থীরা ভালো করতে পারবেন না। এতে আমাদের মহাজোট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লাভবান হবে বিএনপি-জামায়াত।

কালের কণ্ঠ : দলীয় কোন্দল কি নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে?

জাফর আলী : কুড়িগ্রামে বর্তমানে কোনো কোন্দল নেই। প্রতিযোগিতা আছে। মনোনয়ন অনেকেই চান। এটা রীতি। পান একজন। অন্যরা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচন এলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

শেষের পাতা- এর আরো খবর